সিমলায় প্রবল তুষারপাত, হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা

snowfall at shimla

snowfall at shimlaচলতি বছরের প্রথমেই প্রবল তুষারপাতের স্বাদ মিলেছে ভারতের সিমলায়। বরফের চাদরে ঢেকেছে রাস্তা। আর এতেই মশাল হাতে দৌড় অথবা কচিকাঁচাদের রং-বেরংয়ের পোশাক পরার প্রতিযোগিতা থেমে গেছে। থেমে গেছে দুধসহ বিভিন্ন খাদ্য-সামগ্রি ও সংবাদ পত্র আনা নেওয়ার কাজ। তবে সিমলার হোটেল ব্যবসায়ীদের ঠোঁটের কোণে জেগে ওঠেছে বিন্দু বিন্দু হাসি। কারণ তারা একসপ্তাহ ধরে প্রতীক্ষা করছিলেন এমন তুষারপাতের।

শুক্রবার মধ্যরাত থেকে অঞ্চলটিতে এই তুষারপাত শুরু হয়েছে । শনিবার দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত কয়েক দিনে সিমলাতে আবহাওয়ার অবস্থা মন্দভাবে বিরাজ করতে থাকে। এতে করে তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে স্থানীয় লোকজন তুষারপাতের আশা ছেড়ে দিতে থাকে। তবে শনিবার সকালে প্রবল তুষারপাত হওয়ায় সেখানে নতুনকরে অন্য বছরের মতো জেগে ওঠে পর্বতের রাণী বলে খ্যাত এই পাহাড়ি শহর। শহরটিতে এখন আধাফুট উচ্চতায় বরফ জমে আছে।

হোটেল ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, যেন রাতের আকাশটাই হঠাৎ নেমে এসেছে মাটিতে। অন্ধকার চিরে চারদিকে শুধু আলোর মালা। বরফে মোড়া পাহাড়ি শহর। তুষারপাতের সময় অনেক পর্যটক বেড়াতে আসেন এখানে।

তারা জানান, এই সময় তুষারপাত না ঘটলে আমাদের পর্যটন ব্যবসা সিঁকে ওঠবে। ২২ ডিসেম্বরের পর থেকে হালকা তুষার পড়তে থাকে এ অঞ্চলে। ফলে পর্যটন ব্যবসা বাড়তে থাকে, কিন্তু গত কয়েক দিনে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় আমাদের আশা ভেঙে যেতে বসেছিল। সে আশা আবার এখন পূরণ হবে। হতাশা কাটিয়ে পর্যটকরাও আবার ফিরে আসতে পারবে।shimla-snow

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তুষার হচ্ছে পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ। তাই বরফ পড়া কমে যেতে থাকলে এই অঞ্চলের পর্যটন ব্যবসার সাথে সংশ্লিষ্টদের ব্যবসায় বিদায় ঘণ্টা বাজবে। কয়েক দশক আগেও সিমলাতে এমন ভারি তুষারপাত হতো, এখন তা আগের মতো হয় না।

সিমলার একজন বাসিন্দা গিয়ান চাঁদ ঠাকুর জানান, হালকা তুষারপাতে অতিরিক্ত জনসংখ্যা, অতিরিক্ত নির্মাণ, যানজটের ওপরও প্রভাব পড়ে শহরটিতে। এ সময় যান চলাচল বিঘ্নিত হওয়াসহ মানুষের জীবনযাত্রা কিছুটা বিঘ্নিত হয় সত্য, তবে বর্ণিল সাজে সজ্জিত এই তুষারপাত ঢাকা শহরটি হয়ে ওঠে অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র।

সিমলার হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট হারনাম কুকরেজা জানান, এই সময়ে তুষারপাত কমে গেলে  ট্যুরিজম শিল্পে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে। যেটা শীতকালে খুব কমই ঘটে থাকে। তিনি জানান, এখনই যদি সিমলায় বরফ পড়া কমে যায় তবে পর্যটকরা কাশ্মিরে চলে যাবে।

কুকরেজা জানান, অবশ্য হিমাচল প্রদেশে তুষারপাত কমতে শুরু করেছে। আর এর ফলে পর্যটকরাও উত্তরখণ্ড এবং কাশ্মির চলে যেতে শুরু করেছে। আর এটা যদি সিমলায়ও ঘটতে থাকে তবে এ বছরের মতো পর্যটন ব্যবসা এখানেই শেষ হয়ে যাবে।

এক গবেষণায় দেখা গেছে, আগের কয়েক দশকের তুলনায় সিমলায় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৯৯০ সালে থেকে এ অঞ্চলে মানুষের মধ্যে উদ্বিগ্নতা বেড়ে যাচ্ছে। ১৯৯৬ সালে সিমলাতে বৃষ্টিপাতের হার প্রায় ১৭ শতাংশ কমেছে বলেও ওই গবেষণায় বলা হয়।

এস রহমান /এআর