উপজেলা নির্বাচনে মাঠে নামছে রাজশাহীতে সম্ভাব্য প্রার্থীরা

Rajshahi-city-map

Rajshahi-city-map20130522125318উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে মাঠে নামতে শুরু করেছে রাজশাহীর নয়টি উপজেলার সম্ভাব্য প্রার্থীরা। ইতোমধ্যেই উপজেলাগুলোতে বইতে শুরু করেছে নির্বাচনের আমেজ। এরই মধ্যে দলের সমর্থণ নিতে দৌড় ঝাঁপ শুরু করে দিয়েছেন অনেক সম্ভাব্য প্রার্থী। যোগাযোগ শুরু করেছেন নিজ নিজ দলের জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে। কোন উপজেলায় কে কে প্রার্থী হতে পারেন এ নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে শুরু হয়েছে গুঞ্জন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নিলেও উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহ জানিয়েছে দলটির অনেক সম্ভাব্য প্রার্থীরা।

সূত্রে জানা যায়, শিগগির সারা দেশে উপজেলা পর্যায়ে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। আগামীকাল রোববার তফসিল ঘোষণার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। মার্চে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। রোববার কমিশন সভায় বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে। আইনি বাধ্যবাধকতা থাকায় দ্রুত উপজেলা নির্বাচন সম্পন্ন করতে যাচ্ছে ইসি। আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে ৪৮ জেলার ১১৩টি উপজেলার নির্বাচন শেষ করতে হবে। এছাড়া মার্চ মাসে ৫৯ জেলায় ২২০টি ও এপ্রিল মাসে ২৬ জেলার ৩৬টি উপজেলার নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ইসি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

রাজশাহী জেলায় উপজেলা রয়েছে নয়টি। উপজেলাগুলো হলো পবা, পুঠিয়া, দুর্গাপুর, বাগমারা, বাঘা, চারঘাট, মোহনপুর, তানোর ও গোদাগাড়ী। এর মধ্যে গত নির্বাচনে দুইটিতে আওয়ামী লীগ, ছয়টিতে বিএনপি ও একটিতে জামায়াতের উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তবে পুঠিয়া উপজেলার চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা ওয়ায়েজুল ইসলাম বাচ্চু নির্বাচিত হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ার কারণে এ উপজেলায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে আসছেন মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মর্জিনা বেগম।

মহানগরীর উপকণ্ঠে হওয়ায় জেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন পবা উপজেলা। এখানে এবারো দলীয় প্রার্থী হতে চান উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ইয়াছিন আলী। এছাড়াও উপজেলা কৃষকলীগের সভাপতি ও ভাইস চেয়ারম্যান মুনসুর আলী এবার দলীয় প্রার্থী হিসেবে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করতে চান। আর এ উপজেলায় বিএনপির প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও দামকুড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহাজান আলী এবং নওহাটা পৌর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিক। এছাড়াও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতা মোকবুল হোসেনও এবারো প্রার্থী হবেন বলে জানা গেছে।

পুঠিয়া উপজেলায় এবার চেয়ারম্যান প্রার্থী হতে ইতোমধ্যেই ঘোষণা দিয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগ ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ গোলাম ফারুক। এছাড়াও এবার দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী হতে চান জেলা সেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বানেশ্বর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুস সামাদ। আর বিএনপি থেকে এবার প্রার্থী হতে পারেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ওয়ায়েজুল ইসলাম বাচ্চুর ভাই উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম জুম্মা।

দুর্গাপুর উপজেলায় এবারো প্রার্থী হবেন জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও বর্তমান চেয়ারম্যান আবদুল মজিদ সরদার। এছাড়া এ উপজেলায় এবার প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়ে মাঠে নেমে পড়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম এবং উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও স্থানীয় যুবলীগ নেতা আবদুল কাদের মন্ডল। আর এবারো প্রার্থী হতে চান উপজেলা বিএনপির সভাপতি আকবর আলী বাবুল এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও স্থানীয় বিএনপি নেতা ওয়াহেদ মন্ডল।

বাগমারা উপজেলায় এবারো প্রার্থী হতে পারেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ইব্রাহীম হোসেন। এছাড়াও এবার প্রার্থী হতে চান উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও ভাইস চেয়ারম্যান ইয়াছিন আলী মাষ্টার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকিরুল ইসলাম সান্টু ও সাবেক সভাপতি আব্দুস সোবহান। এদিকে এ উপজেলা এবারো বিএনপির প্রার্থী হবেন বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ডিএম জিয়াউর রহমান জিয়া। এছাড়াও প্রার্থী হতে পারেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক মুকলেছুর রহমান।

বাঘা উপজেলায় এবারো প্রার্থী হতে পারেন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট লায়েব উদ্দিন লাভলু। এছাড়াও এ উপজেলায় এবার দলীয় প্রার্থী হতে চান উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি প্রভাষক আবু বকর সিদ্দীক। তবে এ উপজেলার বর্তমান চেয়ারম্যান ও স্থানীয় বিএনপি নেতা বয়জুল ইসলাম খান বর্ধক্যজনিত কারণে নির্বাচন না করার সম্ভাবনা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে এখানে প্রার্থী হতে দলীয় সমর্থণ চাইবেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি গনি মন্ডল ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক আকবর আলী।

চারঘাট উপজেলায় এবারো দলীয় প্রার্থী হতে চান উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফখরুল ইসলাম। তবে এবার বর্তমান চেয়ারম্যান ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আবু সাঈদ চাঁদের প্রার্থী না হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তার পরিবর্তে এখানে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এসএম ইউশা সরকার দলীয় প্রার্থী হতে পারেন।

মোহনপুর উপজেলায় এবারো দলীয় প্রার্থী হতে আগ্রহী রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনে সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিনের ভগ্নিপতি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম। এছাড়া এ উপজেলা এবার প্রার্থী হতে চান স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা এনামুল হক। আর বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি শামিমুল ইসলাম মুন এবারো প্রার্থী হবেন। তবে এখানে এবার নির্বাচন করতে চান উপজেলা বিএনপির আরেক সহসভাপতি ও কেশরহাট ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ গিয়াস উদ্দিন।

তানোর উপজেলায় এবারো দলীয় প্রার্থী হতে চান উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মন্ডমালা পৌরসভার মেয়র গোলাম রাব্বানী এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কামারগা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আলম মামুন। আর এবারো দলীয় প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি এমরান আলী সরকার। তবে এবার প্রার্থী হতে পারেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও চান্দুরিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মজিফ উদ্দিন।

গোদাগাড়ী উপজেলায় এবারো দলের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন বর্তমান চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আতাউর রহমান। তবে এবার দলীয় প্রার্থী হতে চান জেলা যুবলীগের সভাপতি অধ্যাপক আসাদুজ্জামান আসাদ। এ উপজেলায় এবারো দলীয় প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে চান উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও গোগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হররত আলী।

এদিকে সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে কমিশন। এরই মধ্যে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের মালামাল কেনা হয়েছে। ভোটকেন্দ্র নির্ধারণও হয়ে গেছে। বিদ্যমান ভোটার তালিকায় নির্বাচন করা হচ্ছে।

সাকি/