বিদায় মহানায়িকা

suchitra-senবাংলা চলচ্চিত্রের মহানায়িকা সুচিত্রা আর নেই। তিনি শুক্রবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে কলকাতার একটি হাসপাতালে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান। তিনি দীর্ঘদিন যাবত কলকাতার বেল ভিউ হাসপাতালের চিকিৎসাধীন ছিলেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে ভারতের বিভন্ন সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে শ্বাসকষ্ট শুরু হয় সুচিত্রার। রক্তে  অক্সিজেনের মাত্রা কমে যায় আশঙ্কাজনক ভাবে। মহানায়িকাকে ফের নন ইনভেসিভ ভেন্টিলেশন দেওয়া হয়। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। সকলকে কাঁদিয়ে সকালে না ফেরার দেশে চলে যান রমা।

এদিকে এই মহানায়িকার এই মহাবিদায়ে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর পশ্চিম বাংলার মূখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি সরাসরি হাসপাতালে গিয়েই সময় দিচ্ছেন তার পরিবারকে।

সালটা ১৯৫২। ধনী ব্যবসায়ী আদিনাথ সেনের পুত্রবধূ রমা পা রাখলেন রুপালী পর্দার জগতে। ‘শেষ কোথায়’ দিয়ে শুরু হলেও প্রথম ওই ছবিটি কোথাও মুক্তি পায়নি। পরের বছরই মুক্তি পায় নির্মল দাসের ছবি সাড়ে চুয়াত্তর। আর রমাও পেয়ে যান নতুন নাম সুচিত্রা সেন।

দেশ সবে স্বাধীন হয়েছে। কিন্তু স্বাধীনতার সঙ্গে এসেছে ক্ষুধা, মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্বের মতো হাজারো সমস্যা। দেশভাগ পরবর্তী উদ্বাস্তু সময়ে জর্জরিত বাঙালি কোথায় যেন শান্তি খুঁজছিল। বাঙালি জীবনের সেই হারিয়ে যাওয়া সুরই সেলুলয়েডে নতুন করে বেঁধেছিলেন সুচিত্রা-উত্তম। পাশের বাড়ির ছেলে উত্তমের সঙ্গে স্বপ্নসুন্দরী সুচিত্রার ভালবাসার গল্পে বাঙালি খুঁজে পেয়েছিল অপরূপ এক জাদুকাঠি। অগ্নিপরীক্ষা, শাপমোচন, সবার উপরে, সাগরিকা, সেলুলয়েডের পর্দায় শুরু হয়ে গিয়েছিল বাঙালির স্বপ্নের উড়ান।

তবে উত্তম ছাড়াও সুচিত্রা ছিলেন। সেখানেই জয় অভিনেত্রী সুচিত্রার। সেই ১৯৫৫ সালে হিন্দি ছবি দেবদাসে পারোর ভূমিকায় সুচিত্রা পাল্লা দিয়ে অভিনয় করেছিলেন দীলিপ কুমারের সঙ্গে। ঠিক চার বছর পর দীপ জ্বেলে যাই ছবিতে নার্স রাধার ভূমিকায় সকলের মন ভরিয়ে দিয়েছিলেন সুচিত্রা। প্রথম আন্তর্জাতিক সম্মানও সুচিত্রার জীবনে এসেছিল উত্তমকে ছাড়াই। সাত পাকে বাঁধা ছবির জন্য ১৯৬৩ সালে মস্কো ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে সেরা অভিনেত্রীর শিরোপা পান সুচিত্রা সেন। এই বছরই বোধহয় অভিনেত্রী সুচিত্রার সেরা বছর। এই বছরই তৈরি হয় উত্তর ফাল্গুনী। পান্নাবাই আর সুপর্নার দ্বৈত চরিত্রে সুচিত্রা। ইন্দিরা গান্ধীর আদলে তৈরি আরতী দেবীর চরিত্রে গুলজারের প্রথম পছন্দ ছিল সুচিত্রা সেন। কথা রেখেছিলেন তিনি। তৈরি হয়েছিল আঁধি।
১৯৭৮ সালে সুদীর্ঘ ২৫ বছর অভিনয়ের পর তিনি চলচ্চিত্র থেকে অবসরগ্রহণ করেন। এর পর তিনি লোকচক্ষু থেকে আত্মগোপন করেন এবং রামকৃষ্ণ মিশনের সেবায় ব্রতী হন।

২০০৫ সালে দাদাসাবেহ ফালকে পুরস্কারের জন্য সুচিত্রা সেন মনোনীত হন, কিন্তু ভারতের প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে সশরীরে পুরস্কার নিতে দিল্লী যাওয়ায় আপত্তি জানানোর কারনে তাকে পুরস্কার দেওয়া হয় নি।

তার মেয়ে মুনমুন সেন এবং নাতনী রিয়া ও রাইমা সেনও চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।