বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতা করবে বাংলাদেশ-মায়ানমার

bangladesh-myanmar

bangladesh-myanmarবাংলাদেশের সাথে মায়ানমায়ের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও এক ধাপ এগোলো। সম্প্রতি দুই দেশের সিমান্ত বাণিজ্য, কৃষি ও খাদ্য, মৎস, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা করার লক্ষ্যে ১০০ মিলিয়ন ডলারের বাণিজ্যকে ৫০০ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার এক দ্বি-পাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তিতে সই করেছে তারা।

১৪-১৫ জানুয়ারি মায়ানমারের রাজধানী নেপিতোতে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-মায়ানমার জয়েন্ট ট্রেড কমিশনের ৭ম  সভায় দ্বি-পাক্ষিক এ বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন হয়। খবর  ইউএনবির।

সভায় বর্তমান ১০০ মিলিয়ন ডলারের বাণিজ্যকে ৫০০ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা হবে বলে জানানো হয়।এ ছাড়া সিমান্ত বাণিজ্য, কৃষি ও খাদ্যে, মৎস, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা; নৌ চলাচল চুক্তি সম্পাদন, বাণিজ্য দল বিনিময়, বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণ, এলসি’র মাধ্যমে ব্যবসা করা; পিটিএ-এর সুবিধা কাজে লাগানো এবং যৌথ বিনিয়োগ বিষয়ে আলোচনা হয়।

এতে বাংলাদেশ দলের নেতৃত্ব দেন বাণিজ্য সচিব মাহবুব আহমেদ এবং মায়ানমার দলের নেতৃত্ব দেন ডেপুটি মিনিস্টার ড. পুইনত সান।

মাহবুব আহমেদ বাণিজ্যিক স্বার্থে উভয় দেশের মধ্যে বহুপাক্ষিক যোগযোগের উপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ৭ বছর বাংলাদেশ মায়ানমার বিমান যোগাযোগ বন্ধ থাকার পর ডিসেম্বরে ফের চালু হওয়ায় মায়ানমার সরকারকে ধন্যবাদ। শীঘ্রই নৌচলাচল চুক্তিও সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এছাড়াও তিনি সড়ক যোগাযোগের উপর গুরুত্বারোপ করেন। মায়ানমার পক্ও এসবের সাথে একমত পোষণ করেন।

সভায় কৃষি ও মৎস ক্ষেত্রে গবেষণা ও বাণিজ্য বৃদ্ধির জন্য পারস্পরিক সহযোগিতা বিষয়ক দুটি জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করার সিদ্ধান্ত হয়। সভা শেষে যৌথভাবে এ প্রস্তাব চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন তারা।

বাংলাদেশের কৃষি মন্ত্রণালয়, মৎস ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, অভ্যন্তরীন সম্পদ বিভাগের জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান ও পরিবহন মন্ত্রণালয়, জালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এবং অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা, মায়ানমারে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত অনুপ কুমার চাকমা, এফবিসিসিআই-এর সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমদ এবং সংশ্লিস্ট ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবর্গ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালে মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরোধ মামলায় বাংলাদেশের পক্ষে রায় দেন সমুদ্র আইন-সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল (ইটলস)। ফলে বঙ্গোপসাগরে ২০০ নটিক্যাল মাইল অর্থনৈতিক এলাকায় এবং এর বাইরে মহীসোপান এলাকায় বাংলাদেশের নিরঙ্কুশ অধিকারের আইনগত স্বীকৃতি মেলে।

এস রহমান/