দশম জাতীয় সংসদ : মেয়াদ পূর্ণ করার প্রত্যয় নতুন মন্ত্রীদের

সংসদ ভবন
জাতীয় সংসদ (ফাইল ছবি)

সংসদ ভবননানান সংকট আর উৎকণ্ঠার মাঝেই দায়িত্ব গ্রহণ করলেন নতুন সরকারের মন্ত্রিসভা।

রোববার রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ খান প্রধানমন্ত্রীসহ নবনিযুক্ত মন্ত্রীদের শপথ বাক্য পাঠ করান। আর শপথ গ্রহণের পরের দিনই নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ে গিয়ে দায়িত্ব বুঝে নিয়েছেন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা। ব্যক্ত করেছেন তাদের স্ব স্ব ইচ্ছা বাস্তবায়নের কথা।

কারো কারো বক্তব্যে নাশকতা ও নৈরাজ্য প্রতিরোধে সরকারের কঠোর অবস্থানের আভাসও পাওয়া গেছে।

তবে সংসদ নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের নেতাদের মুখে যে নির্বাচন পরবর্তী সমঝোতা ও একাদশ নির্বাচনের আশার বাণী শোনা গিয়েছিল তা কেবলই গাধার সামনে মূলা ঝুলানোর গল্পে পরিণত হতে যাচ্ছে।

শপথ নেওয়ার পর দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই প্রায় সব মন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছেন পাঁচ বছর মেয়াদ পূর্ণ করার সাফ কথা।

শপথ গ্রহণের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও এলজিআরডি মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছিলেন, “সরকারের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর। তবে বিরোধী দলের সাথে সমঝোতা হলে যেকোনো সময় পরবর্তী নির্বাচন হতে পারে।”

সোমবার সচিবালয়ে নিজ মন্ত্রণালয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিতি সভায়ও তিনি প্রায় একই কথা জানিয়ে দিলেন। তবে দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক সংলাপও চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেন তিনি।

সোমবার সকালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন একই কথা। তিনি বলেন, এই সরকার জনগণের ভোটে পাঁচ বছরের জন্যই নির্বাচিত হয়েছে। ভালো কাজ করে সরকার পাঁচ বছরই পূর্ণ করবে। তবে আলোচনার দরজা এখনো খোলা আছে। সমঝোতা হলে সেটা পরে বিবেচনা করা যেতে পারে।”

এর আগে দশম সংসদ নির্বাচনের পরের দিন বঙ্গবন্ধু এভিনিউএ আওয়ামী লীগের এক মানববন্ধনে মহানগর সাধারণ সম্পাদক ও নয়া মন্ত্রিসভার দুর্যোগ ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেছিলেন, “আলোচনা করার সময় চলে গেছে। নির্বাচন নিয়ে আর কোনো আলোচনা নয়। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এখন দেশ এগিয়ে যাবে। তবে দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয় থাকলে বিএনপি নেত্রীর সাথে আলোচনা করা যেতে পারে”।

একই সভায় আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং সাবেক মন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ বলেছিলেন, “জনগণ ভোট দিয়ে আমাদেরকে পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত করেছে। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে সংসদ ভেঙে দিয়ে আমরা জনগণের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারি না”।

একই কথা বলেছেন নতুন সরকারের ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী।

সোমবার সকালে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, যারা সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের পথে পাকিস্তানিদের লেজুরবৃত্তি করে, যারা দেশের বিষয়ে বিদেশিদের কাছে নালিশ করে তাদের সঙ্গে কিসের সমঝোতা।”

নিজ মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এক ও অভিন্ন কথা ব্যক্ত করেছেন বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন।

 

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যে সরকার গঠিত হয়েছে সে সরকার পাঁচ বছরের জন্যই এসেছে। সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য কোনো সরকার গঠন করা হয়নি।”

 

আর যেকোনো ধরনের নাশকতা কঠোর হাতে দমন করার ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

তিনি বলেন, “সরকারি সম্পদ ও জনগণের জানমাল রক্ষায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করবে। যারা ধ্বংসাত্মক কাজ করছে, এখনই তা বন্ধ করতে হবে”।

বিএনপি নির্বাচনে না আসায় বিরোধী দলের পরিচয় হারিয়েছে দলটি। আর আর শিফ্ট ভিত্তিক কর্মঘণ্টার মতো একইসঙ্গে সরকার গঠন ও বিরোধী দলের ভুমিকা পালন করবে জাতীয় পার্টি (জাপা)।

অন্যদিকে লাগাতার অবরোধ কর্মসূচি থেকে উল্লেখযোগ্য কোনো ফলাফল না পাওয়ায় আন্দোলন স্থগিত করেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দল।

আর নানান বিরোধিতার পরও শপথ অনুষ্ঠানে বিদেশি কূটনীতিকদের অংশগ্রহণকে

সরকারের জন্য সমর্থনমূলক ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন অনেকেই।

এমতাবস্থায় আলোচনা সমঝোতা আর নির্ধারিত মেয়াদের আগেই দশম সংসদ ভেঙে নতুন সংসদ নির্বাচন রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি ধোঁয়াশা হিসেবেই থেকে যাবে হয়তো।