উন্নয়নের ধারা ধরে রাখার প্রতিশ্রুতি সাংসদ বাদশার

badsha

badshaমহাজোট থেকে নির্বাচিত সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশা বলেছেন, ‘গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জনগণের জবাদিহিতার মুখোমুখি হতে হয় ও নিজের কর্মকান্ড তুলে ধরতে হয়। কিন্তু আমার দুর্ভাগ্য যে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জনগণের মুখোমুখি হতে পারিনি। তাই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নিজের কর্মকান্ড সম্পর্কে জনগণকে জানাতে চাই।’

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় লড়াই করতে হয়নি নির্বাচনের মাঠে। জনগণের কাছে তাই তুলে ধরতে পারেন নি নিজের বিগত কর্মকান্ডের খতিয়ান আর আগামী দিনের প্রতিশ্রুতি। বুধবার বেলা ১১টায় নগরের মিয়াপাড়া সাধারণ গ্রন্থাগারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন করে নিজের বিগত দিনের সফলতা ও আগামী দিনের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরলেন রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা।

লিখিত বক্তব্যে ওয়ার্কার্স পার্টির এই পলিট ব্যুরো সদস্য বলেন, ‘নবম জাতীয় সংসদের মেয়াদকালে আমি ৪০ বারের বেশি সংসদে জনগণের হয়ে কথা বলেছি। মানুষের দাবি তুলে ধরেছি। তার অনেক দাবি পূরণ হয়েছে আবর অনেক দাবিই হয়নি। আগামী দিনেও আমি এ অঞ্চলের মানুষের দাবি নিয়ে সংসদে কথা বলতে চাই।’

তাঁর সংসদীয় এলাকায় করা বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ডের ফিরিস্তি তুলে ধরে বাদশা বলেন, গত পাঁচ বছরে আমি আমার উন্নয়ন কর্মকান্ড থেকে দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়নকে আলাদা করে রেখেছিলাম। কেউ এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ তুলতে পারবে না বলে তিনি দাবি করেন।

রাজশাহীতে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করে ফজলে হোসেন বাদশা প্রতিশ্রুতি হিসেবে বলেন, রাজশাহীতে গ্যাস এসেছে। কিন্তু এখনও শিল্প প্রতিষ্ঠানের বিস্তার ঘটেনি যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে। এজন্য আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে রাজশাহী থেকে সরাসরি চট্টগ্রামে যাত্রীবাহী ও মালবাহী ট্রেন লাইন স্থাপনের কাজ করে যাবো। কৃষিপ্রধান রাজশাহীর জন্য বিশেষায়িত হিমাগার স্থাপন, রাজশাহীর সমস্ত শিল্প কারখানায় গ্যাস প্রাপ্যতা নিশ্চিত, ইপিজেড স্থাপন, আইটি ভিলেজ স্থাপন, বিকেএসপি প্রতিষ্ঠার কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, রাজশাহী আধুনিক সুবিধা সম্পন্ন মোটেল নির্মাণ ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ভেন্যু স্থাপনের সর্বাত্মক উদ্যোগ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেন পর পর দুইবারের নির্বাচিত এই সংসদ সদস্য। রাজশাহীকে গিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি সবার সর্বাত্মক সহেযাগিতা কামনা করেন।

বাদশা আরো বলেন, কৃষকদের অধিকার আদায়ের জন্য দেশের প্রতিটি জেলায় একটি করে কৃষি আদালত স্থাপনের জন্য সংসদে প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী তা বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছিলেন। দশম জাতীয় সংসদের মেয়াদকালের মধ্যে এই কাজটি সম্পন্ন করার জন্য আন্দোলন করে যাবো। এছাড়াও দেশের প্রতি জেলায় একটি করে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর স্থাপনের জন্য জনপ্রতিনিধি হিসেবে সংসদে আমার লড়াই চালিয়ে যাবো।

রাজশাহীর ভাষাসৈনিক আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় দৈনিক সোনার দেশের সম্পাদক অধ্যাপক ফজলুল হক, দৈনিক সোনালী সংবাদের সম্পাদক লিয়াকত আলী, কবি ও প্রাবন্ধিক অধ্যাপক রুহুল আমিন প্রামাণিক, নগর জাতীয় পার্টির নেতা এস এম জোহা সরকারসহ ওয়ার্কার্স পার্টির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

সাকি/