শনিবার, অক্টোবর ৩১, ২০২০
Home সারাদেশ খুলনা নষ্ট সরঞ্জাম নিয়ে খুড়িয়ে চলছে খুলনার হাসপাতালগুলো

নষ্ট সরঞ্জাম নিয়ে খুড়িয়ে চলছে খুলনার হাসপাতালগুলো

নষ্ট সরঞ্জাম নিয়ে খুড়িয়ে চলছে খুলনার হাসপাতালগুলো

Hospitalখুলনায় সরকারি হাসপাতালগুলোর রোগ নির্ণয়ের অধিকাংশ মেশিনই বিকল হয়ে পড়েছে। যে কারণে জেলার জেনারেল হাসপাতাল ও ৯টি উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। সেই সঙ্গে স্বল্পমূল্যে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন জেলার কয়েক লাখ সাধারণ মানুষ।

খুলনার সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, খুলনা জেনারেল হাসপাতাল এবং ৯টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৪টি এক্সরে মেশিনের মধ্যে ১০টিই অচল হয়ে পড়েছে। শুধু জেনারেল হাসপাতালের দুটি, দাকোপে ১টি ও তেরখাদায় ১টিসহ মোট ৪টি এক্সরে মেশিন ভালো আছে। বাকি ডুমুরিয়ার ১টি এবং ফুলতলা ২টি মেশিন দীর্ঘদিন যাবৎ নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। বটিয়াঘাটা, দিঘলিয়ার, রূপসা, পাইকগাছার ও কয়রার মেশিনগুলো এখন অচল হয়ে পড়েছে। জেলার ৯ উপজেলা ও খুলনায় জেনারেল হাসপাতালের মধ্যে শুধু জেনারেল হাসপাতাল এবং ফুলতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দুটি ইসিজি মেশিন রয়েছে। এর মধ্যে নষ্ট রয়েছে ফুলতলার মেশিনটি।

শুধু খুলনা জেনারেল হাসপাতালে আলট্রাসনোগ্রাফি মেশিন রয়েছে ৩টি। এর মধ্যে ভালো রয়েছে একটি। বাকি ২টি নষ্ট হয়ে গেছে। অটোক্লেভ জেনারেল হাসপাতালে রয়েছে ৪টি, এর মধ্যে অচল ৩টি, পাইকগাছা ২টির মধ্যে একটি অচল। বাকি অন্যান্য উপজেলার সবগুলো অচল বলে জানা গেছে। মাইক্রোসকোপ জেনারেল হাসপাতালে ২টি, ফুলতলায় ৩টি, দিঘলিয়ায় ২টি, রূপসায় ১টি, বটিয়াঘাটায় ১টি, দাকোপে ১টি, পাইকগাছায় ২টি অচল রয়েছে।

এছাড়া তেরখাদায় ১টি, ডুমুরিয়ায় ৩টি, কয়রায় ২টি ভালো রয়েছে। সাকার মেশিন উপজেলার ডুমুরিয়ায় ১টি, ফুলতলায় ১টি, দিঘলিয়ায় ১টি, বটিয়াঘাটায় ১টি, দাকোপে ১টি, পাইকগাছায় ৩টি এবং কয়রায় ১টি অচল রয়েছে। লেবুলাইজার ফুলতলায় ২টি, রূপসায় ২টি, পাইকগাছায় ১টি এবং কয়রায় ১টি অচল রয়েছে।

রূপসা উপজেলার নৈহাটী ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের আছাদ মিয়া জানান, তার কোমড়ে আঘাত লাগায় চিকিৎসক তাকে এক্সরে করতে বলেছে। তিনি রূপসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে জানতে পারেন এখানকার  এক্সরে মেশিন নষ্ট।

ফুলতলা উপজেলার জামিরা গ্রামের আব্দুল্লাহ জানান, তার বৃদ্ধ পিতা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে চিকিৎসক ইসিজির পরামর্শ দেন। সে অনুযায়ী তিনি ফুলতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে জানতে পারেন এখানকার ইসিজি মেশিন নষ্ট।

শুধু আসাদ মিয়া কিংবা আব্দুল্লাহ নয়, এ জেলার অসংখ্য ভুক্তভোগী জানান, “উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রয়োজনীয় এসব যন্ত্রপাতি নষ্ট থাকায় আমাদের পরিবহন খরচসহ সময় নষ্ট করে এবং খুলনার বিভিন্ন ক্লিনিকে ২-৩ গুণ বেশি টাকা দিয়ে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে। এতে আমরা সবদিক দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।”

খুলনার সিভিল সার্জন ডা. ইয়াছিন আহমেদ জানান, মেশিনগুলো নষ্টের বিষয়টি ঢাকায় কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার চিঠি দিয়ে জানানো হচ্ছে। কিন্তু কোনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি।

কেএফ/এআর