বাদপড়া শ্রমিকদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আগামি বৈঠকে

গার্মেন্টস কর্মপরিবেশ

পোশাক কারখানাপোশাক শিল্পে ঘোষিত গ্রেডের মধ্যে বাদপড়া শ্রমিকদের অন্তর্ভুক্তির জন্য নতুন করে মালিক-শ্রমিক উভয় পক্ষকে পদতালিকা দেওয়ার জন্য বলেছেন নিম্নতম মজুরি বোর্ড। নতুন পদগুলোর তালিকা পাওয়ার পরে পরবর্তী সভায় এই অর্ন্তভুক্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মজুরি বোর্ডের নতুন চেয়ারম্যান একে ফজলুল হক।

বুধবার দুপুরে নিম্নতম মজুরি বোর্ডের কার্যালয়ে এক সভা শেষে সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংয়ে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।

তিনি বলেন‍, ‍‌‌‌‌‌‌‌‌‌আজ আমরা মজুরি বোর্ডের সদস্যদের নিয়ে বসেছি ঘোষিত বেতন কাঠামোর গ্রেডের মধ্যে বাদপড়া শ্রমিকদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে। ঘোষিত গ্রেডে যে সব লেভেলের শ্রমিকরা অন্তর্ভুক্ত হতে পারেনি তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে চেয়েছিলাম।

তবে কারখানা মালিক ও শ্রমিকপক্ষের কাছ থেকে বাদপড়া লেভেলগুলোর তালিকা চেয়েছি। তালিকা পাওয়ার পর কয়েকদিনের মধ্যেই আবারো মজুরি বোর্ডের পরবর্তী সভা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান তিনি।

কবে নাগাদ পরবর্তী সভা হবে সাংবাদিকদের করা এমন প্রশ্নের জবাবে চেয়ারম্যান বলেন, ১০ থেকে ১২ দিনের মধ্যে হবে বলে আশা করছেন তিনি। তিনি বলেন, বাদপড়া শ্রমিকদের আমরা তাদের কোন গ্রেড দেবো তা আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে মালিক ও শ্রমিকপক্ষের দুইজন করে সদস্যসহ নিরপেক্ষ সদস্য অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দীন উপস্থিত ছিলেন।

মালিকপক্ষের সদস্য ও বিজিএমইএ পরিচালক আরশাদ জামাল দিপু সাংবাদিকদের জানান, পোশাক কারখানার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বহু ক্ষুদ্র শিল্প জড়িত। সব কিছু বিবেচনায় এনে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কোনো না কোনো কারণে বিভিন্ন লেভেলের শ্রমিকরা ঘোষিত গ্রেড থেকে বাদ পড়েছেন। আবার বিভিন্ন কারখানায় আরও নতুন নতুন পদ রয়েছে। তাই এই বিষয় এমনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে যাতে নতুন পদ অন্তর্ভুক্ত করা যায়।

তিনি আরও বলেন শ্রমিকদের বেতন নিয়ে বিজিএমইএ সব সময়ই সতর্ক রয়েছে। যে সব কারখানায় ঘোষিত বেতন কাঠামো নিয়ে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে তা আগামি মার্চের মধ্যে সমাধান হবে বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে মজুরি বোর্ডের সদস্য ও শ্রমিক নেতা সিরাজুল ইসলাম রনি বলেন, ঘোষিত গ্রেডের মধ্য থেকে বাদপড়া পদবীর সংখ্যা প্রায় ৫০ টি হবে। তবে অতিরিক্ত পদের শ্রমিকরা ঘোষিত গেজেটের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে ঘোষিত গেজেটে বলা আছে, ‘শিল্প কারখানায় নিয়োজিত শ্রমিক ও কর্মচারীদের পদবী, কাজের ধরণ ও প্রকৃতি, চাকুরিকাল, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা, দক্ষতাও পারিপার্শ্বিক অবস্থা ইত্যাদি বিবেচনাক্রমে শ্রমিকদের তফসিল ‘ক’ ও কর্মচারীদের তফসিল ‘খ’তে উল্লেখিত গ্রেডে বিভক্ত করিয়া পদবিন্যাস ও শ্রেণীবিভাগ করিতে হইবে। যদি কখনো এই গেজেটে উল্লেখিত পদের অতিরিক্ত কোনো পদ সংশিষ্ট শিল্পে সংযোজিত হয় উহা যথাযথভাবে গ্রেডে অন্তর্ভুক্ত হইবে’।