শনিবার, অক্টোবর ৩১, ২০২০
Home কৃষি মৌচাষে স্বাবলম্বী রাজশাহীর কৃষকরা

মৌচাষে স্বাবলম্বী রাজশাহীর কৃষকরা

মৌচাষে স্বাবলম্বী রাজশাহীর কৃষকরা

Godagari photoরাজশাহীর বরেন্দ্র অঞ্চলে মৌচাষ করে স্বাবলম্বী আতাউর ও শহিদুল। সরিষা ক্ষেতে বাক্স পদ্ধতিতে মধু সংগ্রহ করে তাদের মতো অনেকেই এখন মৌচাষ করে লাভের মুখ দেখছেন।

রাজশাহী গোদাগাড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, বরেন্দ্র অঞ্চলে সরিষার চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। এখানে সরিষার ফুল ফোটা মাত্রই মধু সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে পড়েন মৌচাষিরা।

গোদাগাড়ি উপজেলা পাহাড়পুর নামাজ গ্রামের আতাউর রহমান বলেন, চলতি রবি মৌসুমে উপজেলার বাসুদেবপুর ইউনিয়নের বিল চড়াই সরিষার মাঠে মধু সংগ্রহের জন্য ৪৫টি বাক্স স্থাপন করেছি। এতে করে মৌ খামারে মধু সংগ্রহ হয়েছে ২২মণ। প্রতিকেজি মধু ৩০০ টাকা দরে বিক্রি করেছি। ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার মধু বিক্রি করলেও এখনো ৮মণ মধু মজুদ আছে।

তিনি আরও জানান, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ গোদাগাড়ি শাখায় অফিস সহকারি হিসেবে কর্মরত আছি। কিন্তু এখান থেকে যে আয় হতো তা দিয়ে সংসারের খরচ চালানো সম্ভব হতো না। এখন মৌচাষ করে বাড়তি আয় হওয়ায় সংসারে এসেছে স্বচ্ছলতা। প্রতি মৌসুমে দেড় লাখ টাকারও বেশি আয় হযে থাকে।

উপজেলার বাসুদেবপুরের প্রান্তিক কৃষক শহিদুল ইসলাম সুমন আতাউরের কাছে মৌচাষের ওপরে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে সেই মৌচাষ খামারে সহযোগী হিসেবে কাজ করেন। এক পর্যায়ে শহিদুল ইসলাম সুমন চলতি মৌসুমে নিজেই ২৫টি বাক্স সরিষার ক্ষেতে বসিয়ে মৌ খামার গড়ে তুলেন। চলতি মৌসুমে এক লাখ টাকা মধুচাষ করে লাভ হবে বলে তিনি জানান।

সফল এ মৌচাষি আরও জানান, মৌমাছি পালনের বিশেষ জাতের বাক্সে রাণী মৌমাছিকে আটকে রাখার জন্য রয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। দুই কক্ষ বিশিষ্ট বাক্সের একটিতে মৌমাছিরা বাচ্চা প্রতিপালন করে আর অন্য কক্ষে মৌচাকে মধু জমায়। সাধারণত পাঁচ প্রজাতির মৌমাছি দেখা যায়। তার মধ্যে অ্যাপিস সেরানা, অ্যাপিস মেলিফেরা এই দুই প্রজাতির মৌমাছি কাঠের বাক্সে পালনের উপযোগী। অ্যাপিস সেরানা মৌমাছি আকারে মাঝারি, গায়ের রং সোনালি এবং অপেক্ষাকৃত শান্ত প্রকৃতির। সাধারণত এরা গাছের গর্ত, দালানের কার্নিশ ও সানশেড, ইটের স্তূপ, মাটির গর্তে বাসা বাধে।

একটা কলোমিতে একাধিক চাক থকে। প্রতি কলোনিতে একটি রাণী, শতাধিক পুরুষ এবং ২৫-৩০ হাজার পর্যন্ত শ্রমিক মৌমাছি মিলে কলোনিবদ্ধভাবে বসবাস করে। এদের স্থান ত্যাগের অভ্যাস কম এবং সহজেই পোষ মানানো সম্ভব। বছরে প্রতি উৎপাদনমুখী কলোনি থেকে গড়ে ১০ কেজি পর্যন্ত মধু উৎপাদন করা যায়। সরিষার ক্ষেতে ১০টি মৌ বাক্সে খরচ হয় ৫০ হাজার টাকা। আর প্রথম বছর লাভ হয় ১ লাখ টাকা। দ্বিতীয় বছরে এই আয় দ্বিগুণ হারে বৃদ্ধি পেতে থাকে।

এ প্রসঙ্গে গোদাগাড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. সাইফুল আলম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলা হিসেবে রবি মৌসুমে হাইব্রিড জাতের সরিষার চাষ প্রতিবছর বৃদ্ধি পাওয়ায় মৌচাষের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। মৌমাছি চাষে মধু যোগানের পাশাপাশি ফুলের পরাগায়ন ঘটিয়ে ফসলের উৎপাদন ২৫ ভাগ পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব। আগামিতে যাতে করে সরিষার ক্ষেতে মৌচাষ করা যায় এজন্য প্রান্তিক চাষিদেরকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা বলেন তিনি।

কেএফ/এএস