বেশ কিছু অর্জন নিয়ে নতুন বছরে পুঁজিবাজার

dse index
সূচকের ঊর্ধ্বমুখী ধারা

dse1সেকেন্ডারি মার্কেটে তেমন গতিশীলতা না থাকলেও সামগ্রিকভাবে বিদায়ী বছরটা মন্দ কাটেনি পুঁজিবাজারের। বেশ কিছু বড় অর্জন এসেছে আলোচিত বছরে। আর এর উপরে ভর করে আগামি দিনে বাজার নতুন সম্ভাবনার দিকে যাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিদায়ী ২০১৩ সাল পুঁজিবাজারের জন্য ছিল ঘটনাবহুল একটি বছর। এ বছর স্টক এক্সচেঞ্জের ডিমিউচুয়্যালাইজেশন বা মালিকানা থেকে ব্যবস্থাপনা আলাদা করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। সংসদে বিদ্যমান আইন সংশোধনের মাধ্যমে বাড়ানো হয় নিয়ন্ত্রক সংস্থার এখতিয়ার, বিএসইসির নিজস্ব ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করা হয়, পরামর্শক সেবাসহ বেশ কিছু নতুন বিষয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়, নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সদস্য পদ বি ক্যাটাগরি থেকে এ ক্যাটাগিরতে উন্নীত হয়।

ডিমিউচ্যুয়ালইজেশন:পুঁজিবাজারে গত বছরের সবচেয়ে বড় ও আলোচিত বিষয় ছিল ডিমিউচুয়ালাইজেশন। বিদায়ী বছরের এপ্রিল মাসে জাতীয় সংসদে পাস হয় ‘দ্য এক্সচেঞ্জেস ডিমিউচুয়ালাইজেশন অ্যাক্ট-২০১৩’ আইন। যে আইনের ফলে পরবর্তী সময়ে দুই স্টক এক্সচেঞ্জ অলাভজনক প্রতিষ্ঠান থেকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হবে। আইনি বিধান অনুযায়ী, দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জ ডিমিউচুয়ালাইজড এক্সচেঞ্জে পরিণত হয়েছে। যদিও এটির পরিপূর্ণ বাস্তবায়নের প্রধান ধাপসমূহ সম্পন্ন হবে চলতি বছরে।

১৯৬৯ আইন সংশোন:এই আইন সংশোধনের মাধ্যমে বিএসইসি পুঁজিবাজার সংক্রান্ত মামলা দ্রুত নিস্পত্তি করার জন্য স্পেশাল ট্রাইবুনাল গঠনের সুযোগ দেওয়া  হয়। কোথায় এই ট্রাইবুনাল গঠিত হবে এ নিয়ে আগামি সংপ্তাহে প্রঙ্গাপন জারী করতে পারে আইন মন্ত্রণালয়। এছাড়াও এর মাধ্যমে বিএসইসির কর্মকর্তাদের জবাবদিহীতা নিশ্চিত করা, বাংলাদেশ ব্যাংককে অবহিত করে যে কোনো ব্যাংকের কাছ থেকে সন্দেহজনক ব্যাক্তিদের তথ্য সংগ্রহ করা, কমোডিটি পণ্য ও ডেরিভেটিভস চালু করার ক্ষমতা পায় বিএসইস।

১৯৯৩ আইন সংশোধন:এই আইন সংশোধনের মধ্য দিয়ে আর্ন্তজাতিকভাবে তথ্য আদান প্রদানের ক্ষমতা পায় বিএসইসি। আর কোনো কোম্পানিকে পরিমানা করলে কোম্পানির পক্ষ থেকে যদি উচ্চ আদালতে রিট করে তাহলে সে ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ জরিমানা দেওয়ার পর তাদেরকে এই রিট করতে হবে। এছাড়া এ আইনে সরকারের অনুমোদন নিয়ে বিএসইসি পরামর্শক নিয়োগ করতে পারবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মতো বিএসইসির কর্মকর্তারও একই সুযোগ সুবিধা পাবেন। অন্যদিকে এই আইনের বলে এখন থেকে কমিশনের অর্থ কমিশন নিজেই ব্যয় করতে পারবে।

নিজস্ব ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন: দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও ২০১৩ সালের শেষের দিকে আগারগাঁও বিএসইসির নিজস্ব ভবনের ভিত্তি প্রস্তর উদ্বোধন করেন প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা। চলতি বছরে এ ভবনটির কাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

বিএসইসির সদস্য পদ এ ক্যাটাগারিতে উন্নীত:২০১৩ সালের শেষের দিকে ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অব সিকিউরিটিজ কমিশনে (আইওএসসিও) বিএসইসির সদস্য পদ এ ক্যাটাগারিতে উন্নীত হয়। এর ফলে বিএসইসি আন্তর্জাতিকভাবে এনফোর্সমেন্টের জন্য বৃহত্তর সহযোগিতা পাবে। অন্যদেরকেও সহযোগিতা দিতে পারবে। বিএসইসি আইওএসসিওর বিভিন্ন নেতৃস্থানীয় পদে নিয়োগ/নির্বাচন করতে পারবে। ভূমিকা রাখতে পারবে আইওএসসিওর নীতিনির্ধারণে।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও সংস্থাটির মূখপাত্র সাইফুর রহমান অর্থসূচককে বলেন, ২০১২ সালের তুলনায় ২০১৩ সালটি ছিল পুঁজিবাজারের জন্য একটি অর্জনের বছর। ২০১২ সালে বাজারে কিছু অস্থিতিশীলতা থাকলে ১৩ সালে তা কাটিয়ে উঠা সম্ভব হয়।

তিনি বলেন রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও বিএসইসি অনেকগুলি বিষয় অর্জন করেছে। যা আগামি দিনগুলোতে পুঁজিবাজারের উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।