খুলনায় জজের বিরুদ্ধে ভুয়া দলিল করে বাড়ি দখলের অভিযোগ

bari dokhol

bari dokholখুলনা সদরে পিরোজপুর জেলা জজশীপে অর্থঋণ আদালতের জজ বাবু প্রণয় কুমার দাসের বিরুদ্ধে ভুয়া কবলা দলিল করে বসতবাড়ি দখলের অভিযোগ উঠেছে। বাড়িটির মূল্য আনুমানিক ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকা।

বুধবার দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পূর্ণিমা রানী মণ্ডল।

এ সময় তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, “আমি খুলনা সদর থানার বানিয়াখামার মৌজার এসএ ২৪৬৩ খতিয়ান স্থলে ডি,পি ৩৭১৪ খতিয়ানের এস এ ৬৯৬০ ডিপি ৩৪৬২০ দাগের অন্তর্ভুক্ত .০৪১২৫ একর জমি নিজের গহনাপাতি বিক্রি করে আমার (ব্যাংকার) স্বামীর সাথে যৌথভাবে অর্জন করি।”

“আমার স্বামী তখন অগ্রণী ব্যাংকের একজন কর্মচারী হওয়ায় তার নামে সাফ কবলা হলে ব্যাংক ঋণ পাওয়া সহজ হবে বিবেচনা করে ২০০০ সালের ২৭ আগস্ট উক্ত সম্পত্তির দলিল আমার স্বামীর নামে করা হয়। আমার স্বামী পুরঞ্জন কুমার মণ্ডলের নামে উক্ত সম্পত্তির কবলা দলিল করে স্বামীর সাথে একত্রে ভোগ দখল করতে থাকি এবং সম্পত্তি অগ্রণী ব্যাংকে মর্টগেজ রেখে ঋণ গ্রহণ করি। ঋণের টাকা দিয়ে দোতলা ভবন নির্মাণ করে স্বপরিবারে বসবাস করতে থাকি।”

“দোতলা ভবনসহ উক্ত সম্পত্তি ২০১৩ সালের ৩ জুন আমার স্বামী আমাকে দান করে সম্পত্তির দখল আমার অনুকূলে বুঝিয়ে দেয়। যেহেতু সম্পত্তি ব্যাংকে দায়বদ্ধ সেহেতু দানপত্র দলিল রেজিস্ট্রি হওয়ার সুযোগ না থাকায় আমার স্বামী ২০১৩ সালের ১৯ অক্টোবর  অ-রেজিস্ট্রিকৃত লিখিত দানপত্র সম্পাদন ও স্বাক্ষর করে আমার অনুকূলে প্রদান করেন। দুভার্গ্যজনকভাবে আমার স্বামী ব্যাংক থেকে অবসর গ্রহণ করার পর ২০১২ সালে নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েন এবং তার স্মরণশক্তি লোপ পেয়ে মানসিক রোগীতে পরিণত হন।

এ সুযোগে এবং আমার কোনো ছেলে সন্তান না থাকায় আমার স্বামীর বন্ধু বর্তমানে পিরোজপুর জেলা জজশীপে অর্থঋণ আদালতের জজ বাবু প্রণয় কুমার দাস উক্ত সম্পত্তি সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে গ্রাস করার জন্য আমার স্বামীকে  ২০১৩ সালের ২ জুন খুলনার হাজী মহসীন রোডস্থ জনতা ব্যাংকের ১০তলা ভবনের ৭ম তলায় তৎকালীন সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনির সাব রেজিস্ট্রার সুব্রত বাসুর বাসায় নিয়ে যায়।

সেখানে নিয়ে আমার স্বামীকে আটক রেখে মোবাইল ফোন দিয়া ছবি তুলে প্রণয় বাবু তার স্ত্রী মুক্ত রানী দাস ও তাদের নাবালক ছেলের নামকরণে ০৩/০৬/২০১৩ তারিখ খুলনা সদর সাব রেজিস্ট্রি অফিসের অসাধু কর্মচারীর সহায়তায় ২৬৩২৩/১৩ নম্বর একটি পনবিহীন, ভুয়া, জাল, তঞ্চকী দলিল সৃষ্টির উদ্দেশ্যে কতক অলিখিত স্ট্যাম্পে আমার স্বামীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক সই স্বাক্ষর ও টিপ গ্রহণ করে চেতনানাশক ওষুধ খাওয়ায়ে বাসায় পৌঁছিয়ে দেয়।

