সাম্প্রদায়িক নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান

সারাদেশে সাম্প্রদায়িক  নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্রের নেতারা। শাসকগোষ্ঠী  ক্ষমতা ও ভোটের রাজনীতির স্বার্থে ধর্মকে রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে যুক্ত করেছে বলেও মন্তব্য করেন তারা।

সোমবার বিকেলে বাংলাদশে নারীমুক্তি কেন্দ্রের দপ্তর সম্পাদক তাসলিমা নাজনীন স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব কথা জানান সংগঠনটির নেতারা।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ও নারীর উপর নির্যাতনের এসব ঘটনা বাংলাদেশের জন্য নতুন নয়। প্রতিবার নির্বাচনের আগে এবং পরে ক্ষমতাসীন ও ক্ষমতা বহির্ভূত সকল বুর্জোয়া ও সাম্প্রদায়িক দলের নিপীড়নের শিকার হয় হিন্দু, বৌদ্ধ ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষেরা। রাজনৈতিক দলগুলো এই সকল সম্প্রদায়ের মানুষকে ভোট ব্যাংক মনে করলেও নির্বাচনে পরাজয়ের কারণ হিসেবেও এদেরকে চিহ্নিত করা হয়।

স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত সংঘটিত সাম্প্রদায়িক সহিংসতার কোনোটিরই সুষ্ঠু তদন্ত এবং বিচার হয়নি উল্লেখ করে তারা জানান, প্রতিবার নির্বাচনের আগে এবং পরে ক্ষমতাসীন ও ক্ষমতা বহির্ভূত সকল বুর্জোয়া ও সাম্প্রদায়িক দলের নিপীড়নের শিকার হয় হিন্দু, বৌদ্ধ ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষেরা। নির্যাতিতদের বর্ণনা থেকে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলিতেও বিএনপি-জামাতের পাশাপাশি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের সংশ্লিষ্টতার কথা সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে। সংবাদমাধ্যমের কল্যাণে দেশবাসী এও জানতে পেরেছে যে সাম্প্রদায়িক হামলা প্রতিহত করতে স্থানীয় প্রশাসন যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করেনি।

পুরুষতান্ত্রিক এই সমাজ ব্যবস্থায় যে কোনো সহিংসতা এবং নিপীড়নের নির্মম শিকার দেশের নারী এবং শিশুরা। যশোর ও দেশের আরো কয়েকটি স্থানে নারী ধর্ষণের ঘটনা তাই প্রমাণ করেছে।

এছাড়া, যশোরের মণিরামপুর উপজেলার ঋষিপাড়ায় দুই গৃহবধূকে ধর্ষণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সীমা দত্ত ও সাধারণ মর্জিনা খাতুন ঘটনার সাথে জড়িতদের বিচার ও শাস্তি দাবি করেছেন।