কুবিতে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে পুলিশের মামলা

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়শনিবার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) ভর্তি পরীক্ষা শেষে ছাত্রলীগ-ছাত্রদল সংঘর্ষের ঘটনায় ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। সদর দক্ষিণ থানার এসআই খাদেমুল বাহার বাদী হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটির সাত নেতা ও অজ্ঞাত ১৫০-২০০ জনের বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করেন।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ-ছাত্রদল সংঘর্ষের ঘটনায় ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে পুলিশকে মারধর, পুলিশের গাড়ি ভাংচুর ও কর্তব্য পালনে পুলিশকে বাধা দানের অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানান সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাখাওয়াত হোসেন।

মামলায় নাম উল্লেখকৃত সাতজন হচ্ছেন- বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মাসুম, যুগ্ম-আহ্বায়ক সৈয়দ শাহরিয়া মাহমুদ, ছাত্রলীগ নেতা ইলিয়াস হোসেন, মহিউদ্দিন মাহী, মনিরুজ্জামান, এমরান আলী ও মোজাম্মেল হক।

প্রত্যক্ষদর্শী ও মামলার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, শনিবার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার শেষ দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে ছাত্রদলের মিছিল থেকে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের মিছিল লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। এ সময় ছাত্রলীগ পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুললে পিছু হটে ছাত্রদল। দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ শটগানের ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে। এতে গুলিবিদ্ধ হয় এক ছাত্রলীগ কর্মী। এছাড়াও ৫ পুলিশসহ আহত হয় ১১ জন।

ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ কর্মী গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা পুলিশের দুটি কাভার্ড ভ্যানসহ ছাত্রদল নিয়ন্ত্রিত দুটি মেসে ভাংচুর চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ অন্তত ৪০ রাউন্ড রাবার বুলেট ছুঁড়ে। পরবর্তিতে শনিবার রাতে সাতজনের নাম উল্লেখপূর্বক অজ্ঞাত ১৫০-২০০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করে সদর দক্ষিণ থানা পুলিশ।

ছাত্রলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক সৈয়দ শাহরিয়া মাহমুদ বলেন, ঘটনার মূল হোতাদের বাঁচিয়ে দিয়ে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা বিশ্ববি দ্যালয়ের প্রগতিশীল ছাত্র রাজনীতির বিরুদ্ধে অপরাজনীতির অংশ। আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে গায়ে পড়ে হামলা চালায় ছাত্রদল। পুলিশের গুলিতে আহত হয়েছে আমাদের কর্মী। উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে গভীর ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরিয়াল বডি জানায়, শনিবারের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুলিশকে সহযোগিতার জন্য বলা হয়। তবে পুলিশ কেন গুলি চালিয়েছিল তা জানা যায় নি।

সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আন্তরিক ছিলাম কিন্তু ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা পুলিশকে মারধর, পুলিশের গাড়ি ভাংচুর ও কর্তব্য পালনে পুলিশকে বাধা দেওয়ায় মামলা করা হয়েছে।