কনোকোর সঙ্গে চুক্তি হয়নি,নতুন সরকারের জন্য অপেক্ষা

Conoko_Gasবর্তমান সরকারের মেয়াদে ৭ নাম্বার গ্যাস ব্লকের বরাদ্দ পাচ্ছে না মার্কিন কোম্পানি কনোকো ফিলিপস। গতকাল কোম্পানিটির সঙ্গে পেট্রোবাংলার চুক্তি হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। নতুন সরকার না আসা পর্যন্ত আর কোনো ব্লক ইজারার জন্য চুক্তি না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পেট্রোবাংলা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

গত বছরের শেষ ভাগে পেট্রোবাংলা ৭ নাম্বার ব্লকের জন্য টেন্ডার আহ্বান করে। এতে একমাত্র কোম্পানি হিসেবে এতে দরপত্র জমা দেয় কনোকো ফিলিপস। কোম্পানিটি আলোচিত গ্যাস ক্ষেত্রের দুই হাজার ৩৪৭ কিলোমিটার এলাকায় দ্বিমাত্রিক জরীপ চালাতে দুই কোটি ৩৫ লাখ ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দেয়। আর ক্ষেত্রটির ৫০০ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় ত্রিমাত্রিক জরীপ চালানোর কথা বলে। তারা গ্যাস ও তেল পাওয়া গেলে তা সরকারের সঙ্গে সর্বনিম্ন ৫৫ থেকে সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত  ভাগাভাগির প্রস্তাব করে।

দু’মাস আগে মন্ত্রীসভার বৈঠকে তাদের দরপ্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। সে অনুসারে কনোকোকে গ্যাসক্ষেত্রটি বরাদ্দ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল।

 

জানা গেছে, নির্বাচনকালীন সরকারের মেয়াদে গ্যাস ক্ষেত্র বরাদ্দের চুক্তি করলে নির্বাচন কমিশন আপত্তি করতে পারে এমন আশংকা থেকে মন্ত্রণালয় নতুন সরকার না আসা পর্যন্ত চুক্তি করা থেকে বিরত থাকতে পেট্রোবাংলাকে পরামর্শ দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সংস্থাটি কনোকোর সঙ্গে এ মুহূর্তে চুক্তি না করার সিদ্ধান্ত নেয়।

এ বিষয়ে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান অধ্যাপক হোসেন মনসুর অর্থসূচককে বলেন,নির্বাচন পরবর্তী নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এ চুক্তি হবে। তার আগে কোনোভাবেই কোনো ব্লকের ইজারা চুক্তি করবেন না তারা।

এদিকে বেশ কিছুদিন ধরেই তেল গ্যাস জাতীয় সম্পদ রক্ষা কমিটি কনোকোকে গ্যাস ক্ষেত্রে বরাদ্দ দেওয়ার বিরোধিতা করে আসছে। কমিটির ভাষ্য এতে দেশের স্বাথ ক্ষুন্ন হবে। তাদের বক্তব্য কয়েকটি কারণে কোনো বিদেশী কোম্পানিকে গ্যাস ক্ষেত্র বরাদ্দ দেওয়া উচিত হবে না। প্রথতঃ সংশোধিত পিএসসি ২০১২-তে বিদেশি কোম্পানির মুনাফা অতিমাত্রায় বৃদ্ধির স্বার্থে গ্যাসের ক্রয়মূল্য আগের চুক্তির তুলনায় শতকরা ৬০-৭০ ভাগ বৃদ্ধি করা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, প্রতি বছর গ্যাসের দাম শতকরা ৫ ভাগ হারে বৃদ্ধির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তৃতীয়ত,ব্যয় পরিশোধ পর্বে বিদেশী কোম্পানির অংশীদারিত্ব শতকরা ৫৫ ভাগ থেকে বাড়িয়ে শতকরা ৭০ ভাগ করা হয়েছে। চতুর্থত,যথেচ্ছ মূল্যে তৃতীয় পক্ষের কাছে গ্যাস বিক্রয়ের অনুমতি দেয়া হয়েছে।