একক গ্রাহক ঋণসীমা সর্বোচ্চ ৩৫ শতাংশ

বাংলাদেশ ব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংকব্যাংকের একক গ্রাহক ঋণসীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে ব্যাংকগুলো তাদের ফান্ডেড ও নন-ফান্ডেড মূলধনের সর্বোচ্চ ৩৫ শতাংশ  একক কোনো ব্যক্তি বা গ্রুপকে ঋণ হিসেবে দিতে পারবে। তবে মূল অর্থের ফান্ডেড দায় কোনো অবস্থায় মূলধনের ১৫ শতাংশের বেশি হতে পারবে না। এর আগে ব্যাংকগুলো তাদের মোট দায়ের ১০ শতাংশ পর্যন্ত কোনো একক ব্যক্তি বা গ্রুপকে ঋণ দিতে পারতো।

এছাড়া রপ্তানি খাতে অর্থায়নের ক্ষেত্রে কোনো এক সময়ে ফান্ডেড ও নন-ফান্ডেড ঋণ মূলধনের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত দেওয়া যাবে, এসময়েও ফান্ডেড দায় মূলধনের ১৫ শতাংশের বেশি হবে না।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে একক গ্রাহক ঋণসীমা সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, সংশোধিত ব্যাংক-কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর আলোকে ব্যাংকের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের লক্ষ্যে একক গ্রাহক ঋণসীমা পুননির্ধারণ করা হয়েছে। এখানে ফান্ডেড দায় বলতে- ঋণগ্রহীতাকে তহবিল দেয়া অথবা গ্রহীতার পক্ষে তৃতীয় কোনো ব্যক্তিকে অর্থায়ন করা বোঝায় এবং নন-ফান্ডেড দায় বলতে- ব্যাংকের জমা-খরচের হিসাবে না থাকা ঋণকে বুঝায়। এই দায় সৃষ্টি করা হয় ভবিষ্যতে ঋণপত্র, গ্যারান্টি, স্বীকৃতি বা কমিটমেন্টের মাধ্যমে তহবিল সহায়তা দেওয়ার জন্য।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি বা গ্রুপকে মূলধনের ১০ শতাংশের সমান বা তার বেশি অর্থায়ন করা হলে তাকে বৃহৎ ঋণ হিসেবে গণ্য করা হবে। ব্যাংকের নিট শ্রেণীকৃত ঋণের হারের ওপর ভিত্তি করে বৃহৎ ঋণ অনুমোদন করতে হবে। এক্ষেত্রে মোট ঋণের শ্রেণীকৃত ৫ শতাংশ পর্যন্ত ৫৬ শতাংশ, ৫-১০ শতাংশ পর্যন্ত ৫২ শতাংশ, ১০-১৫ শতাংশ পর্যন্ত ৪৮ শতাংশ, ১৫-২০ শতাংশ পর্যন্ত ৪৪ শতাংশ এবং ২০ শতাংশের বেশী হলে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃহৎ ঋণের অনুমোদন দেওয়া যাবে। বৃহৎ ঋণ হিসেবে ফান্ডেড দায়ের শতভাগ এবং নন-ফান্ডেড দায়ের ৫০ শতাংশ অন্তর্ভুক্ত হবে।

তবে কোনো পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি যার ৫০ শতাংশ বা তার বেশি শেয়ার বিক্রি করা হয়েছে সেসব প্রতিষ্ঠানকে একক এন্টারপ্রাইজ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। একইভাবে সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান, সরকারের গ্যারান্টি প্রাপ্ত ও বহুজাতিক উন্নয়ন ব্যাংকগুলোর গ্যারান্টি প্রাপ্ত কোনো প্রতিষ্ঠানকে ঋণ সুবিধা প্রদানে বৃহৎ ঋণের প্রদত্ত হিসেব বিবেচিত হবে না।

প্রজ্ঞাপনে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নীতিমালাসহ অন্যান্য নীতি সম্পর্কিত বিষয়গুলো পরিপালনে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া এখনো যে সব ব্যাংকের একক গ্রাহক ঋণ সীমার বাইরে রয়েছে, তা এখনো ঝুঁকিমুক্ত নয়। এ জন্য ব্যাংকগুলোকে নির্ধারিত সীমার মধ্যে ঋণ নামিয়ে আনার পর্যাপ্ত প্রক্রিয়া ও ঋণে নজরদারি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। পাশাপাশি নিয়মিতভাবে বৃহৎ ঋণের তথ্য নির্দিষ্ট ফরমেটে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।