রাজনৈতিক বিবেচনায় ডিএসইতে স্বতন্ত্র পরিচালক!

DSE_ALঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ডিমিউচুয়ালাইজেশন  (মালিকানা থেকে ব্যবস্থাপনা পৃথক করা) পরবর্তী পর্ষদে স্বতন্ত্র পরিচালক পদে আসছেন রাজনীতি সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিরা। সম্ভাব্য পরিচালকদের প্রায় সবাই ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ অথবা সরকারের ঘনিষ্ট। রাজনৈতিক আনুগত্যই পরিচালক নির্বাচনে প্রাধান্য পাচ্ছে বলে জানা গেছে।

তবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জর (ডিএসই) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্বপন কুমার বালা এ অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। অর্থসূচককে তিনি বলেছেন, তারা যাদেরেক স্বতন্ত্র পরিচালক হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন, তাদের সবাই যোগ্যতার নিরিখেই এ প্রস্তাব পেয়েছেন। রাজনৈতিক বিবেচনা মোটেও এতে প্রাধান্য পায় নি।

এদিকে পুঁজিবাজার বিশ্লেষকরা আশংকা প্রকাশ করে বলেছেন,  রাজনৈতিক বিবেচনায় পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হলে ডিমিউচুয়ালাইজেশনের কোনো সুফল পাওয়া যাবে না।

জানা গেছে, ডিমিউচুয়ালাইজেশন স্কিম অনুযায়ী স্টক এক্সচেঞ্জে সাত জন স্বতন্ত্র পরিচালক থাকবে। স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ ১৪ জন পরিচালকের একটি তালিকা বিএসইসিতে পাঠাবে। কমিশন সেখান থেকে সাতজনকে বাছাই করে অনুমোদন দেবে। এদের মধ্য থেকে একজন স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবেন। আর এ কারণে স্বতন্ত্র পরিচালক নির্বাচনে সংশ্লিষ্টদের এত হিসাব-নিকাশ।

ইতোমধ্যে ডিএসই যাদের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছে তাদের মধ্য থেকে দুই জন সরকারের মন্ত্রী পরিষদে ঠাঁই করে নিয়েছেন। এ কারণে তারা ডিএসইর পরিচালক হতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে।

বিন্যস্তকরণ স্কিম অনুযায়ী আগামি ১৯ ফেব্রয়ারির মধ্যে নির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এর আগেই স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে থেকে চারজন পরিচালক নির্বাচন সম্পন্ন হবে। এ নির্বাচনের আগেই পরিচালনা পর্ষদে সাতজন স্বতন্ত্র পরিচালক কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে চূড়ান্ত হবে। একই সঙ্গে ওই সময়ের মধ্যে স্টক এক্সচেঞ্জ দুটির বার্ষিক সাধারণ সভাও অনুষ্ঠিত হবে।

জানা গেছে, ডিএসইর ওই খসড়া তালিকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অন্যান্য যাদের নাম রয়েছে তাদের মধ্যে বেশিরভাগই রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। পুঁজিবাজার বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন,স্বতন্ত্র পরিচালকরা যদি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকেন,তাহলে তারা রাজনীতির বাইরে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না। ফলে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাংকগুলোর মতো দেউলিয়া হতে পারে। স্বতন্ত্র পরিচালকদের অবশ্যই রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হওয়া দরকার বলেও মনে করেন তারা।

এ বিষয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ও বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ড. মির্জা আজিজুল ইসলাম অর্থসূচককে বলেন, এই পরিচালনা পর্ষদটি হবে ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন পরবর্তী প্রথম পর্ষদ। এখানে যদি স্বাধীন পরিচালকরা রাজনৈতিক প্রভাব মুক্ত না হয়,তাহলে পুঁজিবাজারের জন্য কোনো সুফল বয়ে আসবে না।

তিনি বলেন,এখানে যাদেরকে নিয়োগ দেওয়া হোক না কেন,তারা যেন হয় রাজনৈতিক প্রভাম মুক্ত। যদি রাজনৈতিক প্রভাব মুক্ত না হন তাহলে ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন যে উদ্দেশ্যে হয়েছে তা সফল হবে না। এমনি কী এক সময় তা রাষ্ট্রায়াত্ব ব্যাংকগুলোর মতো দেউলিয়া হয়ে যাবে বলেও মনে করেন তিনি।

একই মত প্রকাশ করে এ বিষয়ে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, রাষ্ট্রয়ত্ত্ব ব্যাংকের মতো রাজনৈতিক প্রভাবে পরিচালক নিয়োগ দিলে তা স্টক এক্সচেঞ্জের জন্য হবে ভয়াবহ। এটি বিএসইসির খেয়ালা রাখতে হবে। যাতে এ করে এতে কোনো রাজনীতির ছোঁয়া না লাগে।

গত ২৯ জুলাই মালিকানা থেকে ব্যবস্থাপনা পৃথকীকরণে বিন্যস্তকরণ স্কিম জমা দেয় দুই স্টক এক্সচেঞ্জ। পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় সংশোধনীসহ গত ২৬ সেপ্টেম্বর বিন্যস্তকরণ স্কিম অনুমোদন দেয় কমিশন। অনুমোদিত বিন্যস্তকরণ স্কিম অনুসারে স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালনা পর্ষদ হবে ১৩ সদস্যের। স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানসহ সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য স্বতন্ত্র পরিচালক হবেন। পরিচালনা পর্ষদে স্বতন্ত্র পরিচালক সাতজন ও স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারসহ (কৌশলগত বিনিয়োগকারী) শেয়ারহোল্ডার পাঁচজন থাকবেন। তবে যত দিন পর্যন্ত স্ট্র্যাটেজিক শেয়ারহোল্ডার নির্বাচিত না হবে ততদিন পর্যন্ত এ পদ শূন্য থাকবে।

উল্লেখ্য,স্কিম অনুযায়ী,বিন্যস্তকরণের তারিখ থেকে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে পরিচালনা পর্ষদের (নির্বাচিত)প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হবে। এ হিসাবে চলতি বছরের ১৯ ফেব্রয়ারির মধ্যে এ সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বার্ষিক সাধারণ সভা ওই সময়ের আগেই অনুষ্ঠিত হতে হবে। বিন্যস্তকরণ-পরবর্তী পর্ষদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের বর্তমান পর্ষদ আগামি নির্বাচন ১২ ফেব্রয়ারি অনুষ্ঠানের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও নিয়েছে। অন্যদিকে সিএসই’র পর্ষদ নির্বাচন ১৫ ফেব্রয়ারি সম্পন্ন হওয়ার দিন ধার্য রয়েছে।

জিইউ