সৌদি যাচ্ছে ৪০০ শ্রমিক, মাথাপিছু খরচ ১৭ হাজার টাকা

nrb saudi

saudi_400সৌদি আরবে আবার উন্মোচিত হয়েছে শ্রমবাজার। দেশটির সরকার সম্প্রতি বাংলাদেশে থেকে নতুন করে ৪০০ শ্রমিক নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। দেশটির শ্রম মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে আরব নিউজের এক প্রতিবেদনে নতুন করে এই নতুন শ্রমিক নেওয়ার বিষয়টি জানানো হয়।

সৌদি সরকারের নতুন এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশ থেকে চারশ’র বেশি শ্রমিক নিবে সৌদি সরকার। আর এই সব শ্রমিকদের ওই দেশে খরচ মাত্র ১৭ হাজার ৫০০ টাকারও কম পড়বে বলে জানান তিনি।

স্বল্প খরচে চারশ’রও বেশি বাংলাদেশি শ্রমিক নেওয়ার ঘোষণায় সৌদি সরকারকে স্বাগত জানিয়েছেন দেশটিতে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকরা।

এতে করে দীর্ঘ ৬ বছর পর প্রথমবারের মতো দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি রপ্তানিতে আশার মুখ দেখছেন তারা। তাদের মতে এর মাধ্যমে আবারও বেশি বেশি রেমিটেন্স আসবে ওই দেশে থেকে।

ধারনা করা হচ্ছে, ২০১৪-১৫ মেয়াদে জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলের সদস্যপদে যে নির্বাচন করবে সৌদি আরব সেখানে সমর্থন দেওয়ার শর্তেই নতুন করে শ্রমিক নেওয়া বিষয়টিতে ইতিবাচক হয়েছে সৌদি সরকার। এ ছাড়া ২০১৪-১৬ মেয়াদে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের সদস্যপদেও নির্বাচনে বাংলাদেশের সমর্থন চায় দেশটি। দুটি ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সৌদিকে সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বাংলাদেশ। সদ্য বিদায়ী পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি সৌদি সফরে গিয়ে বাংলাদেশের সমর্থনের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করে এসেছেন কয়েক দিন আগেই।

ওই সফর শেষে দিপু মনি জানান, সৌদি সরকার বিষয়টিকে অত্যন্ত বন্ধুসুলভ দৃষ্টিতে বিবেচনা করে বাংলাদেশি শ্রমিকদের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করার পাশাপাশি আবারও তার দেশে বাংলাদেশি জনশক্তি নিয়োগের বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে।

প্রসঙ্গত সেই ২০০৮ সাল থেকেই বন্ধ রয়েছে দেশটিতে জনশক্তি রপ্তানি। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় এই শ্রমবাজারটিতে বিগত কয়েক বছরে কেবল শ্রমিক রপ্তানি বন্ধই ছিলোনা, ২০১১ সালে সৌদি সরকারের একটি সিদ্ধান্তের পর সে দেশে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকরা বিপাকে পড়েন। দেশটি তার দেশের বেকারত্বের হার কমাতে ওই সময় যে কোনো কারখানায় ২০ শতাংশ সৌদি নাগরিক থাকা বাধ্যতামূলক করে দেয়।যেসব প্রতিষ্ঠান এ শর্ত পূরণ করতে পারেনি সেগুলো ‘রেড ক্যাটাগরিতে’ পড়ে যায় এবং এ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির শ্রমিকদের আকামা ট্রান্সফার বন্ধ করে দেওয়া হয়। বাংলাদেশি শ্রমিকরা বেশির ভাগই রেড ক্যাটাগরির প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকায় আকামা নবায়ন করতে পারছিল না। আকামা পরিবর্তনের সুযোগ না পেয়ে গত দুই বছরে সৌদিতে কর্মরত প্রায় ৫ লাখ বাংলাদেশি শ্রমিক অবৈধ হয়ে যায়।

দেশটির বাংলাদেশ দূতাবাসের তথ্যমতে, দেশটির সরকার সকল অবৈধ প্রবাসীদের বৈধ হওয়ার জন্য গত ৩ নভেম্বর পর্যন্ত সাধারণ ক্ষমার সময় বেধে দেয়। তবে ওই সময়ের মধ্যে বৈধ না হতে পারা প্রায় ১৬ হাজার শ্রমিককে দেশে ফেরত পাঠায় সৌদি সরকার।

উল্লেখ্য, সৌদিতে বর্তমানে ১০ লাখের বেশি বাংলাদেশি শ্রমিক রয়েছে। এর বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি আমদানি বাড়াতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সৌদি সরকারের সাথে আলোচনা করেন।