রামেকের সাবেক পরিচালকসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন

RMC_DUDOK

RMC_DUDOKসরকারের ৩ কোটি ২৭ লাখ ১৮ হাজার ৭১৮ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সাবেক পরিচালকসহ নয় জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিলের অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তাদের বিরুদ্ধে এম, এস, আর সামগ্রী ও ওষুধ ক্রয়ে টেন্ডার অনিয়মের মাধ্যমে  এই টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

শিগগিরই রাজশাহীতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হবে।

রোববার সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে কমিশনের নিয়মিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য।

দুদক সূত্রে জানা যায়, ২০০৯-১০ অর্থবছরে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সরঞ্জামাদি (এমএসআর) ও   ওষুধ ক্রয়ের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। ২০টি দরপত্রের মধ্যে ছয়টি দরপত্রকে যোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে অজ্ঞাত কারণে তুলনামূলক কম দরদাতা পাঁচটি প্রতিষ্ঠান স্কয়ার, একমি, এসিআই, রেনেটা ও জেসন কোম্পানি একযোগে তাদের দরপত্র প্রত্যাহার করে নেয়। ফলে ফাহিম মেডিক্যাল হলের দেওয়া দর সর্বোচ্চ হওয়া সত্ত্বেও পিপিআর-২০০৮ এর ২৭ ধারার অজুহাত দেখিয়ে কর্তৃপক্ষ তাকেই ওষুধ সরবরাহের কার্যাদেশ দেয়। এ ব্যাপারে অভিযোগ পাওয়ার পর দুদক অনুসন্ধান শুরু করে। অনুসন্ধানে অনিয়ম করে সর্বোচ্চ দরদাতা ফাহিম মেডিক্যাল হলকে কার্যাদেশ প্রদান করে সরকারের তিন কোটি ২৭ লাখ ১৮ হাজার ৭১৮ টাকা ক্ষতির প্রমাণ পাওয়ায় দুদক দণ্ডবিধি ৪০৯/১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় এ চার্জশিট অনুমোদন করেছে।

এ মামলার আসামিরা হলেন : রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সাবেক পরিচালক এবং দরপত্র মূল্যায়ন  কমিটির (টিইসি) সভাপতি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আব্দুল লতিফ, হাসপাতালের সাবেক ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক ডা. এস এম আবুল কালাম আজাদ, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের রাজশাহীর আঞ্চলিক বিক্রয় ম্যানেজার মো. আনিসুর রহমান, রেনেটা লিমিটেডের ডেপুটি ম্যানেজার মো. রবিউল হোসেন, জেসন ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের সিনিয়র আঞ্চলিক সেলস ম্যানেজার মো. সহিদুল আলম ও বিক্রয় ব্যবস্থাপক শেখ মোহাম্মদ আলী, দি একমি ল্যাবরেটরিজ লিমিটেডের সাবেক পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম, আঞ্চলিক বিক্রয় ব্যবস্থাপক এম এ মান্নান এবং রাজশাহীর লক্ষ্মীপুর বাজারের ফাহিম মেডিক্যাল হল ফার্মেসির মালিক মো. মতিউর রহমান।

এ ছাড়া দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সদস্য ডা. মো. ইফতেখার মাহমুদ, ডা. তরুণ কুমার চৌধুরী, মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান ও মো. সামসুজ্জামান এ অনিয়মে সহযোগিতা করায় তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিশন।

উল্লেখ্য, প্রাথমিক অনুসন্ধানে অনিয়মের সত্যতা পাওয়ায় দুদক ২০১২ সালের ২৪ ডিসেম্বর রাজশাহী মহানগরীর রাজপাড়া থানায় এ-সংক্রান্ত একটি মামলা করে। পরবর্তী সময়ে দুদকের উপসহকারী পরিচালক আবু বকর সিদ্দিক মামলাটি তদন্ত করেন।

এইউ নয়ন