প্রধানমন্ত্রী পদ প্রার্থী হচ্ছেন না রাহুল

rahul-gandhi

rahul-gandhiআগামি মে মাসে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে ভারতের কংগ্রেস পার্টির প্রধানমন্ত্রী পদ প্রার্থী হচ্ছেন না রাহুল গান্ধি। ক্ষমতাসীন দলটির সভানেত্রী, রাহুলের মা সোনিয়া গান্ধি বৃহস্পতিবার রাতে এক বৈঠকে এ ঘোষণা দিয়েছেন। খবর দ্য হিন্দুস্তানের।

এর আগে গতকালও মনে করা হচ্ছিল, আজ শুক্রবার নয়াদিল্লীতে আনুষ্ঠানিকভাবে দলটির প্রধানমন্ত্রী পদে প্রার্থী হিসেবে রাহুল গান্ধীর  নাম ঘোষণা  হতে পারে।

বৈঠকে সোনিয়া জানান, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাহুল যে প্রার্থী হচ্ছেন না এ- ব্যাপারে তার সিদ্ধান্ত চুড়ান্ত। আগামি নির্বাচনে কংগ্রেস সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত।  ভারতের স্বাধীনতাপরবর্তী রাজনীতিতে নেহরু-গান্ধী পরিবারের সদস্যরাই প্রাধান্য বিস্তার করে আসছেন। সোনিয়া গান্ধী এখন কংগ্রেসের সভানেত্রী।

তবে কংগ্রেসের নির্বাচনী প্রচারের কাজে রাহুল প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানান তিনি।

২০০৪ সালের নির্বাচনে কংগ্রেসের সাফল্যের পেছনে তিনিই মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। ২০১৪ সালের নির্বাচনেও আমাদের বাব-দাদাদের বংশধররাই লড়াই করবে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী নিয়ে কংগ্রেস এখন কঠিন সময় পার করছে। তবে নির্বাচনের ব্যাপারে আমার পার্টি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।  আমি ক্ষমতাসীন পার্টির  অতীতকে স্বরণ করিয়ে দিতে চাই।

তিনি বলেন, দীর্ঘ এক দশক পরে কংগ্রেস ভারতীয় জনতা পার্টির বিরুদ্ধে লড়তে যাচ্ছে। এমনিতেই দেশের অর্থনৈতিক শ্লথগতি ও কংগ্রেসের বিরুদ্ধে দূর্নীতির অভিযোগ রয়েছে প্রচুর। তাই নতুন হিসেবে রাহুল প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী দেওয়া ঠিক হবে না। এছাড়া তার যোগ্যতা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে।

মনমোহন সিংকে প্রধানমন্ত্রী করে দুই মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার পর জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়ায় কংগ্রেস মে মাসে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনে পরাজয় ঠেকাতে রাহুলকে সামনে রাখা ঠিক হবে না বলে মনে করেন তিনি।

এ দিকে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী হলে তা হবে দুর্ভাগ্যজনক বলে মন্তব্য করেছেন আম আদমি পার্টি নেতা কুমার বিশ্বাস। তিনি রাহুল গান্ধীর বিপরীতে আমেথির আসনে প্রার্থী হবেন। গত মঙ্গলবার এক সাক্ষাত কারে রাহুল জানান, তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত বলে জানানোর প্রতিক্রিয়ায় এই মন্তব্য করেন কুমার।

কুমার বলেন, ‘তাকে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করে ভারত নিজের দুর্ভাগ্য ডেকে আনবে। এতে দেশ আরো রসাতলে যাবে। কারণ পারিবারিক পরিচয়ের ওপর ভিত্তি করে জনগণ তাকে এতদূর নিয়ে এসেছে।

এস রহমান/