পোশাক খাতের কর্মপরিবেশ উন্নয়নে নতুন পরামর্শ ইউনিট

পোশাক শ্রমিক

Garments-workerবাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য গেল বছরটি শুভ হয়নি। তার আগের বছর তাজরীন ফ্যাশন নামের একটি কারখানায় আগুনে পুড়ে মারা যায় শত শ্রমিক। সে সময় থেকে ক্রেতা, আন্তর্জাতিক সংস্থা, দেশীয় শ্রমিক সংগঠনগুলোর তরফ থেকে পোশাক কারখানাগুলোতে নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি ওঠে। আর এই দাবি আরও জোরালো ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় গেল বছর এপ্রিলে রানা প্লাজা ট্রাজেডির পরে।

রানা প্লাজার ওই ঘটনার পরে সার বিশ্বে পোশাক শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশের দাবি বেশ গুরুত্ব সহকারে আলোচিত হতে থাকে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা এগিয়ে আসে এবং একাজে এগিয়ে আসার জন্য ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আহ্বান করে। এর প্রেক্ষিতে মার্কিন ক্রেতারা অ্যালায়েন্স ফর বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স সেফটি ও ইউরোপিয় ক্রেতাদের আরেকটি  অ্যাকোর্ড অন ফায়ার অ্যান্ড বিল্ডিং সেফটি ইন বাংলাদেশ নামের দুটি জোট গঠিত হয়।

তাদের কেউ কেউ এর মধ্যে কিছু সহায়তাও দিয়েছে। তবে তা দেশের এই খাতটিকে তেমন উন্নয়ন হয়নি।

এই অবস্থায় একটি খারাপ বছর পার করার পরে খাতটির জন্য আরেকটি ভালো খবর আসছে। হংকং ভিত্তিক একটি ক্রেতা এজেন্ট  লি এন্ড ফাং কারখানা ও ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে কিছু সহায়তা দেওয়ার ব্যপারে পদক্ষেপ নিয়েছে। তারা ওয়ালমার্ট ও টার্গেট এর মতো ক্রেতা কোম্পানিগুলোর পোশাক কেনার মধ্যস্ততা করে।

এজেন্ট প্রতিষ্ঠানটি শ্রমিকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে তাদের জন্য ইন্সুরেন্স ব্যবস্থা করা, আর্থিক সহায়তা দেওয়াসহ সকল ধরনের পরামর্শ দিতে নতুন একটি ইউনিট গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ২০১২ সালে তাজরীন পোশাক কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে একশ’র বেশি শ্রমিক এবং গত বছরের এপ্রিলে রানা প্লাজা ধ্বসে এক হাজারেরও বেশি শ্রমিক নিহত হওয়ার পর পোশাক খাতে সুষ্ঠ পরিবেশ তৈরিতে  এ উদ্যোগ হাতে নেয় তারা।

ওই প্রতিবেদনে লি এ্যান্ড ফাং এর বরাত দিয়ে বলা হয়, ২০১২ সালে তাজরীন ফ্যাশনে অগ্নিকাণ্ডের সময় লি এন্ড ফাংয়ের অর্ডার দেওয়া পোশাক পুড়ে কয়লা হয়ে যায়। তারপরেও কোম্পানিটি দূর্ঘটনায় নিহত পরিবারের জন্য ক্ষতিপুরণের ব্যবস্থা করে।

কোম্পানিটির জনসংযোগ দ্প্তরের নির্বাহী পরিচালক রিক ডার্লিং জানান, গত ১৮ মাস আগে থেকেই আমরা বাংলাদেশের পোশাক খাতের নিরাপত্তা কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। এর মধ্যে  শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে।

নতুনভাবে তৈরি ইউনিটটি লি এন্ড ফাং কোম্পানির চেয়ারম্যান উইলিয়াম ফাং নিজেই নেতৃত্ব দেবেন বলে জানিয়েছেন।

তিনি জানান,  তাদের এই কর্মসূচিটি বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৪৬ টি দেশে মোট ১৫ হাজার কারখানার সাথে চালিয়ে যাবে।

এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ প্রতিবেদন পেশ করে মার্চের মধ্যে তাদের পরিকল্পনা তুলে ধরার জন্য ইউনিটের আওতাভুক্ত ওয়ালমার্ট ও টার্গেটের কাছে আহবান জানান তিনি।