শনিবার, অক্টোবর ৩১, ২০২০
Home সারাদেশ চট্টগ্র্রাম কসবায় ২৩‘শ সদস্যের প্রায় কোটি টাকা নিয়ে ভূয়া এনজিও উধাও

কসবায় ২৩‘শ সদস্যের প্রায় কোটি টাকা নিয়ে ভূয়া এনজিও উধাও

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় সোস্যাল সার্ভিসেস প্রোগ্রাম (এস.এস.পি) নামের একটি ভূয়া এনজিও এলাকায় ঋণ দেয়ার কথা বলে প্রায় দুই হাজারেও বেশি সদস্যের কাছ থেকে প্রায় কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেছে। পালিয়ে গেছে কর্মকর্তাসহ এনজিওর কতৃপক্ষ। বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় ভাবে নিয়োগ পাওয়া মাঠ কর্মীরা।

সরেজমিনে ঘুরে খোজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকার সাইফুল ইসলাম ও তার স্ত্রী রাশেদা বেগম সোস্যাল সার্ভিসেস প্রোগ্রাম  একটি  এনজিও এলাকায় ঋণ দেয়ার কথা বলে কসবা উপজেলার কুটি ইউনিয়নের গঙ্গানগর গ্রামের সৌদি প্রবাসী মোখলেছ মিয়ার বাড়িতে গত ডিসেম্বর মাসে ৫টি কক্ষ ৮ হাজার টাকা মাসিক ভাড়া নেয়। এলাকার কয়েকজন মাঠকর্মীসহ ৯ জন কর্মকর্তা মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেন।  এছাড়াও কসবা উপজেলা সদর ও নয়নপুর বাজারে আরো দুটি অফিস করে।

কসবা উপজেলার ভৈরব নগর, গঙ্গানগর, চৌবেপুর, লেশিয়ারা শিমরাইল, কসবা পৌর শহরের তেতৈয়া ও নয়নপুর সহ বেশ কয়েকটি গ্রামে প্রবাসী ঋণ,বিভিন্ন প্রকার মেশিন, সিএনজি চালিত অটোরিকশাসহ ঋণ দেয়ার কথা বলেন। এর জন্য এলাকায় প্রায় ২৩ শ সদস্যকে অন্তভূক্ত করেন।

যারা ঋণ গ্রহণ করবে তাদেরকে ১ লক্ষ টাকা হলে, ১০ হাজার টাকা, ২ লক্ষ টাকা হলে ২০ হাজার টাকা জমা দিতে বলেন। কয়েকদিন আগে ২/৩ জন সদস্যকে ঋণ দিলেও গতকাল শনিবার সদস্যদেরকে ঋণ দেয়ার কথা। সদস্যরা গতকাল শনিবার সকালে ঋণ নিতে এসে দেখেন এনজিওর কতৃপক্ষসহ কর্মকর্তারা পালিয়ে গেছে। হাউমাউ করে কাধঁতে থাকেন তারা।

মানিকগনর গ্রামের কুদ্দুছ মিয়া বলেন, এক লক্ষ টাকা ঋণের জন্য ১০ হাজার টাকা জমা দিয়েছি। ঋণ নিতে এসে দেখি পালিয়ে গেছে কর্মকর্তারা। শিমরাইল গ্রামের আজিজুল হক বলেন; ১ লক্ষ টাকার জন্য সাড়ে ১০ হাজার টাকা জমা দিয়েছি। কিন্তু আজ শনিবার তাদেরকে ঋণ দেয়া কথা কিন্তু কর্মকর্তারা পালিয়ে গেছে। কসবার তেতৈয়া গ্রামের লাভলী আক্তার বলেন, তারা ২ লক্ষ টাকা ঋনের জন্য ২০ হাজার ৫শ টাকা জমা করেছেন। কিন্তু কর্মকর্তাদের মোবাইল নাম্বারও বন্ধ হয়ে গেছে।

স্থানীয় ভাবে নিয়োগ পাওয়া মাঠকর্মী সালমা বেগম বলেন, সাইফুল ইসলাম নামের একটি ব্যক্তি এবং তার স্ত্রী অফিস ভাড়া নিয়ে ঋণের কার্যক্রম শুরু করে। ৬ হাজার টাকা মাসিক বেতনে জানুয়ারি মাসের ১ তারিখে যোগদান করেছেন। তিনি বলেন; সমিতিতে কয়েকটি গ্রামের প্রায় ২৩শ সদস্য হয়েছেন। যে সকল সদস্য ১ লক্ষ টাকা ঋণ নিবে তাকে ১০ হাজার টাকা এবং ২ লক্ষ টাকা ঋণ নিলে ২০ হাজার টাকা জমা দিতে হয়েছে। আজ শনিবার কয়েক লক্ষ টাকা ঋণ দেয়ার কথা ছিল। রাতেই অফিসের সকল কর্মকর্তা ও কতৃপক্ষ পালিয়ে গেছে। বিপাকে পড়তে হয়েছে আমাদেরকে।

কসবা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোস্তফা মাহমুদ সারোয়ার বলেন, সোস্যাল সার্ভিসেস প্রোগ্রাম (এস.এস.পি) নামে সমাজসেবা থেকে অনুমোদন নেই। এ ধরনের এনজিও আছে আমাদের জানা নেই।

কসবা উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক বলেন, এটি কোন সমবায়ের সাথে জড়িত নয়। এটি একটি এনজিও তাই সমবায় অধিদপ্তরের কোন কাজ নেই।

কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো. মিজানু রহমান বলেন; এ বিষয়ে কেউ কোনো মামলা করতে চাইলে মামলা গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন টাকা আদায় করতে হলে সমবায় অধিদপ্তরের মাধ্যমে চেষ্টা করতে হবে।

কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জালাল সাইফুর রহমান বলেন, যে কোন সংস্থা এলাকায় কাজ করতে হলে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে আলোচনা করে কাজ করার কথা থাকলেও এস.এস.পি নামে কোন এনজিও প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করেনি। এ রকম কোন এনজিও আছে তা আমাদের জানা নেই।