প্রথমার্ধে পাট রপ্তানি কমেছে প্রায় ১৭ শতাংশ

jute
কাঁচাপাট- ফাইল ছবি

juteপাট রপ্তানি আশঙ্কাজনক হারে কমছে দেশে। চলতি বছর পাটের মৌসুম শুরু হওয়ার পর পরই দেশের রাজনৈতিক অবস্থা চরম অস্থির হয়ে উঠলে অন্যান্য শিল্পের মতো চাপে পরেছে পাটশিল্প।রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য মতে, চলতি অর্থবছরের  প্রথার্ধে (জুলাই থেকে ডিসেম্বর) পাট ও পাটপণ্য রপ্তানি কমেছে ১৭ দশমিক ১০ শতাংশ।

আলোচ্য সময়ে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি হয়েছে ৪১ কোটি ৬৪ কোটি ৬০ হাজার মার্কিন ডলার। ২০১২-১৩ অর্থবছরের একই সময়ে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি হয়েছিল ৫০ কোটি ২৩ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলার। আলোচ্য সময়ে কৌশলগত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৪ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার।

এছাড়া ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০১২-১৩ অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবর মাসের তুলনায় চলতি বছর একই সময়ে পাট রপ্তানি কমেছে ২০ দশমিক ৬৬ শতাংশ। আর চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে পাট রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা থেকে পিছিয়ে আছে ২৭ দশমিক ৯৭ শতাংশ।

জুলাই মাস থেকেই দেশের পুরোপুরি পাটের মৌসুম শুরু হয়। অথচ এবার রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে

বিদেশে পাট রপ্তানিতে চলতি বছর যত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা ব্যর্থতা হয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

আর এ কারণেই রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও তা অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে না।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুসারে, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে পাটজাত দ্রব্য রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৬৩ দশমিক ৯৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

কিন্তু চলতি বছরের শুরু থেকেই রাজনৈতিক প্রতিবন্ধকতায় উৎপাদিত পাট ঠিকসময়ে বন্দর পর্যন্ত নেওয়া সম্ভব হচ্ছে  না।আর এ কারণে্ রপ্তানিতে ব্যপক নেতিবাচক প্রভাব পরেছে বলে জানিয়েছেন রপ্তানি সংশ্লিষ্টরা।

পাট ও পাটপণ্যের মধ্যে সব চেয়ে বেশি কমেছে কাঁচাপাট রপ্তানি। আলোচ্য সময়ে এই পণ্যটির রপ্তানি কমেছে ৪৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে যা রপ্তানি হয়েছে ৫ কোটি ৯০ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ১১ কোটি ৭৭ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার।

তাছাড়া পাটের বস্তা ও ব্যাগ রপ্তানি কমেছে ২৯ দশমিক ১৭ ভাগ। চলতি অর্থবছরে এই পণ্যটির রপ্তানি হয়েছে ৮ কোটি ৬১ লাখ ২০ হাজার ডলার।যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১২ কোটি ১৫ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার।

পাট রপ্তানির কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে পাট ও পাটজাত পণ্যের দাম কমে যাওয়া, প্রতিবেশী দেশ ভারত পণ্যটির উপর আমদানি শুল্ক আরোপ, রাজনৈতিক অস্থিরতা, দেশীয় বাজারে পাটের ন্যায্য দাম না পাওয়াকে দায়ি করা হচ্ছে।

তাছাড়া সরকারিভাবে পাট পণ্য ব্যবহারে বাধ্যতামূলক করা হলেও তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। এতে দেশীয় বাজারে পাটও পাটজাত পণ্যের চাহিদা বাড়ছে না। এতে করে আরও বেশি হতাশ হচ্ছেন কৃষকরা।

বাংলাদেশ প্রধানত চিন, ভারত, পাকিস্তান, মিসর, ইন্দোনেশিয়া, নেপাল,  ভিয়েতনাম, জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, কোরিয়া, বেলজিয়াম, তিউনিশিয়া, ইরান, এলসালভাদর, স্পেন, ফ্রান্স, ব্রিটেন, আইভরিকোস্ট, ব্রাজিল, জিবুতি, ইতালি ও তাইওয়ানে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি করে থাকে।

জানা যায়, দেশে প্রতিবছর পাট উৎপাদন হয় ৬০ থেকে ৬৫ লাখ বেল। তবে দেশের ভেতরে মোট ৩০ থেকে ৩২ লাখ বেল পাটের চাহিদা রয়েছে। যা মোট উপাদনের অর্ধেক।বাকি পাট বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়।এর মধ্যে বছরে ২৬ থেকে ২৭ লাখ বেল পাট কারখানায় ব্যবহৃত হয়।এছাড়া কুটিরশিল্পে ৩ লাখ বেল ও অন্যান্য কাজে আরও ২ লাখ বেল পাটের ব্যবহার হয়ে থাকে।