কেন-বেতওয়া প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে দেশ অর্থনৈতিক হুমকিতে পড়বে

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)
বাপার সংবাদ সম্মেলন

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)ভারতীয় আন্ত:নদী সংযোগ প্রকল্পের প্রথম সংযোগ (কেন-বেতওয়া) বাস্তবায়ন হলে মারাত্মক অর্থনৈতিক হুমকির মুখে পড়বে বাংলাদেশ। শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সেমিনারে এসব কথা জানান বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও বাংলাদেশ পরিবেশ নেটওয়ার্ক (বেন) এর নেতারা।

বক্তারা বলেন, “বন্যা ও খরা সংকটের সাথে পানির সম্পৃক্ততার কারণে ভূ-পৃষ্ঠের পানির যে ভিন্নতা তৈরি হয় তা নিরসনের জন্য ভারতীয় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ন্যাশনাল পারসপেক্টিভ প্লান প্রণয়ন করে যার মূল ভিত্তি হল উদ্বৃত্ত এলাকা থেকে ঘাটতি এলাকায় পানি সরবরাহ করা।

এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের ধান ও গমের মোট উত্পাদনের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ  পানির অভাবে নিষম্ফলা হয়ে যাবে এবং বঙ্গোপসাগরের লবণাক্ততা সিলেট অঞ্চল পর্যন্ত গ্রাস করে ফেলবে। আর মৎস শিল্প, ধান ও গমের উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্থ হলে  চরম নাজুক অবস্থার সম্মুখীন হবে এই সব অঞ্চলের অসংখ্য মানুষের জীবন-জীবিকা।

যুক্তরাষ্ট্রের লক হ্যাভেন বিশ্ববিদ্যালয় এর ভূতত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. খালেকুজ্জামান বলেন, প্রকৃতপক্ষে উদ্বৃত্ত পানির ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। উদ্বৃত্ত পানি বলতে আসলে কিছুই নেই। আর এই প্রকল্প বাস্তাবায়ন করা হলে বাংলাদেশের প্রধান দুটি আন্ত:সীমান্ত নদী পদ্মা ও যমুনার পানি হ্রাস পেলে বাংলাদেশের পরিবেশ  ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে মারাত্মক ক্ষতি সাধন হবে।

কেন-বেতওয়া ভারতের দুটি নদী যার ওপর বাংলাদেশের পদ্মা ও যমুনা নদীর অববাহিকা সংশ্লিষ্ট এলাকাসমূহ নির্ভরশীল। তাই কেন নদীর উপ-অববাহিকা থেকে বেতওয়া নদীর উপ-অববাহিকায় পানি প্রত্যাহার করা হলে পদ্মা নদীর মোট পানি হ্রাস পাবে।

আর  উজানে পানি প্রত্যাহারজনিত কারণে ফারাক্কা ব্যারেজ পয়েন্টে পানি ও তলানীর পরিমান হ্রাস পাবে। এতে লবণাক্ততার ভারসাম্য ধ্বংস হবে এবং বাংলাদেশের মৎস শিল্প সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে যাবে। একই সাথে বেড়ে যাবে আর্সেনিকের মাত্রা।

এছাড়া ভাটিতে অবস্থিত সুন্দরবন, সন্নিহিত প্লাবনভূমি ও বদ্বীপ ভূমিতে পলি পতন হ্রাস শিল্প কারখানার ভাল পানির প্রাপ্যতা ক্ষতিগ্রস্থ হবে।

এমতাবস্থায় বাংলাদেশের প্রকৃতি, পরিবেশ ও অর্থনীতি রক্ষার্থে ভারতীয় আন্ত:নদী সংযোগ প্রকল্পটি সম্পূর্ণ বাতিলের জন্য জোর দাবি জানান বক্তারা।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন(বাপা)’র সহ-সাধারণ সম্পাদক এম এ মতিনের সঞ্চালনায় সেমিনারের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন  অধ্যাপক ড. খালেকুজ্জামান।

এসএসআর