কিছুদিন পর জানতে পারি যে, প্রণয় বাবু আমার স্বামীর সই ব্যবহার করে জাল জালিয়াতিকরে কোনোরূপ টাকা পয়সা না দিয়া ব্যাংকে বন্ধক থাকা আমার স্বত্ব দখলীয় সম্পত্তি অন্যায়ভাবে গ্রাস করার জন্য দলিল করেছে।
পূর্ণিমা রানী মণ্ডল আরও বলেন, “এ বিষয়ে আমি খুলনা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারী কার্যবিধি আইনের ১৪৫ ধারা মতে একটি মামলা করি যার নম্বর এমপি-৩৭০/১৩। উক্ত মামলায় শান্তিশৃঙ্খল রক্ষার জন্য অফিসার ইনচার্জ খুলনা সদর তহশীলদার উক্ত জজ সাহেবের অবৈধ ক্ষমতার অপব্যবহারে কোনো প্রকার তদন্ত না করে পক্ষপাতদুষ্ট দখল সম্পর্কিত মিথ্যা রিপোর্ট দাখিল করেন যার বিরুদ্ধে আমি আদালতে নারাজী দরখাস্ত দিয়েছি।

পরবর্তীতে আমি খুলনার যুগ্ম জেলা জজ প্রথম আদালতে দেঃ ১৮৬/১৩নম্বর একটি মোকদ্দমা দায়ের করি। উক্ত মোকদ্দমায় প্রণয় কুমার দাস, মুক্ত নারী দাস বিবাদি থাকে। আদালতে আমি নিষেধাজ্ঞার আবেদন করলে বিজ্ঞ আদালত ২১ দিনের শোকজ প্রদান করেন। বিজ্ঞ আদালতে উক্ত মোকদ্দমা চলমান থাকা অবস্থায় প্রনয় বাবুর আত্মীয় পরিচয় দানকারী খুলনা সদর থানার এস আই মানস রঞ্জন দাসকে ব্যবহার করে আমার বসতবাড়ি দখলের হুমকি দিতেন।

আমি  ২৮/১২/১৩ তারিখ উক্ত সাব ইন্সেপেক্টরকে সহ প্রণয় বাবুকে একটি লিগ্যাল নোটিশ প্রেরণ করি। ১৪/১২/১৩ তারিখ সকাল ১১ টার দিকে প্রনয় বাবু ৪/৫ জন অজ্ঞাতনাম সন্ত্রাসী লোক জন নিয়ে আমার বসতবাড়িতে অবৈধভাবে প্রবেশ করে আমাকে মারধর করে রশি দিয়া বেধে রেখে বসতঘরের আসবাবপত্র, টিভি, স্বর্ণালংকার, নগদ টাকাসহ সর্বমোট ৬,৫০,০০০/- (ছয় লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা লুট করে। এবং আমাকে আমার বসত বাড়ি থেকে জোরপূর্বক বের করে দিয়ে ঘর বাড়িতে তালা দিয়ে দেয়।

এ বিষয়ে আমি খুলনার বিজ্ঞ মহানগর হাকিমের আদালতে ১৭/১২/১৩ তারিখ একটি ফৌজদারী মামলা দায়ের করি। বিজ্ঞ আদালত বিষয়টি তদন্ত পূর্বক খুলনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে তদন্ত রিপোর্ট দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। প্রনয় বাবু একজন বিচারক হওয়ায় তার প্রভাবে কোর্টে ন্যায় বিচার পাওয়ায় বাধাগ্রস্থ হচ্ছে আবার তার পদমর্যাদা ও প্রভাবে থানা পুলিশের কাছেও আমি কোন প্রতিকার পাচ্ছি না। এ অবস্থায় আমি সব হারিয়ে অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে মাথা গোঁজার ঠাঁই পাচ্ছি না।

তিনি প্রশাসনের কাছে তার বসতবাড়ি ফিরে পাওয়া ও নিরাপত্তা দাবি জানান।

এসআর/ এআর