সংখ্যালঘুদের ওপর আ. লীগই করছে: শওকত

sowkat_mahamud
প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উপদেষ্টা শওকত মাহমুদ

sowkat_mahamudভোটারবিহীন একদলীয় প্রহসনমূলক নির্বাচন থেকে দেশের মানুষ ও বহির্বিশ্বের দৃষ্টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা জন্য দেশের বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা সংখ্যালঘু সম্পদায়ের ওপর আক্রমণ করেছে।

শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে “বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ” আয়োজিত এক মানববন্ধনে এমন অভিযোগ   করেছেন  প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উপদেষ্টা  শওকত মাহমুদ।

শওকত মাহমুদ বলেন, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চালিয়ে বাংলাদেশের হাজার বছরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির যে ঐতিহ্য রয়েছে তা নষ্ট করার অপচেষ্টা করা হচ্ছে। এ হামলার কারণ হলো সম্প্রতি ভোটারবিহীন একদলীয় যে প্রহসনমূলক নির্বাচন হয়েছে তা থেকে দেশের জনগণ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিকে ভিন্ন খাতে সরিয়ে দেওয়া। যা পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যমূলক ।

এ হামলার সাথে সরকার সমর্থকরা জড়িত এমন দাবি করে তিনি বলেন,  যৌথ বাহিনীর নির্বিচার গুলিবর্ষণে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী বিরোধীদলীয় নেতা-কর্মীরা নিহত হচ্ছেন । কিন্তু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণ করেছে এমন কাউকে গুলিতো দূরের কথা গ্রেপ্তারও করেনি যৌথ বাহিনী। এ থেকেই বুঝা যায় এ হামলার সাথে সরকার সমর্থকরা জড়িত।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দেশের সমগ্র জনগণসহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সামগ্রিক নিরাপত্তা প্রদানে ও এধরনের হামলা বন্ধের কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়ে দেশে এক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরীর চেষ্টা করছে। এই ব্যর্থতার দায়-দায়িত্ব বর্তমান সরকারকেই বহন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, অতিসত্তর সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও যেকোনো ধরনের হামলা বন্ধের জন্য কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের মাধ্যমে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে দ্রুত বিচারের মাধ্যমে আইনগত পদক্ষেপ নিতে হবে।

সরকারকে।

দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করা সকল নাগরিকের দায়িত্ব। তাই দল, মত নির্বিশেষে সকল নাগরিককে এ ধরনের জঘন্য বর্বর হামলা বন্ধের প্রতিবাদ, নির্যাতিত সংখ্যালঘুদের পাশে দাঁড়ানো ও সহযোগিতা করার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি।

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) সভাপতি রুহুল আমীন গাজী বলেন,  সংবিধানের দোহাই দিয়ে নির্বাচন করলেও সরকার প্রতি পদক্ষেপে সংবিধান লংঘন করছে। জনগণের দৃষ্টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য সরকারের পরিকল্পনায় হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণ হয়েছে। দেশের জনগণের দায়িত্ব এ চক্রান্ত প্রতিহত করার।

তিনি অবিলম্বে বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের আহ্বায়ক আমার দেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, বার কাউন্সিলের সহ-সভাপতি বিশিষ্ট আইনজীবী অ্যাড. খন্দকার মাহবুব হোসেন ও বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের সদস্য সচিব অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন-এর প্রতি পুলিশী হয়রানী বন্ধ করার দাবি জানান

এর সাথে সাথে তিনি আমার দেশ, দিগন্ত টিভি, ইসলামিক টিভিসহ সকল বন্ধ গণমাধ্যম খুলে দেয়া এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করারও দাবি জানান।

এ সময় বক্তারা ৫ জানুয়ারি ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাঠ পর্যায়ে আইন-শৃংখলা বাহিনীর সার্বক্ষণিক  উপস্থিতি সত্ত্বেও নির্বাচন পরবর্তী সময়ে সারা বাংলাদেশে পরিকল্পিতভাবে সংখ্যালঘুদের ওপর বর্বর হামলা, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের মতো ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান বক্তারা।

উক্ত কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক ও বিএফইউজের সভাপতি জনাব রুহুল আমিন গাজী।

এ সময় আরও যারা উপস্থিত ছিলেন, ড্যাবের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চুর, ডিইউজের সভাপতি আব্দুল হাই সিকদার, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি চাষী নজরুল ইসলাম, কৃষিবিদ অ্যাসোশিয়েশনের সদস্য সচিব- কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন, আইবিএর  সাবেক সভাপতি প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম রিজু, বিএসএমএমইউর সাবেক প্রো-ভিসি অধ্যাপক ডা. আব্দুল মান্নান মিয়া, ড্যাবের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ডা. রফিক আল কবির লাবু, ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুস, ডা. মো. আব্দুস সালাম, মাওলানা ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. খলিলুর রহমান, শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের অতিরিক্ত মহাসচিব জনাব জাকির হোসেন প্রমুখ।

এসএস/ এআর