শেষ হচ্ছে মালয়েশিয়ায় বিশেষ ক্ষমার মেয়াদ,আতঙ্কে অবৈধরা

workers
বিদেশি শ্রমিক-ফাইল ছবি

foriegn-workersমালয়েশিয়ায়  বসবাসরত অবৈধ বিদেশি শ্রমিকদের বৈধ হওয়ার জন্য ৫ম মেয়াদে বর্ধিত করা বিশেষ ক্ষমার মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২১ জানুয়ারি। এর ফলে রোববার দিবাগত রাত থেকে অবৈধ অভিবাসীদের ধরতে বিশেষ অভিযান শুরু হচ্ছে। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে অভিবাসী শ্রমিকদের। খবর  দ্য স্টার অনলাইন, জিম্যান নেটওয়ার্ক ডট কম।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাজার, মহা সড়ক, হোটেল-মোটেল, রেস্টুরেন্ট, দোকান এবং জন সাধারণের চলাচল রয়েছে সম্ভাব্য এমন সব জায়গাতেই এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হবে। এছাড়া একটি বিশেষ টিম বিভিন্ন জায়গায় ব্লক দিয়ে শ্রমিকদের পারমিট এবং কর্মস্থলের বৈধতা আছে কি না তা যাচাই করবে। অভিবাসী আইন অমান্যকারীদের জেল জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড দেওয়ার ক্ষমতা দিয়ে জেলা পুলিশ বিভাগ, বিভিন্ন পুলিশ ও নিরাপত্তা সংস্থা থেকে কর্মীদের নিয়ে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এই অভিযানের আওতায় আরও থাকবে নিরাপত্তাকর্মী এবং গাড়ি চালকরাও।

২০১৩ সালের নভেম্বর মাসে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশি শ্রমিকদের বৈধতা দিতে আলোচনা করেন। আলোচনার ফলশ্রুতিতে ২০১৪ সালের ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত বৈধ হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। আর দুই দিন পরই সেই মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে।

অভিযান চলাকালীন সময়ে পারমিট (বৈধ কাগজ) বর্ণিত পেশা এবং নিজ কর্মস্থল ব্যতীত অন্য জায়গায় কর্মরত শ্রমিকদের অবৈধ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এমনকি বাইরে কাজ করতে দেওয়ার অপরাধে মালিককেও জরিমানা করা হবে বলে জানানো হয়েছে ওই সংবাদ মাধ্যমে।

এদিকে সাঁড়াশি অভিযান শুরু হওয়ার আগেই পালিয়ে বেড়াচ্ছেন অবৈধ অভিবাসীরা। গত কয়েক বছরের মধ্যে মালয়েশিয়ায় এটিই সবচেয়ে বড় অবৈধ অভিবাসী বিরোধী অভিযান হতে পারে বলে ধারণা করছেন অনেকে।

মালয়েশিয়ার অভিবাসন দপ্তরের পরিচালক আলিয়াস আহমাদ জানান, মালয়েশিয়ায় পাঁচ লাখের মতো অবৈধ অভিবাসী অবস্থান করছে। এদের বেশিরভাগই অপেক্ষাকৃত কম উন্নয়নশীল রাষ্ট্রগুলো থেকে আসা এবং বিশেষ করে প্রতিবেশী ইন্দোনেশিয়া থেকে। এর মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য অবৈধ শ্রমিক ছিল ইন্দোনেশিয়ার, দ্বিতীয় স্থানে ছিল বাংলাদেশ। এছাড়া ভারত, মিয়ানমার, ভিয়েতনাম, নেপাল, ফিলিপাইন এবং শ্রীলঙ্কার নাগরিকরা রয়েছে।

মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে  জানায় যে , বৈধ কাগজপত্র ছাড়া যেসব শ্রমিক দেশটিতে কর্মরত আছেন, তাদের তারা চাননা। দেশের ওপর চাপ কমাতেই এই অভিযান শুরু করেছেন তারা।

এতে আরও বলা হয়, ২১ জানুয়ারির পর যদি কেউ অবৈধ থেকে যায় তাদেরকে দেশে ফেরত যেতে হলে ৩ হাজার ১০০ মালয় রিংগিত জরিমানা এবং ৪৫০ রিংগিতের বিনিময়ে এয়ার টিকেট সংগ্রহ করতে হবে।

এস রহমান/এআর