শ্রমিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগ

পোশাক কারখানা
ছবি: ফাইল ছবি

পোশাক কারখানাকারখানা ভাংচুরের মিথ্যা অজুহাতে রাজধানীতে একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে বলে দাবি করেছে কারখানার শ্রমিকরা। শ্রমিকদের অভিযোগ, মিরপুরের ভিশন অ্যাপারেলস লিমিটেডের ১৬৫ জন শ্রমিকের নামে মিথ্যা মামলা করেছে কর্তৃপক্ষ।

তাদের দাবি, কারখানা ভাংচুর নয় বরং বর্ধিত বেতন চাওয়াতে মিথ্যা ও হয়রানি মূলক এ মামলাটি করা হয়েছে।

এদিকে ওই মামলার কারণে ইতোমধ্যে ৯ জন শ্রমিককেও গ্রেপ্তার করেছে রাজধানীর কাফরুল থানা পুলিশ। পুলিশ জানায় গত ১৪ জানুয়ারি মঙ্গলবার এই মামলা দায়ের করা হয়েছে।

শ্রমিকদের অভিযোগ, নিম্নতম মজুরি বোর্ডের সরকারি গেজেট অনুযায়ী বেতন না দেওয়ায় তারা গত ১৩ জানুয়ারি কর্তৃপক্ষের নিকটে বিষয়টি উপস্থাপন করে।এতে কর্তৃপক্ষ তাদের সহযোগিতা না করে উল্টো   উত্তেজিত হয় এবং শ্রমিকদের গালি-গালাজ করে।

এ নিয়ে শ্রমিকদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হলে ওই দিন বিকেল ৫টায় কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হয়। আর পরের দিন ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে কারখানা বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়।

তবে শ্রমিকদের অভিযোগ, এরই মধ্যে কারখানা ভাংচুরের অভিযোগ এনে ১৬৫ জনের নামে রাজধানীর কাফরুল থানায় মামলা দায়ের করেছে কর্তৃপক্ষ।তাছাড়া পরবর্তীতে কারখানার মুল গেটে ওই ১৬৫ জনের ছবি টানিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানায় শ্রমিকরা।

জানা যায়, মিরপুরে ১৩ নং সেকশনে অবস্থিত ওই কারখানায় ৫ হাজার পোশাক শ্রমিক কাজ করে।

শ্রমিকরা আরও জানায়, ওই কারখানায় বাকি শ্রমিকদের প্রবেশের ক্ষেত্রে অঙ্গিকার নামাতে স্বাক্ষর করতে হচ্ছে বলে জানায় তারা। অঙ্গিকার নামাতে নানা শর্ত দিয়ে শ্রমিকদের স্বাক্ষর করাতে বাধ্য করানো হচ্ছে বলে দাবি তাদের।

এ বিষয়ে বিজিএমইএর সহ-সভাপতি শহীদুল্লাহ আজীম মালিকের বরাত দিয়ে অর্থসূচককে জানান, শ্রমিকরা বর্ধিত বেতনের বাইরে আরও অন্যান্য ভাতা চাইছে বলে জানান তিনি। এতে তারা কারখানা ভাংচুর করেছে বলে বলে দাবি করেন তিনি।

তবে শ্রমিক নেতা সিরাজুল ইসলাম রনি জানান, বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য বিজিএমইএ, কারখানা মালিক ও শ্রমিকপক্ষ মিলে তিন সদস্যের একটা কমিটি করা হয়েছে।বিষয়টি তদন্তের জন্য কমিটিকে ৭ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। তদন্তের পর বিষয়টি সমাধান করা হবে বলে জানান তিনি।

তবে এর মধ্যে ওই ১৬৫ জন শ্রমিককে কারখানার গেটে না যাওয়ার জন্য বলেন তিনি। তাছাড়া তিনি কারখানা মালিকের দেওয়া অঙ্গিকার নামায় স্বাক্ষর না করতে শ্র্রমিকদের বলে দেন তিনি।