শনিবার, অক্টোবর ৩১, ২০২০
Home ভ্রমণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা রামসাগর দীঘি

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা রামসাগর দীঘি

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা রামসাগর দীঘি

Ram sagprপ্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা রামসাগর দীঘি। সবুজের সমারহ এবং মনমাতানো নানা ধরনের বৃক্ষ দিয়ে ঘেরা রামসাগর দীঘির চারপাশ। দিনাজপুর শহর থেকে মাত্র ৫ কিলোমিটার দক্ষিণে রামসাগর দীঘি অবস্থিত।

এটি আকার ও সৌন্দর্যের দিক থেকে বাংলাদেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় দীঘি। এ দীঘিটি শুধু জলাধার বা ‌ঐতিহাসিক কীর্তি নয়, এক বিশাল প্রাকৃতিক সৌন্দয়ের অধিকারি।পলাশী যুদ্ধের অনতিপূর্বে দিনাজপুরের বিখ্যাত রাজা রামনাথ দীঘিটি খনন করান এবং তার নামেই এর নামকরণ করা হয়।

পাশ্ববর্তী গ্রামগুলোর পানির চাহিদা পূরণের জন্য দীঘিটি খনন করা হয়। বলা হয় যে সেসময় (১৭৫০-১৭৫৫) এ অঞ্চলে প্রচন্ড খরা ও দুর্ভিক্ষ চলছিল ‌এবং রাজা রামনাথ “কাজের বিনিময়ে খাদ্য” কর্মসূচীর মাধ্যমে মানুষদের সাহায্য করেন এবং দীঘিটি খনন করান। এতে প্রায় ১৫ লক্ষ শ্রমিক অংশ নেয় এবং সেসময়ের মূদ্রায় মোট ব্যয় দাড়ায় ৩০,০০০ টাকা।

দীঘিটি উত্তর দক্ষিন লম্বা। দীঘিটির জলভাগের দৈর্ঘ্য ১০৩১ মিটার, প্রস্থ ৩৬৪ মিটার ও গভীরতা ৯ মিটার। দক্ষিণ দিকের চেয়ে উত্তর দিকের গভীরতা বেশি। দীঘির প্রধান পাকা ঘাট পশ্চিম পাড়ের ঠিক মাঝখানে অবস্থিত যা সুপ্রশস্থ। এই ঘাট এর দৈর্ঘ্য ১৫০ ফুট প্রস্থ ৬০ ফুট। এছাড়া উত্তর ও দক্ষিণ দিকেও একটি করে ঘাট রয়েছে, কিন্তু এই ঘাটগুলি আকারে ছোট।

দীঘির চারদিকে বেশকিছু উচুঁ-উচুঁ টিলা ছিল, তবে এই উচুঁ পাহাড় গুলোর সব বর্তমানে আর দেখা যায় না। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় এর উচু পাহাড়গুলি ক্ষতিগ্রস্থ হয়। উত্তর-পূর্ব কোনের সবচে উচুঁ পাহাড়টি আজও মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে। এই পাহাড়টির উচ্চতা সমতল থেকে ৪০ ফুট উচুঁ। দীঘির উত্তর দিকে একটা ধংসম্তপ দেখা যায়, এটা নিয়ে মনুষের নানা প্রশ্ন-নানা কৌতুহল। কেউ বলে এটা মন্দির আবার কেউ বলে রাজার বিশ্রামাগার।Ram

 

দীঘির পশ্চিম পাড়ের ঠিক বিপরীতে একটি ছোটখাট কৃত্রিম চিড়িয়াখানা আছে এবং তাতে চিত্ত বিনোদনের নানা সামগ্রী রয়েছে। উত্তর কোন ও চিড়িয়াখানার মাঝখানে একটি মসজিদও রয়েছে। দীঘির চারদিকে লোকজন হাঁটার জন্য ইট বিছান পথ,মানুষ বসার জন্য বিভিন্ন জায়গায় সুব্যবস্থা রয়েছে। এটি বর্তমানে একটি ভালো পিকনিক স্পট হয়ে দাঁড়িয়েছে। পিকনিক বাদেও প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ রামসাগরের প্রাকৃতিক সৌন্দয় উপভগের জন্য আসে।