হিলিতে ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনার ১৯তম বার্ষিকী পালিত

hili

Dinajpur-hiliআজ ১৩ জানুয়ারি, দিনাজপুরের হিলির ১৯তম ট্রেন ট্রাজেডি দিবস। ১৯৯৫ সালের এই দিনে হিলি রেলস্টেশনে সংগঠিত হয় স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনা।

স্থানীয়রা জানায়, ১৯৯৫ সালের ১৩ জানুয়ারি শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টায় চিলাহাটি-খুলনা রেলসড়কের হিলি রেলস্টেশনের গোয়ালন্দঘাট থেকে চিলাহাটিগামী ৫১১ নং লোকাল ট্রেনটি ১ নং লাইনে যাত্রা বিরতি করে। এ সময় সৈয়দপুর থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী আন্ত:নগর সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনটিকে এই লাইনে অতিক্রম করানোর সময় দুটি ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।

আন্ত:নগর ট্রেনটি হিলি রেলওয়েস্টেশনে যাত্রা বিরতি না থাকায় ২নং লাইনে সেটিকে হিলি রেলস্টেশনে অতিক্রম করানোর কথা থাকলেও তাৎক্ষণিক হিলি রেলওয়ে স্টেশন কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতার কারণে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছিল। এ দুর্ঘটনায় ট্রেনটির ইঞ্জিনসহ তিনটি বগি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে শতাধিক যাত্রী নিহত হয় এবং আহত হয় আরও শতাধিক। যদিও সরকারিভাবে নিহতের সংখ্যা দেখানো হয়েছে মাত্র ২৭ জন।

দুর্ঘটনার পরদিন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছিলেন। এ সময় তিনি নিহত ও আহতদের পরিবারের জন্য অর্থ সাহায্যের ঘোষণা দেন ও দুর্ঘটনাটি তদন্তের জন্য এক সদস্য বিশিষ্ট উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করার কথা বলেন।

কিন্তু দীর্ঘ ১৯ বছর পেরিয়ে গেলেও আজও তা আলোর মুখ দেখে নি। ক্ষতিপূরণের টাকাও পান নি নিহত ও আহতদের পরিবারগুলো।

সেদিনের দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে বাংলাহিলি রেলওয়ে একতা ক্লাবের সভাপতি আনোয়ার হোসেন বুলু জানান, দুটি ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষে বিকট শব্দে ভারী হয়ে উঠে এখানকার আকাশ বাতাস। দুর্ঘটনার পর পরই স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও এলাকাবাসীর সম্মিলিত চেষ্ঠায় উদ্ধার কাজ পরিচালিত হয়। সেদিনের সেই বিভিষীকাময় দিনের কথা মনে পড়লে আজো গা শিউরে ওঠে।

প্রতিবছরের মতো এবারও নিহতদের স্মরণে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও রেলওয়ে একতা ক্লাবের উদ্যোগে কালোব্যাচ ধারণ, আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

কেএফ/এএস