কালকিনিতে আ.লীগ নেতাদের উপজেলা নির্বাচন নিয়ে দৌড়ঝাঁপ শুরু

farukমাদারীপুর-৩ আসনে (কালকিনি-মাদারীপুর সদরের একাংশ) সদ্যবিদায়ী ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক কৃষিবিদ আ.ফ.ম বাহাউদ্দিন নাছিম বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার পর এবার কালকিনিতে উপজেলা নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের মধ্যে আনন্দ-উল্লাস দেখা গেছে। কে পাবে নমিনেশন এ আলোচনা এখন উপজেলার সর্বত্র। ইতোমধ্যে কালকিনি উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মীর গোলাম ফারুক, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক তৌফিকুজ্জামান শাহিন ও কেন্দ্রীয় কৃষকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাকিলুর রহমান সোহাগ তালুকদারের দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

দলীয়, স্থানীয়সহ একাধিক সূত্রে জানা যায়, গত বছর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান হিসেবে আওয়ামী লীগের দলীয় নমিনেশন পান উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মীর গোলাম ফারুক। সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের আশীর্বাদ নিয়ে মীর গোলাম ফারুক নির্বাচন করেন এবং চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হন। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক তৌফিকুজ্জামান শাহিন প্রতিন্দ্বদ্ধিতা করেন। অল্প ভোটের ব্যবধানে তিনি পরাজিত হন।

অপরদিকে মীর গোলাম ফারুক নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের সমর্থিত হওয়ায় ক্ষমতার জোর দেখিয়ে সে তার ইচ্ছেমতো কাজকর্ম করাসহ তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে। একারণে সাধারণ মানুষের কাছে তৌফিকুজ্জামান শাহিনের গুরুত্ব বেশি দেখা যায়।

এছাড়াও আরেক আওয়ামী লীগের নেতা কেন্দ্রিয় কৃষকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাকিলুর রহমান সোহাগ তালুকদার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি তাহমিনা সিদ্দিকীর সাথে থেকে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করায় উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার মধ্যে রয়েছে তার ব্যাপক পরিচিতি। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তাকে মনোনয়নের জন্য ইউনিয়নের আওয়ামী লীগসহ অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মিরা আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

এ ব্যাপারে শাকিলুর রহমান সোহাগ তালুকদার বলেন, দলীয় ভাবে নমিনেশনই যাকে চূড়ান্ত করবে তার হয়েই আমরা নির্বাচন করব।

একই কথায় সুর মেলালেন মীর গোলাম ফারুক ও তৌফিকুজ্জামান শাহিন। তাদের তিন জনের দাবী, যাকেই দলীয়ভাবে নমিনেশন দেয়া হবে। সেইটাই তারা মেনে নিবেন।

এছাড়াও আওয়ামী লীগের আরও দুই নেতার কথা শোনা যাচ্ছে। তারা হলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ব্যবসায়ী এফএফ ট্রেডিং কোম্পানির মালিক এস.এম হানিফ ও সাবেক পৌর প্রশাসক আবুল কালাম আজাদ।

কালকিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপিকা তাহমিনা সিদ্দিকী বলেন, দলীয়ভাবে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে যাকে নমিনেশন দেয়া হবে আমরা সবাই তার হয়েই কাজ করবো।

অন্যদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে কারও নাম শোনা যাচ্ছে না।

এ ব্যাপারে কালকিনি উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. ফজলুল হক ব্যাপারী বলেন, আমাদের কেন্দ্র থেকে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি বিধায় আমরা এখনো প্রার্থী নিয়ে ভাবিনি। নির্দেশ পেলে প্রার্থী দেওয়া হবে।

সাকি/