আবারও মহসেন জুট মিলে ৬ মাসের লে-অফ ঘোষণা

mahasen jute mills

mahasen jute millsখুলনার শিরোমনি শিল্পাঞ্চল মহসেন জুট মিল আবারও ছয় মাসের লে-অফ (অবৈতনিক ছুটি) ঘোষণা করেছে। এর ফলে মিলটি চালু হওয়ার আর কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।

বৃহস্পতিবার রাতে লে-অফের নোটিশটি মিলের প্রধান গেটে টাঙ্গিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে পর পর ৫ম দফা মিলটি লে-অফ ঘোষণা করায় শ্রমিকদের মাঝে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

মিলের ভারপ্রাপ্ত প্রকল্প প্রধান মোঃ ফজলুর রহমানের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মিলের আর্থিক ও নানাবিধ সংকট দূর না হওয়ায় পুনরায় ১৮ জানুয়ারি থেকে আগামি ১৬ জুলাই পর্যন্ত ১৮০ দিন লে-অফের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। বর্ধিত লে-অফের সময় ক্ষতিপুরণের টাকা মিল চালুর পরে পরিশোধ করা হবে।

মিলের সিবিএ সভাপতি মো: সুলতান মোল্লা জানান, মিলটি প্রথমদফা ৪৫ দিন লে-অফ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। যার মেয়াদ ছিল ২২ জুন থেকে ৫ আগষ্ট এবং দ্বিতীয় দফায় ৬ আগষ্ট থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৪৫ দিন এবং তৃতীয় দফায় ২০ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত ৪৫ দিন। কর্তৃপক্ষ মিলটি চালু না করে পুনরায় ৪র্থ দফায় ৪ নভেম্বর থেকে ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত মোট ৭৫ দিন লে-অফ ঘোষণা করেন। এর আগে সর্বশেষ ৫ম দফায় ১৮০ দিন লে-অফ ঘোষণা করা হয়েছে।

মিলটির সভাপতি আরও বলেন, দীঘদিন মিলটি বন্ধ থাকায় মিলের শ্রমিক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পরিবার পরিজন নিয়ে অসহায় ও দুর্বিসহ জীবনযাপন করছে। এ সময় তিনি প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্রের এলাকায় মহসেন জুট মিলটি অবস্থিত হওয়ায় তার সুদৃষ্টি কামনাসহ যথাযথ ব্যবস্থা নিতে আহবান জানিয়েছেন ।

মিলের প্রকল্প প্রধান মোঃ ফজলুর রহমান জানান, গত কয়েকবছর ধরে উৎপাদিত পণ্য রপ্তানি করতে পারছি না। তিনি আরও দাবি করেন, বিশ্ববাজারে পাট ও পাটজাত দ্রব্য মন্দা বাজারের কারণে তাদের উৎপাদিত কাপেটিং ব্যাকিং ক্লথের (সিবিসি) বিশ্ববাজারে বর্তমানে কোনো চাহিদাই নাই। তাছাড়া উৎপাদিত পণ্য বর্তমানে বিক্রি করলে টন প্রতি ৪০/৫০ হাজার টাকা লোকসান দিয়ে বিক্রি করতে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, এছাড়া রুপালী ব্যাংক লিমিট না ছাড়ায় মিলটির আর্থিক সংকট চরমে এসে দাঁড়িয়েছে। ব্যাংক থেকে লোন পেলেই লে-অফের মেয়াদ শেষের আগেই মিলটি চালু করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু ব্যাংক এই লোনের টাকা দিতে গড়িমসি করায় মিলটি চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে মিলটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।

মিলের সিবিএ সাধারণ-সম্পাদক শেখ আ. রশিদ বলেন, মালিক মিল চালাতে ব্যর্থ হলে বার বার লে-অফ না করে শ্রমিকদের ফাইনাল পেমেন্ট দিয়ে মিল একেবারেই বন্ধ করে দিক। এই সময় তিনি আরও বলেন, হয় চুড়ান্ত বিলের টাকা পরিশোধ করা হোক নতুবা অনতিবিলম্বে মিল চালু করা না হলে রাজপথ-রেলপথ অবরোধ করে খুলনা অচল করার কঠিন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

কেএফ