আইপিও’র টাকা জমা নিয়ে স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে বৈঠক করেছে বিএসইসি

বিএসইসি
বিএসইসি লোগো

bsec_secপুঁজিবাজারে প্রাথমিক গণ প্রস্তাব বা আইপিও’র আবেদন পদ্ধতি সহজ করার জন্য উদ্যোগ নিচ্ছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এ জন্য সোমবার এবিষয়ে শীর্ষ মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছে সংস্থাটি। সোমবার সংস্থাটির কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে বৈঠকে কোনো ধরনের সিদ্ধান্ত হয়নি।

বিএসইসির সদস্য মো: আরিফ খানের সভাপতিত্ব শীর্ষ মার্চেন্ট ব্যাংকের কর্মকর্তা ও ব্রোকাজ হাইজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে আরিফ খান সংবাদিকদের বলেন, আইপিও আবেদন পদ্ধতি সংস্কারের কথা ভাবছে কমিশন। যাতে করে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ আরও সহজ হয়; তাদের ভোগান্তি দূর হয়। সে জন্য আজ স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তবে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে আজই প্রথম বৈঠক। আরও আলোচনা হবে। তার পর সবার মতামতের ভিত্তিতে একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

0জানা যায়, নতুন পদ্ধতি চালু হলে আইপিও আবেদন প্রক্রিয়া অনেক সহজ হয়ে যাবে। আবেদনের সঙ্গে টাকা জমা দেওয়া এবং লটারিতে অকৃতকার্য হলে ওই অর্থ ফেরত পাওয়ার হাঙ্গামা থেকে মুক্তি পাবেন বিনিয়োগকারীরা।এই পদ্ধতিতে সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীর ব্যাংক হিসাবে আবেদনের জন্য নির্দিষ্ট করা অর্থ জমা থাকলেই চলবে।লটারিতে আবেদনকারী জয়ী হলে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে সেখান থেকে টাকা চলে যাবে শেয়ার ইস্যুকারী কোম্পানির ব্যাংক হিসাবে।অন্যদিকে আগাম টাকা জমা নেওয়া হবে না বলে লটারিতে অকৃতকার্য হলে তা ফেরতেরও প্রয়োজন পড়বে না।

বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার নেটওয়ার্কের (বিএফটিএন) আওতায় আইপিও’র নতুন পদ্ধতিটি কাজ করবে।এ বিষয়ে প্রাথমিক কাজ গুছিয়ে এনেছে বিসইসি।
প্রসঙ্গত, কয়েকটি কারণে বিএসইসি আইপিও আবেদন পদ্ধতি পরিবর্তন করা খুব জরুরী বলে মনে করছে।প্রথমত, বর্তমান পদ্ধতিতে আবেদনকারী ও ইস্যুয়ার কোম্পানি-উভয়কে টাকা জমা দেওয়া ও ফেরত বিষয়ে বাড়তি বিড়ম্বনা পোহাতে হয়।

দ্বিতীয়ত: আইপিওর লটারি অনুষ্ঠানের পর রিফান্ড ওয়ারেন্ট না হওয়া পর্যন্ত আবেদনকারীদের টাকা আটকে থাকে। একেকটি কোম্পানির আইপিওতে আটকে যায় ৪/৫ শ কোটি টাকা। তাই এক সঙ্গে একাধিক আইপিও বাজারে এলে সেকেন্ডারি বাজারে তারল্যের ক্ষেত্রে কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

তৃতীয়ত: আইপিও লটারিতে অকৃতকার্য বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে যথেষ্ট পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হয়। নতুন পদ্ধতিতে এ খরচ একেবারেই শুন্যের কাছে নেমে আসবে।