রূপ-যৌবন হারিয়েছে গৌরবময় নরসুন্দা

norsunda riber fieldএককালের খরস্রোতা নরসুন্দা নদী এখন যেন মরা খালে পরিণত হয়েছে। যে নদী দিয়ে বছর জুড়ে পালতোলা নৌকা চলতো- ঐতিহ্যবাহী সেই নদী এখন ধানী জমিতে পরিণত হয়েছে। জানা গেছে, ৩০ বছর আগেও সারাবছর পানি থাকতো এই নদীতে। এর আগে নরসুন্দা দিয়ে বড় বড় মহাজনী নৌকা যাতায়াত করতো। তখন সারা দেশের সঙ্গে কিশোরগঞ্জ জেলার নদীপথের যোগাযোগ ছিল। অল্প খরচে চলাচল করতো মানুষজন ও মালামাল আনা নেওয়া করতো ব্যবসায়ীরা। তবে এখন আর সে আগের রূপ নেই নরসুন্দায়।

যে কেউ দেখলে বিশ্বাসই করবে না যে এখানে খরস্রোতা নদী ছিল। জেলার হোসেনপুরের পুরাতন ব্রহ্মপুত্র থেকে উৎপত্তি হয়ে নরসুন্দা নদী কিশোরগঞ্জ শহরের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ইটনা উপজেলার ধনু নদীতে গিয়ে মিশেছে। পাকিস্তান আমলে হোসেনপুরের কাওনা নামক স্থানে নরসুন্দার ওপর আড়াআড়ি বাঁধ নির্মাণের ফলে নদীটি তার স্বাভাবিক নাব্য হারায়। মূলত এরপর থেকেই শুরু হয় অবৈধ দখলদারদের জবর দখলের প্রতিযোগিতা।

অভিযোগ আছে, এ প্রক্রিয়ায় শামিল হন ভূমি অফিসের অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারীরা। তারা মোটা অংকের ঘুষের বিনিময়ে ওইসব ভুমিদস্যূদেরকে কাগজপত্র বানিয়ে দিয়েছেন। যার ফলে কিশোরগঞ্জ শহরের ভিতরে নরসুন্দা নদীটি দিন দিন সরু হচ্ছে এবং দুইপাশে গড়ে ওঠেছে অবৈধ স্থাপনা।

অভিযোগে আছে, এসব স্থাপনাকারীরা প্রথমে অবৈধভাবে নরসুন্দার ভূমি দখল করে। পরে অসাধু ভুমি অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীদের মাধ্যমে কাগজপত্র করিয়ে নেয়। বর্তমানে নদীটির ৩৩ কিলোমিটার খনন করা হচ্ছে। খননকৃত এলাকা ব্যতীত পুরো নরসুন্দার তলদেশে বোরো আবাদের চাষ করছে কৃষকরা।

করিমগঞ্জ জঙ্গলবাড়ির কয়েক কৃষক জানান, নরসুন্দা নদীতে বোরো আবাদ করে যে পরিমাণ ধান পান তা দিয়েই সংসারের সারা বছরের খুড়াকি যোগান হয় তার।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নির্মল কুমার সাহাকে নরসুন্দার তলদেশে কি পরিমাণ বোরো আবাদ হয় তা জিজ্ঞেসা করলে তিনি জানান, উপজেলা ওয়ারী পরিসংখ্যান থাকায় নরসুন্দার তলদেশে আবাদের পরিমাণও তিনি বলতে পারছেন না।

কেএফ