উপকূলীয় প্রকল্প বাস্তবায়নে পর্যবেক্ষণ বাড়াতে হবে : রফিকুল

Planning Commission

Planning Commission logo-050213-main‘দেশে উপকূলীয় সম্পৃক্ত প্রায় ২০০টি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। কিন্তু পর্যাপ্ত মনিটরিং না থাকায় প্রকল্পের কাজ গতি পাচ্ছে না। নিয়মিতভাবে উপকূলীয় এলাকার প্রকল্পগুলোত পর্যবেক্ষণ বাড়াতে হবে’ বললেন, সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) প্রধান রফিকুল ইসলাম।

সোমবার পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাস্তবায়নাধীন ‘কমিউনিটি বেইজড এডাপটেশন টু ক্লাইমেট চেঞ্জ থ্রু এ ফরেস্টেশন ইন বাংলাদেশ (সিবিএসিসি-সিএফ) প্রকল্পের উদ্যোগে ‘ক্লাইমেট রিসাইলেন্ট অ্যাডাপটেশন মেজার্স অ্যান্ড পলিসি রিকমেনডেশন’ শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠানের সদস্য উজ্জ্বল বিকাশ দত্ত এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব অপরূপ চৌধুরি। কর্মশালাটিতে সভাপতিত্ব করেন পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের প্রধান রোকেয়া বেগম।

কর্মশালায় বক্তারা বলেন, উপকূলীয় প্রকল্পের মাধ্যমে বর্তমানে উপকূলীয় এলাকায় ভূমি ব্যবহারের সংশ্লিষ্ট জাতীয় আইন ও বিধির প্রয়োজনীয় পরিবর্তন নেই। জনগোষ্ঠীভিত্তিক জলবায়ুর ঝুঁকিসহিঞ্চু জীবিকা কার্য‌ক্রম বাস্তবায়নের জন্য বর্তমানে পরিবেশ, বন, ভূমি এবং উপকূলীয় অঞ্চল নীতিমালাগুলোকেও পর্যা‌লোচনা করা হচ্ছে না। যে কারণে উপকূলীয় এলাকায় বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পগুলো গতি হারাচ্ছে।

বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মিহির কান্তি মজুমদার বলেন, ‘উপকূলীয় এলাকায় বনায়ন করতে হবে। এর জন্য বিশেষ আইন তৈরি করতে হবে।

যখন প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হানে তখনই কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়েন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া উপকূলীয় প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য আলাদা কোনো নীতিমালা নেই বলে জানান বক্তারা।

‘কমিউনিটি বেইজড এডাপটেশন টু ক্লাইমেট চেনজ থ্রু এফরেস্টেশন ইন বাংলাদেশ (সিবিএসিসি-সিএফ) এর অধীনে অনুন্নয়নশীল দেশসমূহের জলবায়ু তহবিলের মাধ্যমে গ্লোবাল এনভায়রনমেন্টাল ফ্যাসিলিটি (জিইএফ), জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি), বাংলাদেশ সরকার, সুইজারল্যান্ডের দাতা সংস্থা (এসডিসি) এবং নেদারল্যান্ড দূতাবাসের আর্থিক সহায়তায় উপকূলীয় ৪টি জেলায় (বরগুনা, নোয়াখালী, ভোলা ও চট্টগাম) ২০১০ সাল থেকে প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়ে আসছে।

বনবিভাগ, বনগবেষণা ইনস্টিটিউট, কৃষি সম্প্রসারণ, মৎস ও প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তর এ প্রকল্পের মাধ্যমে ৩ বছর ধরে উপকূলীয় ভূমির সঠিক ব্যবহার, জলবায়ুসহিষ্ণু উন্নত প্রযুক্তি প্রয়োগ এবং জনগোষ্ঠীর দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য যথাযথ ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ প্রদান করে আসছে।

প্রকল্পের আওতায় এ পযর্ন্ত ৮ হাজার ৬৫০ হেক্টর ম্যানগ্রোভ বাগান স্থাপন করা হয়েছে। যার মাধ্যমে ৮ লাখ মানুষের জন্য দুর্যোগ প্রতিরোধের পাশাপাশি টেকসই সবুজ বেস্টনি রক্ষায় ভূমিকা রেখেছে।

প্রকল্পটি সুফল হিসেবে প্রতি বছর ৮৬৫ হাজার টন বায়ুমণ্ডলীয় কার্বনকে উদ্ভিদ শোষণ করতে সক্ষম হবে।

এছাড়া জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য ৯৭৪ জন সরকারি কর্মকর্তা, বেসরকারি সংস্থাসমূহের প্রতিনিধি এবং মহিলা প্রতিনিধিদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। উপকূলীয় এলাকায় বসবাসরত ১৬ হাজার ৭৪০টি পরিবারকে জলবায়ুর সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর জন্য উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

প্রকল্পের আওতায় ৪টি উপকূলীয় জেলার মধ্যে ৩টি জেলার মোট ১১২ হেক্টর সরকারি ভূমি ৮৯৬টি পরিবারকে বিশেষ পদ্ধতিতে উপকূলীয় ভূমি ব্যবহার করে বছরে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা আয় করেছে। প্রকল্পের আওতায় ৪টি উপকূলীয় জেলায় প্রথম বারের মতো পতিত জমির ব্যবহারের জন্য লবণাক্ত সহিষ্ণু এবং অধিক ফলনশীল ধানের প্রজাতি বিরি ৪৭ চাষ করা হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলার জন্য খসড়া ৪টি সুপারিশমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।

যার মাধ্যমে জাতীয় জলবায়ু পরিবর্তন শীর্ষক নীতিমালার যথার্থ প্রতিফলন হবে।

এছাড়া কর্মশালায় সারাদেশ থেকে কৃষি, মৎস্য, প্রাণী, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন।

কবির/ এআর