স্থবিরতা কাটছে না চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের, লেনদেন কমেছে ৮৫ শতাংশ

খাতুনগঞ্জ পাইকারী বাজার

Khatungonjশ্রমিক-মজুরের হাঁকডাক আর ট্রাক-কাভার্ডভ্যান ও  লরির চলাচলে যে বাজারটি সারাদিন মুখর থাকতো, পণ্যবাহী যানবাহনে  ব্যস্ত থাকতো বাজারের সবকটি প্রবেশ পথ; ব্যস্ততম সেই চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ বাজারটিতে সেই চিত্র এখন আর খুঁজে পাওয়া যায় না।

বাজারে চার হাজারেরও অধিক দোকানে গত চার মাসের ব্যবধানে লেনদেন কমে গেছে ৮৫ শতাংশেরও বেশি।

নতুন বছর শুরু হলেও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসেনি দেশের ভোগ্যপণ্যের এই বড় বাজারটিতে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে টানা রাজনৈতিক কর্মসূচি আর সহিংসতায় দেশের গুরুত্বপূর্ণ এ বাজারে স্থবিবরতা দেখা দেয়। নির্বাচন পরবর্তী সময়েও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কোনো ধরনের সমঝোতার লক্ষণ না থাকায় আগামি দিনগুলোতে বাজার পরিস্থিতি আরও অস্থির হবে- এমন আশংকা ব্যবসায়ীদের।

ব্যবসায়ীদের দেওয়া হিসেব মতে, গত সেপ্টেম্বরে খাতুনগঞ্জে লেনদেন ছিল ৩০ হাজার কোটি টাকার মতো, অক্টোবরে তা নেমে এসেছে ২৪ হাজার কোটি টাকায়। নভেম্বরে লেনদেন  অস্বাভাবিক হারে কমে নেমে আসে  ৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকায় যা ডিসেম্বরেও কমে চলে আসে ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকায় । অর্থাৎ, গেল চার মাসের ব্যবধানে লেনদেন কমে আসে ৮৫ শাতাংশেরও বেশি।

চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গেল বছরের অধিকাংশ সময় হরতাল অবরোধের কারণে আমদানি ও রপ্তানি বন্ধ থাকলেও  ব্যাংক  ঋণের বিপরীতে উচ্চহারে সুদ, কর্মচারীর বেতন, দোকান ও গোডাউন ভাড়াসহ  আনুষঙ্গিক খরচ থেমে ছিল না। সেই সঙ্গে হরতালের কারণে  বেড়েছে পরিবহন খরচ আর বন্দরে কন্টেইনার খালাসে গুণতে হয়েছে  অতিরিক্ত মাশুল। একদিকে ব্যবসায়ীদের যেমন  ক্রমাগত লোকসান বাড়ছে অন্যদিকে কমে গেছে পুঁজি। ফলে ইতোমধ্যে অনেক ব্যবসায়ী ব্যবসা বন্ধ করে দিয়েছে। যার আছে তারাও নতুন বছরে কর্মপরিকল্পনা ঠিক করতে পারছেন না। দশম জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে দেশে যে রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়েছিল তা এখনো সমাধান না হওয়ায় শংকা কাটছে না এসব ব্যবসায়ীদের।

চিটাগং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’র সাবেক পরিচালক আলমগীর পারভেজ অর্থসূচককে জানান, নতুন বছরকে ঘিরে আমাদের লোকসান কাটিয়ে উঠার জন্য একটি সুন্দর পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু, পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হলে দেশে হরতাল-অবরোধের নামে যে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে তা বন্ধ রাখার বিকল্প নেই।

এসব সহিংস কর্মসূচির ফলে চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে চার সহস্রাধিক দোকানে বেচা-কেনা প্রায় বন্ধ ছিল। যেখানে স্বাভাবিক সময়ে গড়ে প্রায় ৮০০  থেকে ১ হাজার কোটি টাকা লেনদেন হতো, হরতালের কারণে উল্টো ক্ষতি হচ্ছে দিনে কয়েক কোটি টাকা। এসব ক্ষতি সামাল দিতে না পেরে ইতো মধ্যে কিছু ব্যবসায়ী ব্যবসা বন্ধ করে দিছে।

আবার যারা আছে তাদের নিয়মিত লোকসানের কারণে পুঁজি কমে গেছে। নতুন করে পুঁজি বিনিয়োগে উৎসাহিত  হচ্ছে না কেউ। ফলে ব্যবসায় দেখা দিয়েছে স্থবিরতা। নতুন বছরে এ স্থবিরতা কাটিয়ে উঠে অর্থনীতির চাকা সচল করে ব্যবসা-বাণিজ্যের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার নিশ্চয়তা রাষ্ট্রকে দিতে হবে। তা না হলে দেশের অর্থনীতির মুখ থুবড়ে পড়বে।”

চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের পণ্য বাজার পরিস্থিতির সাথে মিল রেখে ওঠা-নামা করে সারাদেশের পণ্যবাজার। তাই খাতুনগঞ্জের এই দৈন্যদশা সারা দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের আসল চিত্র বলে মনে করেন ব্যবসায়ীরা।