আজ শহীদ আসাদ দিবস

asad

asadআজ শহীদ আসাদ দিবস। অনেকে এ দিনটিকে গণঅভ্যুত্থান দিবসও বলে থাকেন। ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারির এই দিনে তৎকালীন পূর্বপাকিস্তানে স্বৈরাচারী আইয়ুব সরকার তথা পাকিস্তানি আমলা-সামরিক শাসকদের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থান ঘটেছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আসাদুজ্জামানের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে।

৬৯ এর ২০ জানুয়ারির এই দিনটিতে ছাত্রজনতা ১৪৪ ধারা পদদলিত করে অকু্তোভয়ে পুলিশ-ইপিআরের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল ছাত্র-জনতা। স্বৈরাচারী আইয়ুব সরকারের ১৪৪ ধারা ভেঙ্গে, এই শোভাযাত্রাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবন থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল শহীদ মিনারের দিকে। শহীদ মিনার হয়ে মেডিকেল কলেজে পৌঁছালে হঠাৎ সামরিক শাসকদল শোভাযাত্রার নেতৃত্বে থাকা আসাদুজ্জামানকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে। লুটিয়ে পড়ে প্রতিবাদী দেহ, থেমে যায় শ্লোগানে রাজপথ কাঁপানো কন্ঠস্বর।

তারপর সেদিন বীর বাঙ্গালি পাকবাহিনী থেকে শহীদ আসাদের লাশ ছিনিয়ে নিয়েছিল। আসাদের রক্তাক্ত শার্ট উচিয়ে মুখোমুখি লড়েছিল পাকিস্থানি সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে।

ঊনসত্তরের গণ-আন্দোলনের নায়ক শহীদ আসাদের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সেদিনের আন্দোলন রূপ নেয় গণ-অভ্যুত্থানে। পতন হয় আইয়ুব সরকারের।  আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে মুক্তি পান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার নেতৃত্বে গণ-অভ্যুত্থানে জাগ্রত বাঙালি জাতি নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীনতা লাভ করে। বীর বাঙ্গালি পায় স্বাধীন একটি ভূখন্ড।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম, মনসুর মুসা সম্পাদিত বাংলাদেশ, আগামি (১৯৯৪)। বইটিতে লেখক গণঅভ্যুত্থান সফল হওয়ার পেছনে দু’জন ছাত্র আসাদ ও মতিউরের আত্মদান মৌল ভূমিকা পালন করেছে বলে উল্লেখ করেন। তারা আমাদের জাতীয় বীর। তারা বাঙালির হৃদয়ে স্থান পেয়েছেন। আমাদের প্রধান কবি শাসসুর রাহমান তার কবিতায় আসাদ ও মতিউরকে অমর করে রেখেছেন। ওদের রক্তই আইয়ুবকে বিতাড়িত করেছে। বঙ্গবন্ধুকে মিথ্যা মামলার ফাঁসিকাষ্ট থেকে ছিনিয়ে এনেছে।

শহীদ আসাদের বীরত্বের এই অমরগাঁথাই বলে দেয় কেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে তার নাম চির অমর হয়ে আছে।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, ঊনসত্তরের গণ-আন্দোলনে শহীদ আসাদের আত্মত্যাগ বৃথা যায় নি। সেদিনের সে আন্দোলন পরবর্তীতে গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয় এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ।

প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসে ২০ জানুয়ারি একটি তাৎপর্যময় দিন। এদিন শহীদ হন ছাত্রনেতা মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান। তার এ আত্মত্যাগ ন্বাধীনতার আন্দোলনকে বেগবান করে। পরবর্তীতে গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে পতন হয় স্বৈরাচার আইয়ুব খানের।

এদিকে ঐতিহাসিক এ দিবসটিকে ঘিরে বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। দিবসটি উপলক্ষে শহীদ আসাদ পরিষদের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অপরাজেয় বাংলায় জমায়েত, ৮টায় শহীদ আসাদ স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধাঞ্জলি ও আলোচনা সভা।

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর আগামিকাল মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় জাদুঘর প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। আলোচনা সভায় অংশ গ্রহণ করবেন মাহফুজা খানম, শহীদ আসাদের ভাই অধ্যাপক এইচ এম মনিরুজ্জামান ও শহীদ মতিউরের পিতা আজহার আলী মলিক।