ফরিদপুরে আ.লীগ-বিএনপি সংঘর্ষ, আহত ১০

foridpur
ফরিদপুর মানচিত্র

ফরিদপুর ম্যাপফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ময়না ইউনিয়নের মীরেরচর গ্রামে রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রোববার বিবাদমান দুই পক্ষের সংঘর্ষে ১০ জন আহত হয়েছে। এদের মধ্যে মুমুর্ষূ এক ব্যক্তিকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সংঘর্ষে জড়িত থাকার অভিযোগে ৩ ব্যক্তিকে ১ মাস করে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

থানা ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ওই গ্রামের বাসিন্দা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ-সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাবলু ও আওয়ামী লীগ সমর্থক মো. রাশেদ মোল্লার পক্ষের মধ্যে এলাকায় রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছিল। রোববার বাবলু পক্ষের ওবায়দুর রহমান, মো. ফারুক মোল্লা, মো. রাসেল মোল্লা পাশের আষাড়িয়া বিলে ফসলের ক্ষেতে যাওয়ার পথে প্রতিপক্ষের লোকজন তাদের ধাওয়া করে। এ ঘটনার জের ধরে দুইপক্ষ দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

এতে মারাত্মক আহত মো. নাসির মোল্লাকে (২৬) বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহত মো. বাদশা শেখ (৩৫), বিল্লাল মোল্লা (২৩), মো. ফারুক মোল্লা (২৬), নান্নু মোল্লা (৩৫), দাউদ মোল্লাকে (২৬) বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় পুলিশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বর থেকে ৩ ব্যক্তিকে আটক করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে হাজির করে। অতঃপর ইউএনও মো. সহিদুজ্জামান ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বাবলু পক্ষের মো. হোসাইন মোল্যা (৩৮), মো. মিরাজ মোল্লা (২৫) ও মো. রিয়াজ মোল্লাকে (২১) দাঙ্গা-হাঙ্গামায় জড়িত থাকার অভিযোগে একমাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন বলেন, ওই গ্রামের বিবাদমান দুটি গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের বিরোধ চলে আসছিল। সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দণ্ডপ্রাপ্ত তিন ব্যক্তিকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলেও তিনি জানান।

উল্লেখ্য, ওই গ্রামের বাবলু ও রাশেদের দুটি পক্ষ বিগত দুই বছর ধরে বিভিন্ন ঘটনায় পনের বার সংঘর্ষ হয়েছে এবং এ সকল ঘটনায় থানায় নয়টি মামলা রয়েছে।

কেএফ /এআর