কবুতর পালন করে সাবলম্বী রাজশাহীর প্রতিবন্ধী বাবু

rajshahi

rajshahiরাজশাহীর পুঠিয়ায় কবুতর পালন করে সাবলম্বী হয়েছেন প্রতিবন্ধী শহিদুল ইসলাম বাবু। সে উপজেলার বেলপুকুর ইউনিয়নের জামিরা গ্রামে এই কবুতরের খামারটি গড়ে তুলেছিলেন। এই খামার থেকেই তিনি প্রতিমাসে ৫০ হাজার টাকা আয় করেন।

জানা যায়, শহিদুল ইসলাম বাবু এক সময় সুস্থ সবল ছিলেন। কিন্তু একটি দুর্ঘটনায় তার দুটি হাত কেটে ফেলার কারণে তিনি প্রতিবন্ধী জীবনযাপন করছিলেন। দুটি হাত কেটে ফেলায় কোনো কাজ করতে পারছিলেন না তিনি। এ সময় গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে কবুতর পালন দেখে তিনি কবুতর পালন শুরু করেন।

প্রথমে তিনি দেশীয় দুই জোড়া কবুতর দিয়ে যাত্রা শুরু করেন। গত একদশক ধরে তিনি কবুতর পালন করে আসছেন। তারপর ছোট একটি খামার তৈরি করেন। বাবুর খামারে দেশি-বিদেশি মিলে প্রায় পঞ্চাশ জাতের কবুতর রয়েছে। এর মধ্যে জার্মানি, ভারতীয়, হল্যান্ড, অমেরিকানসহ বিভিন্ন ধরনের কবুতর রয়েছে। এসব কবুতরের বিভিন্ন রকমের নাম রয়েছে। এদের মধ্যে কালো পটার, হলুদ পটার, জ্যাকোপিন, স্যালন, ড্যামেজ ক্যাম, নোটন উল্লেখযোগ্য।

প্রথমে বিভিন্ন জাতের কবুতর একসঙ্গে কোথাও না পাওয়ার ফলে তার খামারে বিভিন্ন জাতের কবুতর সংগ্রহ করতে কিছুটা অসুবিধায় পরতে হয়েছিল। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নিয়ে তা সংগ্রহ করেছেন তিনি। এখন তার কাছ থেকে কবুতর পালনকারীরা বিভিন্ন জাতের কবুতর সংগ্রহ করছে। বাবুর খামার থেকে একজোড়া কবুতর একহাজার থেকে বিশহাজার টাকায় বিক্রি হয়। বর্তমানে বাবুর মাসিক আয় পঞ্চাশ হাজার টাকা। এখন বাবু কবুতর পালন করে সচ্ছলভাবে জীবনযাপন করছেন।

বাবু জানায়, কবুতর পালন করে একজন মানুষ সাবলম্বী হতে পারে। কবুতর পালনে বেশি শ্রম দিতে হয় না। কবুতর একটি সৌখিন ও পোষাপাখি। এদেরকে যত্ন সহকারে পালন করতে হয়। এদের তেমন কোনো রোগবালাই নাই। ঠিকমত খাবারের দিকে নজর রাখতে হয়। কবুতর পালন করে কম শ্রমে অধিক লাভবান হওয়া সম্ভব বলে বাবু মনে করেন।

কেএফ