সুচিত্রার গ্রামের বাড়ি পাবনাতে শোকের ছায়া

Suchitra-Sen

Suchitra-Senপাবনার এক সম্ভ্রান্ত হিন্দু পরিবারে ১৯৩১ সালের ৬ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন এই কিংবদন্তী অভিনেত্রী সুচিত্রা সেন। তার বাবার নাম করুণাময় দাশগুপ্ত এবং মা ইন্দিরা দাশগুপ্ত। যদিও তিনি আজ সুচিত্রা সেন নামে পরিচিত কিন্তু শৈশবে তার নাম ছিল রমা দাশগুপ্ত। এই মহানায়িকার জীবনের ষোলটি বছর কেটেছে এই পাবনা শহরে। তার মৃত্যুতে তার পৈতৃক নিবাস পাবনাতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তার মৃত্যুতে মন্দিরে মন্দিরে চলছে পূজার আয়োজন। বিভিন্ন সংগঠন হাতে নিয়েছে বিভিন্ন কর্মসূচি।

মৃত্যুর পূর্বে এই মহান শিল্পীর শেষ ইচ্ছা ছিল তার পৈত্রিক বাড়ি পাবনাতে আসবেন। এমনও শোনা গেছে তিনি পরিবারের কাছে ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তার শেষকৃত্য যেন পাবনার পৈতিক ভিটায় হয়।

১৯৩১ সালের ৬ এপ্রিল বর্তমান সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার ‘ভাঙ্গাবাড়ি’ গ্রামে নানা রজনীকান্ত সেনের বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন সুচিত্রা সেন। তার দাদার পূর্ব পুরুষদের বাড়ি ছিল পাবনা জেলার সুজা নগর উপজেলার গোপালপুর মহল্লার হেমসাগর লেনে। একতলা পাকা এ বাড়িটাতেই কেটেছে সুচিত্রা সেনের শৈশব। এথানেই তিনি বেড়ে উঠেছেন। শৈশবে উচ্ছ্বাস আর আনন্দে মাতিয়ে রাখতেন সারা বাড়ি। সে সময় তার বাবা করুণাময় দাশ গুপ্ত ছিলেন পাবনা পৌরসভার সেনেটারি ইন্সপেক্টর। মা ইন্দিরা দাশগুপ্ত ছিলেন গৃহিনী।

বিয়ের পর স্বামী দিবানাথ সেনের সেন যুক্ত করে হয়ে যান রমা সেন। পরে অবশ্য সিনেমায় আসেন সুচিত্র সেন নামে। সুচিত্রা সেনই প্রথম ভারতীয় অভিনেত্রী যিনি কোনো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কার পান। ১৯৬৩ সালে তিনি ‘সাত পাকে বাঁধা’ সিনেমার জন্য মস্কো চলচ্চিত্র উৎসবে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার পান।

১৯৭৮ সালে সুদীর্ঘ ২৫ বছর অভিনয়ের পর তিনি চলচ্চিত্র থেকে অবসরগ্রহণ করেন। এরপর তিনি লোকচক্ষু থেকে আত্মগোপন করেন এবং রামকৃষ্ণ মিশনের সেবায় ব্রতী হন। ২০০৫ সালে দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারের জন্য সুচিত্রা সেন মনোনীত হন, কিন্তু ভারতের প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে সশরীরে পুরস্কার নিতে দিল্লী যাওয়ায় আপত্তি জানানোর কারণে তাকে পুরস্কার দেয়া হয় নি। তার মেয়ে মুনমুন সেন এবং নাতনী রিয়া সেন ও রাইমা সেনও চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।

এই মহানায়িকার মৃত্যুতে তার গ্রামের বাড়ি পাবনাতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এই মহানায়িকার মৃত্যুতে শোকাহত পাবনার অনেক মন্দিরে এখন তার নামে এখন প্রার্থনার আয়োজন চলছে। এছাড়া বিভিন্ন মন্দিরে মন্দিরে আয়োজন করা হচ্ছে পূজার। বিভিন্ন সংগঠন হাতে নিচ্ছে বিভিন্ন কর্মসূচি।