মন্ত্রী-এমপিদের সম্পদ অনুসন্ধানে দুদক বিব্রত নয়

dudok-sangsad

dudok-sangsadদশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া মন্ত্রী-এমপিদের হলফ নামায় দেওয়া সম্পদ বিবরণী এবং তাদের সম্পদের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির বিষয়টি অনুসন্ধানে বিব্রত নয় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রার্থীদের হলফ নামা যাচাই বাছাই শেষে শিগগিরই অনুসন্ধান শুরু হবে।

সোমবার রাজধানীর সেগুন বাগিচার দুদকের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত মাসিক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান দুদক সচিব মো. ফয়জুর রহমান।

দুদক সচিব বলেন, মন্ত্রী-এমপিদের হলফ নামায় দেওয়া সম্পদ বিররণীর যে তথ্য রয়েছে তা তাদের বৈধ সম্পত্তি। তবে সম্পদের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির বিষয়ে পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্যের আলোকে যাচাই বাছাই শেষে আমাদের নিজস্ব প্রক্রিয়ায় অনুসন্ধান করা হবে। দুদক ইতোমধ্যে বেশ কয়েক জনের হলফ নামা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেছে। শিগগিরই কমিটি গঠন করে অনুসন্ধানে নামা হবে।

তিনি আরও বলেন, মন্ত্রী-এমপিদের সম্পদের অনুসন্ধানের সময় অন্যান্য সাধারণ ব্যক্তিদের মতোই পদ্ধতি গ্রহণ করা হবে। তাদের ক্ষেত্রে আলাদা কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। তাদের সম্পদের সাথে সাথে তাদের স্ত্রী-পুত্র ও কন্যাদের আয়ের উৎস এবং সম্পদেরও অনুসন্ধান করা হবে।

তারেক রহমানের বিষয়ে তিনি বলেন, “মানি লণ্ডারিং মামলায় তারেক রহমানকে নিম্ন আদালত থেকে অব্যাহতি দেওয়ার পর আমরা আপিল করেছি। আদালত আপিল গ্রহণ করে আত্মসমর্পন করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আদালতে হাজির না হলে তাকে বিদেশ থেকে ফিরিয়ে আনা বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়াও আদালতের দায়িত্ব। আপিল করার পর আমাদের আর দায়িত্ব নেই।

সংবাদ সম্মেলনে ২০১৩ সালে দুদকের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন দুদক সচিব। এ সময় কমিশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণক কুমার ভট্টাচার্য উপস্থিত ছিলেন।

সচিব বলেন, গতবছর দুদক ডেসটিনি, হলমার্ক, বিসমিল্লাহসহ বেশ কয়েকটি বড় বড় মামলার অনুসন্ধান ও তদন্ত সম্পন্ন করে। এছাড়া কোকোর পাচার করা অর্থ ফিরিয়ে আনাসহ বেশ কিছু মানি লণ্ডারিং ঘটনার অনুসন্ধান ও তদন্ত সম্পন্ন করেছে।

২০১৩ সালে কমিশন মোট ১০ হাজার ৩৪টি অভিযোগ পায়। এর মধ্যে ১ হাজার ২১৩টি অভিযোগ আমলে নিয়ে অনুসন্ধান করে দুদক। এ সময়ে ৩৫০টি মামলা দায়ের ও ৫১৭টি চার্জশিট দাখিল করা হয়। মামলার নিষ্পত্তি হয় ১৭৭টি। এর মধ্যে সাজা হয় ৭৫টি মামলায়।