সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের প্রতিবাদে খুলনায় মানববন্ধন

Khulna

Khulnaদেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়ি ঘরে অগ্নিসংযোগ, হত্যা, নির্যাতন, ভাংচুর ও ধর্ষণের প্রতিবাদে খুলনা প্রেসক্লাব ও খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়নের (কেইউজে) উদ্যোগে খুলনা প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

শনিবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত খুলনা প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। খুলনা প্রেসক্লাব ও খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়ন (কেইউজে) যৌথভাবে এ কর্মসূচির আয়োজন করে।

খুলনা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. ফারুক আহমেদের সভাপতিত্বে এবং খুলনা প্রেসক্লাবের সাধারণ-সম্পাদক এস এম জাহিদ হোসেন ও খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ-সম্পাদক মো. মুন্সি মাহবুব আলম সোহাগের পরিচালনায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম কাজল।

এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, খুলনা জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও জেলা পরিষদ প্রশাসক শেখ হারুনুর রশীদ, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ফায়েক উজজামান, খুলনা বিভাগীয় ফেডারেশন প্রেসক্লাবের চেয়ারপার্সন আলহাজ্ব লিয়াকত আলী, মহানগর জাসদের সভাপতি রফিকুল হক খোকন, রূপান্তরের নির্বাহী পরিচালক স্বপন গুহ, নাগরিক ফোরামের চেয়ারপার্সন শেখ আবদুল কাইয়ুম, খুলনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মকবুল হোসেন মিন্টু, বিশিষ্ট আইনজীবী অ্যাডভোকেট মিনা মিজানুর রহমান, বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফু উজ জামান, মহানগর হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদ সভাপতি অমিয় সরকার গোরা, মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শ্যামল হালদার, সাধারণ-সম্পাদক প্রশান্ত কুন্ডু, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ-সম্পাদক অধ্যাপক কৃষ্ণ পদ দাস, হিন্দু কল্যান ট্রাষ্টি বোর্ডের সভাপতি অ্যাডভোকেট নিমাই চন্দ্র রায় প্রমুখ।

মানববন্ধনে বক্তরা বলেন, দেশব্যাপী জামায়াত-শিবিরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ক্যাডাররা ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর যে পৈশাচিক নির্যাতন চালিয়েছে তা একাত্তরের নির্যাতনকেও হার মানিয়েছে। তারা একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশে বসবাস করে একই দেশের নাগরিকদের উপর অযথা হামলা চালিয়ে বাড়ি ঘরে অগ্নিসংযোগ, ভাংচুর, হত্যা ও ধর্ষণ চালিয়েছে। এটা কোনো সভ্য দেশে হতে পারে না।

বক্তরা আরও বলেন, নাগরিক হিসেবে এখানে কোনো সংখ্যা লঘু আর সংখ্যা গুরু বলে কোনো শব্দ থাকা উচিত নয়। আমরা প্রত্যেকে সরকারকে ট্যাক্স প্রদান করি। আমাদের সকলের সমান অধিকার রয়েছে দেশের সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করতে। কিন্তু নির্বাচন এলেই হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীষ্টান সম্প্রদায়ের উপর হামলা চালানো হয়।

বক্তরা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, অবিলম্বে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। অন্যথায় বাঙালিরা ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করে দাবি আদায় করা হবে।