রুগ্ণ প্রতিষ্ঠানের ঋণ নিষ্পত্তির নির্দেশ

balgladesh bank_147সরকার নির্ধারিত ১০৯টি রুগ্ণ শিল্প প্রতিষ্ঠানের ঋণ নিষ্পত্তির জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় ও বিশেষায়িত খাতের সাত ব্যাংক ও বেসরকারি খাতের তিন ব্যাংকে এ ঋণ নিষ্পত্তির জন্য চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অর্থমন্ত্রণালয়ের নির্দেশের প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ উদ্যোগ নিয়েছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

জানা গেছে, পোশাক খাতের বাইরে এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানের এ ১০টি ব্যাংক থেকে নেওয়া ৫০ লাখ টাকার নিচের ঋণগুলো এ সুবিধার আওতায় আসবে।

বাংলাদেশ  ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান, বিদায়ী বছরের শেষের দিকে মোট ১২১টি রুগ্ণ শিল্পপ্রতিষ্ঠানের তালিকা করে সরকার। পরবর্তী সময়ে এ-সংক্রান্ত কমিটি  তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করে ১০৯টি রুগ্ণ প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রস্তুত করে।

এদিকে রাষ্ট্রীয় খাতের সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে ২৫টি রুগ্ন প্রতিষ্ঠান, অগ্রণী ব্যাংকের মাধ্যমে ২৯টি, কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে ১৭টি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের মাধ্যমে ১৩টি, জনতার মাধ্যমে ১১টি, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের মাধ্যমে চারটি,  রূপালী ব্যাংকের মাধ্যমে তিনটি, বেসরকারি খাতের আইসিবি ব্যাংকের মাধ্যমে পাঁচটি, বাংলাদেশ ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের একটি এবং ইস্টার্ন ব্যাংকের মাধ্যমে একটি ঋণ গ্রহীতা প্রতিষ্ঠানকে এ নিষ্পত্তি সুবিধা দেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ সালের দিকে ২৭৯টি রুগ্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে ঋণ নিষ্পত্তির ব্যাপারে সুযোগ দেওয়া হলেও পরবর্তী বছরগুলোতে তা বন্ধ হয়ে যায়। এর পর বিদায়ী বছরেই এতগুলো প্রতিষ্ঠানকে এ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা আর টানা হরতাল-অবরোধসহ নানা কারণে এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক সূচকগুলোর অবনতি ঘটেছে। ব্যবসা-বাণিজ্যে করতে না পারার কারণে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্তও হয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো। এতে করে এসব প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তারা ব্যাংক ঋণের বিপরীতে সুদ যেমন পরিশোধ করতে পারেনি, তেমনি মূল টাকাও পরিশোধ করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ অবস্থায় বছরের পর বছর ব্যাংকগুলোর জন্য ঋণের টাকা আদায় করাও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।

জানা গেছে, এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানের দায়-দেনা পরিশোধের সময় পাঁচ বছরের জন্য নির্ধারণ করেছে সরকার।  এদিকে  ব্যাংকগুলো থেকে নেওয়া ৫০ লাখ টাকা নিচের ঋণ বা মূল প্রকল্প ঋণ রয়েছে তাদের ঋণের ক্ষেত্রে এক বছর সুদ আরোপযোগ্যসহ  তিন মাস অন্তর চার কিস্তিতে চার বছরে পরিশোধ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে এসব প্রতিষ্ঠানের নেওয়া ঋণের বিপরীতে অনারোপিত সুদ, সুদ অনিশ্চিত খাতে, রক্ষিত সুদ পুরোপুরি মওকুফ হবে। তবে কস্ট অব ফান্ড যা আছে তাই বিবেচনায় নেবে ব্যাংকগুলো।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা এ প্রসঙ্গে বলেন, সরকার থেকে এসব প্রতিষ্ঠানকে কোনো প্রকার ভর্তুকি দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে এই ১০৯টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নেওয়া মূল ঋণ ও মামলার খরচ মওকুফ করা হচ্ছে না। সে ক্ষেত্রে মূল ঋণ এবং ব্যাংকের আয় হিসেবে স্থানান্তরিত পুঞ্জিভূত সুদ মোট নিরূপিত দায়-দেনা হিসেবে বিবেচিত হবে। যেখানে আট শতাংশ হারে সুদ আদায়যোগ্য হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
আরও জানা গেছে, ব্যাংকগুলোর সঙ্গে ডাউন পেমেন্ট চেক জমা দেওয়ার পরই ঋণ পরিশোধ ক্ষমতা সৃষ্টির জন্য ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর ছাড়পত্র নিতে হবে। দেনা পরিশোধের সমন্বয়ের ক্ষেত্রে ব্যাংক, প্রতিষ্ঠান এবং ক্রেতা আগ্রহী হলে ত্রিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে মর্টগেজ করা সম্পদ বিক্রি বা অন্যান্য উপায়ে ভাড়া দেওয়ার মাধ্যমে সমন্বয় করা যাবে। #