নেতৃত্ব শূন্যতাই আমাকে রাজনীতির মাঠে নিয়ে এসেছে: আরিফ খান জয়

আরিফ খান জয়

আরিফ খান জয়দক্ষতা আর সাহসিকতা নিয়ে কাউকে অবশ্যই পরিবর্তনের জন্য এগিয়ে আসতে হয়। আর এই পরিবর্তনের মানসিকতা নিয়েই দেশের চরম নেতৃত্বশূন্যতার মাঝে নিজেকে ফুটবলের মাঠ থেকে রাজনীতির মাঠে নিয়ে এসেছেন আরিফ খান জয়।

অর্থসূচকের সাথে একান্ত আলাপচারিতায় এসব কথা জানান সাবেক এই জাতীয় ফুটবলার ও বর্তমান সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপ-মন্ত্রী।

জয়ের কথা মতে, ফুটবল ছেড়ে হঠাৎ করেই রাজনীতিতে আসেন নি। ছাত্র রাজনীতির সাথেও সম্পর্ক ছিল তার। ছাত্র সংসদের নির্বাচিত জি এস ছিলেন মধ্য মাঠের এই তারকা। তাছাড়াও পারিবারিকভাবেও তিনি ক্রীড়া ও রাজনীতির ঐতিহ্যে বড় হয়েছেন।

তিনি মনে করেন, স্বাধীনতার ৪২ বছর পরেও জাতি হিসেবে আমাদের অনেক কম পরিবর্তন হয়েছে। আর এ অবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তনকে আরও বেগবান করতে তরুণ ও যুব সমাজকেই এগিয়ে আসতে হবে বলে মনে করেন তিনি।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের বিভিন্ন খাতে অভূতপূর্ব পরিবর্তন হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বিগত সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের চিত্র তুলে ধরেন। তাঁর মতে উন্নয়নের জন্য গণতন্ত্রের স্থিতিশীলতা থাকা আবশ্যক।

তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্রীড়ামোদিতার কথা উল্লেখ করে বলেন, আওয়ামী লীগের আমলেই ক্রীড়া ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় কে আলাদা করে পূর্ণাঙ্গ ক্রীড়া মন্ত্রণালয় গঠন করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনকে অনেক বেশি সমৃদ্ধ করা হবে।

তরুণ ও যুব সমাজের উন্নয়নে কি ধরনের ব্যবস্থা গ্রহন করবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমাদের যুবসমাজ অনেক মেধাবী ও দক্ষ। তারা লক্ষ্য অর্জনের জন্য অনেক বেশি উদগ্রীব”।

যুব সমাজকে ধর্মান্ধ না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের পাঁচ কোটি যুবকের কাছেই আমি যেতে চাই। যুব সমাজের সচেতনতা বৃদ্ধির সাথে সাথে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা গেলে বেকারত্ব দুর হবে।

এছাড়া যুব কল্যাণ তহবিল থেকে বেকার যুবকদের সুদমুক্ত ঋণ সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান তিনি।

যুব সমাজে মাদকের ভয়াবহতা দূর করার ক্ষেত্রে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “খাদ্যের অভাবে মানুষ আত্মহত্যা করে না বরং ভালবাসার অভাবে আত্মহত্যার প্রবণতা দেখা যায়। তাই মাদকাশক্তদের ভালবেসেই তাদেরকে মাদক গ্রহন থেকে বিরত রাখা উচিত।

বাংলাদেশে মাদকের উৎস ও সরবরাহ বন্ধ করতে কঠোর আইন করার কথা বলেন তিনি।

ফুটবল ও ক্রিকেটসহ খেলা-ধূলার উন্নয়নের জন্য মহানগরী, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে মাঠ সংস্কার করতে হবে। ক্রীড়াঙ্গনকে হরতাল ও অবরোধের আওতামুক্ত রাখতে তিনি আহ্বান জানান।

সবার মাঝে নির্ভেজাল দেশপ্রেম থাকলে আইন করে দুর্নীতি বন্ধ করা লাগে না- এমন মন্তব্য করে তিনি জনপ্রতিনিধিদের জনসম্পৃক্তা বৃদ্ধির কথা বলেন।