কমানো হয়েছে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা

আবুল মাল আব্দুল মুহিত

muhit_finance_ministerচলতি ২০১৩-১৪ অর্থবছরে দেশের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৭ দশমিক দুই শতাংশ। ২০১৩ সালের জুলাই মাসে ঘোষিত বাজেটে প্রবৃদ্ধির এই লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলে সে সময় থেকে দেশে বিদেশে এটা নিয়ে বেশ সমালোচনা হয়। বিভন্ন সংস্থা ও সংগঠনের পক্ষ থেকে ওই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব নয় বলে বলা হয়। তবে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত এতদিন বেশ দৃঢ়তার সাথে বলে আসছিলেন খুব সহজেই প্রবৃদ্ধির এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।

তবে অর্থবছরের শেষার্ধে এসে ফাটল ধরেছে অর্থমন্ত্রীর দৃঢ়তায়। তাই চলতি অর্থবছরের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা কমিয়েছেন তিনি। তিনি জানিয়েছেন প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৭ দশমিক ২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৬ দশমিক ৩ শতাংশ  করা হয়েছে। আজ সোমবার আন্তমন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকে প্রবৃদ্ধি কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলেও জানান মন্ত্রী।

প্রসঙ্গত জুলাই মাসে চলতি বছরের বাজেট ঘোষণার পর বিশ্ব ব্যাংক, এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংকসহ(এডিবি) বেশ কিছু সংস্থা  প্রবৃদ্ধির ঘোষিত হার (৭.২ শতাংশ) অর্জন করা সম্ভব হবে না বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে।

গত ২ অক্টোবর এডিবি এক প্রতিবেদনে জানায়, নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশে সংঘাতময় রাজনীতি দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করতে পারে। এডিবি মনে করছে, এই পরিস্থিতিতে রাজস্ব আদায়  ও বিদেশি সহায়তাও কমে যেতে পারে।

সংস্থাটি আশঙ্কা প্রকাশ করে জানায়, কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি কিছুটা বাড়লেও শিল্প খাতে আগের প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা কঠিন হবে।

আর এ সকল কারণে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হতে পারে বলে পূর্বাভাষ দেয় সংস্থাটি।

এর পর গত ১৫ জানুয়ারি বিশ্ব ব্যাংকও এডিবির মতো বলে চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশ কাঙ্খিত  প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারবে না।সংস্থাটির হিসেবে আলোচ্য সময়ে দেশের প্রবৃদ্ধি হার হবে ৫ দশমিক ৭ শতাংশ।

শুধু তাই নয়, গ্লোবাল ইকনোমিক প্রসপেক্টস শিরোনামের প্রতিবেদনে আগামি দুই বছরেও বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হার ৭ শতাংশ ছুঁতে পারবে না বলে বলা হয়। তারা মনে করছে, আগামি দুই বছরে যথাক্রমে ৬ দশিমক ১ ও ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে। তবে ওই প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, এ বছর বিশ্ব অর্থনীতি তার মন্দাদশা কাটিয়ে উঠতে পারে। ইউরোপ ও আমেরিকার মত উন্নত অর্থনীতিও ঘুরে দাঁড়াতে পারে।

ধারণা করা হচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কাঙ্খিত রাজস্ব আয় করতে না পারা, নির্বাচন পূর্ব সহিংসতা,হরতাল,অবরোধে দেশের অর্থনীতিতে টানা স্থবিরতার কারণে শেষ পর্যন্ত অর্থমন্ত্রী বুঝতে পেরেছেন যে ঘোষিত প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব নয়। আর তাই হয়তো তিনি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৭ দশমিক ২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৬ দশমিক ৩ শতাংশ করেছেন।