সরকারের আন্তর্জাতিক সমর্থনের পালে নতুন হাওয়া

new_ministryসদ্য গঠিত দশম সংসদের সরকারি দলের প্রতি আন্তর্জাতিক সমর্থনের পালে নতুন হাওয়া লেগেছে। বিশ্বের মোট ১০টি দেশ ও সংস্থার পর এবার শেখ হাসিনার নতুন সরকারের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট। গতকাল বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় পার্লামেন্টে উত্থাপিত এক প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে শুরু হওয়া আলোচনায় বাংলাদেশে সন্ত্রাসী কাজে লিপ্ত দলগুলোকে নিষিদ্ধ করার বিষয়টি বেশ গুরুত্ব পায়। আর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা মনে করছেন বর্তমান সরকারের প্রতি ইউরোপীয় পার্লামেন্টের এই আহ্বান কার্যত সরকারকে সমর্থন দেওয়া।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রভাষক আশরাফুল আজাদ চৌধুরী জানান, একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা কোনো রাষ্ট্র বা সরকারকে কোনো কাজ করার আহ্বান জানায় তখন সংস্থাটি ওই রাষ্ট্র বা সরকারকে মেনে নিয়েই আহ্বান জানায়।

আশরাফুল আজাদের মতে, ইউরোপীয় পার্লামেন্ট বর্তমান সরকারের প্রতি সন্ত্রাসী সংগঠন ও দলগুলো নিষিদ্ধ করার যে আহ্বান জানিয়েছে তা সরকারের প্রতি ওই সংস্থাটির প্রচ্ছন্ন সমর্থন নির্দেশ করে।

তবে আজাদ ইউরোপীয় পার্লামেন্টে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে গতকালের গৃহীত প্রস্তাবের অন্য বিষয়গুলোও গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করার পক্ষে।

তার মতে, ওই পার্লামেন্টে জামায়েতকে জঙ্গী সংগঠনের তালিকায় রেখে বিএনপিকেও দলটি ছেড়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। তাই এখানে পার্লামন্টের প্রধান আগ্রহের জায়গা জামায়েত বা অনুরুপ জঙ্গী সংগঠন।

প্রসঙ্গত, গতকাল সদ্য সমাপ্ত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে সহিংস ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একটি প্রস্তাব ইউরোপীয় পার্লামেন্টে গৃহীত হয়। ওই প্রস্তাবে বাংলাদেশে নির্বাচন ঘিরে ব্যাপক সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানানো হয়। সেই সাথে বিরোধী রাজনীতিকদের মুক্তি দেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়।

দেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল বিএনপির প্রতি জামায়েত ইসলামকে ছেড়ে দেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়।

তবে ওই প্রস্তাবে সন্ত্রাসী কাজে লিপ্ত দলকে নিষিদ্ধ করার ব্যপারে সবচেয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রস্তাবে বলা হয়, গত বছরের শুরু থেকে সহিংসতা ও প্রাণহানির অধিকাংশ ঘটনাই ঘটেছে বিরোধী দল ও জঙ্গিদের কারণে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের কর্মীরাও বিরোধী দলের সমর্থকদের ওপর হামলা চালিয়েছে।

সংস্থাটি সেসময় বাংলাদেশের রাজনৈতিক অচলাবস্থায় উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং দেশের দলগুলোর প্রতি পারস্পারিক শ্রদ্ধাবোধের সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বান জানায়। এছাড়া প্রস্তাবে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সংকট ও সহিংসতার বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরে গত এক বছরে তিন শতাধিক প্রাণহানি ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা-নির্যাতনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগও প্রকাশ করা হয়।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘ইউরোপিয়ান কনজারভেটিভস অ্যান্ড রিফর্মমিস্ট’ (ইসিআর) গ্রুপের চার্লস ট্যানক ও পাওয়েল রবার্ট কোয়ালের এই নিন্দা প্রস্তাবটি তোলেন।

এদিকে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্সে পেশ করা কিছু প্রশ্নের জবাবে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিউ রবার্টসন জানিয়েছেন, বাংলাদেশে ভীতিমুক্ত অংশগ্রহণমূলক নতুন একটি নির্বাচনের জন্য নতুন সরকারসহ সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত আছে।

অন্যান্য দেশ ও সংস্থার মতো ইউরোপীয় পার্লামেন্টও সতর্ক প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছে।সে জন্য অবশ্য তারা সাতটি সুনির্দিষ্ট বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।প্রস্তাবে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতা, বিশেষ করে নারী-শিশু, ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুর ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে প্রাণহানির ঘটনায় শোক প্রকাশ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া সংঘাত-সহিংসতা বন্ধ, গণতান্ত্রিক জবাবদিহি নিশ্চিতের পথ তৈরি, স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান, ক্ষমতার বাইরে থাকা দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের গ্রেপ্তার ও কারাবন্দি রাখার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ, গুরুতর সহিংস ঘটনায় বিরোধী দলের (গত সংসদের) জড়িত থাকার কঠোর নিন্দা, বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সুরক্ষা দেওয়ার আহ্বান জানাতে হবে বলে প্রস্তাবে বলা হয়।