ডিএসই’র ট্রেকহোল্ডার নির্বাচন নিয়ে টানাপোড়েন

DSE_Ropeঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন (ব্যবস্থাপনা থেকে মালিকানা পৃথকীকরণ) পরবর্তী নতুন পর্ষদের পরিচালক নির্বাচন নিয়ে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্যদের একটি প্রভাবশালী অংশ ভোটের পরিবর্তে সমঝোতার মাধ্যমে পরিচালক মনোনীত করার পক্ষে। অন্যদিকে অপর অংশ কোনোভাবেই সিলেকশন বা মনোনয়নের মাধ্যমে পরিচালক ঠিক করার পক্ষে নন। তারা সবার অংশগ্রহণে ভোটের মাধ্যমে পরিচালন নির্বাচন করতে চান।

উল্লেখ, ডিমিউচুয়ালাইজেশন পরবর্তী পরিচালক নির্বাচনে তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। তফসিল অনুযায়ী আগামি ১২ ফেব্রুয়ারি এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আর এ জন্য আগামিকাল (১৬ জানুয়ারি) থেকে ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দেওয়া যাবে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, কিছু ক্ষমতাধর সদস্য চাচ্ছেন ভোটাভোটি না করে ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন পরবর্তী পর্ষদে সাবেক চার জন সভাপতিকে নিয়ে আসতে। কিন্তু বিষয়টিকে ভালো চোখে দেখছেন না অনেক সদস্য। তারা চান নির্বাচন। এমন কী সিলেকশনের বিষয়টি নিয়ে বর্তমান পরিচালকদের মধ্যেও আপত্তি আছে বলে জানা গেছে।

যাদেরকে নতুন বোর্ডে রাখার কথা ভাবছে: নির্বাচন সমঝোতাপন্থী দলটি ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন পরবর্তী পরিচালনা পর্ষদের জন্য এ মুহুর্তে ছয় জন সাবেক সভাপতির কথা ভাবছে। এরা হচ্ছেন -ডিএসই’র বর্তমান সভাপতি আহসানুল ইসলাম টিটু, সাবেক সভাপতি শাকিল রিজভী, আব্দুল হক, আহমেদ ইকবাল হাসান, রকিবুর রহমান এবং ঢাকা ৬ সংসদীয় আসনের সাংসদ ও জাতীয় পার্টির স্থায়ী কমিটির সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ। তবে ভোট এড়িয়ে যাদেরকে পর্ষদে নিয়ে আসার কথা ভাবা হচ্ছে তাদের কেউ কেউ এভাবে পর্ষদে আসতে আগ্রহী নন।

একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, ইতোমধ্যে সাবেক সভাপতি রকিবুর রহমান ও আহমেদ ইকবাল হাসান পর্ষদে আসার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন।

যারা নির্বাচন করতে পারেন: এখন পর্যন্ত ট্রেকহোল্ডার নির্বাচনে সম্ভাব্য ১০ জন প্রার্থীর কথা শোনা গেছে। এরা হচ্ছেন- ডিএসই’র পরিচালনা পর্ষদের বর্তমান সিনিয়র সহ-সভাপতি মুহাম্মদ শাজাহান, সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান খান, সাবেক সভাপতি শাকিল রিজভী, সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি ও বর্তমান পরিচালক আহমেদ রশীদ লালী, পরিচালক খাঁজা গোলাম রসুল, মিনহাজ মান্নান ঈমন, হানিফ ভূঁইয়া, খুজিস্তা নূর-ই-নাহরীন, সিটি ব্রোকারেজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুল ইসলাম রিপন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএসই’র পরিচালক মিনহাজ মান্নান ঈমন অর্থসূচককে বলেন, নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী বৃহস্পতিবার থেকে মনোনয়ন পত্র দেওয়া হবে। সময় আছে আগামি ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত। সময় আছে সবার সঙ্গে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে তা ঠিক করা হবে।

তবে ডিএসই’র সব সদস্য চান যে এই পরিচালনা পর্ষদটি শক্তিশালী হোক। কারণ এটি হবে ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন পরবর্তী প্রথম পর্ষদ। এই পর্ষদে যাতে যোগ্য, মেধাবী, নিষ্ঠাবান, কর্মঠ পরিচালক আসে এমন প্রত্যাশা সব সদস্যের।

ট্রেকহোল্ডার নির্বচনে অংশ গ্রহণ করছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে খুজিস্তা নূর-ই-নাহরীন অর্থসূচককে বলেন, আমি এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেইনি।

তিনি বলেন, তার পরও সবার সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে সিদ্ধান্ত চুড়ান্ত করবো।

ট্রেকহোল্ডার নির্বাচনের তফসিল: ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামি ১৬ জানুয়ারী থেকে ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত মনোনায়ন পত্র সংগ্রহ ও জমা দেওয়া যাবে।

মনোনায়ন পত্র প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ৩০ জানুয়ারি। এদিন যোগ্যপ্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হবে। নির্বাচন সংক্রান্ত যে কোনো অভিযোগ দাখিলের শেষ সময় আগামি ১৯ জানুয়ারি। অভিযোগের শুনানী অনুষ্ঠিত হবে আগামি ২০ জানুয়ারি।

ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন পরবর্তী ডিএসই পর্ষদে ১৩জন পরিচালক থাকবেন। নির্বাচনের মাধ্যমে চার জন শেয়ারহোল্ডার পরিচালক, মনোনয়নের মাধ্যমে ৭ জন স্বতন্ত্র পরিচালক, একজন স্ট্রাটেজিক ইনভেস্টর পরিচালক এবং স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে নিয়ে পর্ষদ গঠিত হবে।

তবে স্ট্র্যাটেজিক ইনভেস্টর ডিরেক্টর (কৌশলগত বিনিয়োগকারী পরিচালক) না পাওয়ায় এ পদটি খালি থাকবে বলে জানা গেছে।

জিইউ