মেঘনাঘাটে কন্টেইনার পোর্ট নির্মাণ করছে আনন্দ গ্রুপ

Container_Port
চট্টগ্রাম বন্দর (ফাইল ছবি)

Container_Portব্যবসা বহুমুখীকরণের দিকে যাচ্ছে জাহাজ নির্মাণ শিল্পে নেতৃস্থানীয় প্রতিষ্ঠান আনন্দ গ্রুপ। এতদিন ম্যানুফেক্শ্চারিং বা উৎপাদনমুখী শিল্পে এদের মূল মনোযোগ ছিল প্রতিষ্ঠানটির। এখন সেবা খাতের দিকেও নজর দিচ্ছে তারা। পাঁচ তারকা হোটেল ও কন্টেইনার পোর্ট নির্মাণসহ বেশ কিছু পরিকল্পনা নিয়ে সামনে এগোচ্ছে তারা। এর মধ্যে মেঘনাঘাটে কন্টেইনার স্থাপন প্রকল্প সরকারের অনুমোদন পেয়েছে।

জানা গেছে, গত মাসের শেষভাগে আনন্দ গ্রুপকে কন্টেইনার পোর্ট নির্মাণের অনুমতি দেয় সরকার। গ্রুপটি শিগগীরই পোর্টের নির্মাণ কাজ শুরু করবে। নারায়নগঞ্জে মেঘনা নদীর তীরে ৮৫ একর জায়গা জুড়ে এটি নির্মিত হবে। আগামি ২০১৬ সালে এ পোর্ট বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করতে পারবে।

আনন্দ গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক তারিকুল ইসলাম অর্থসূচককে বলেন, অত্যাধুনিক এ পোর্ট নির্মাণে ১৭ থেকে ২০ কোটি ডলার ব্যয় হবে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান পোর্টটি পরিচালনা করবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ ধরনের পোর্ট পরিচালনা করার অভিজ্ঞতা রয়েছে এ প্রতিষ্ঠানের।

তিনি বলেন, প্রথম বছর তাদের পোর্ট তিন লাখ ইউনিট কন্টেইনার হ্যান্ডল করবে। এরপর থেকে প্রতি বছর এর হ্যান্ডলিং ক্ষমতা বাড়বে। ২০২১ সাল নাগাদ পোর্টের কন্টেইনার হ্যান্ডলিং ক্ষমতা বেড়ে হবে ছয় লাখ ইউনিট।

তিনি বলেন, অবস্থানগত দিক থেকে তাদের পোর্ট হবে সবচেয়ে সুবিধাজনক স্থানে। মূল নদী থেকে একটু ভেতরে এ পোর্টের অবস্থান। যে ক্যানেল দিয়ে জাহাজ আসবে সেটি অনেকটা পোতাশ্রয়ের (হারবার) মত কাজ করবে। পোর্ট থেকে সড়ক পথে ঢাকার পাশাপাশি বাইপাস সড়কের মাধ্যমে কন্টেইনারবাহী ট্রাক চলে যাবে গাজীপুর, আশুলিয়া, ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইলের বিভিন্ন এলাকায়। এ এলাকাগুলোতেই দেশের বেশিরভাগ তৈরি পোশাক কারখানা। আর তারাই সবচেয়ে বেশি কাঁচামাল ও মেশিনারীজ আমদানি করে থাকে।

এখন পর্যন্ত আনন্দসহ সাতটি শিল্প গ্রুপ কন্টেইনার পোর্ট স্থাপনে সরকারের অনুমোদন পেয়েছে। এগুলো হচ্ছে-রুপায়ন গ্রুপ, কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট, একে খান গ্রুপ, ক্যামকোর ও সামিট গ্রুপ।

বর্তমানে ঢাকা কাছাকাছি ও নদীর পাশে মাত্র একটি কন্টেইনার পোর্ট আছে। এটি নারায়নগঞ্জের পানগাঁওয়ে অবস্থিত। অভ্যন্তরীন নৌ পরিবহন সংস্থা (বিআইডব্লউটিসি) ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে এ কন্টেইনার পোর্টটি পরিচালনা করছে। এ বন্দরের বার্ষিক কন্টেইনার হ্যান্ডলিং ক্ষমতা এক লাখ ৬০ হাজার ইউনিট।

জানা গেছে, বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রায় ১৪ লাখ কন্টেইনার হ্যান্ডল করে। প্রতিবছর ১৫ থেকে ২০ শতাংশ হারে এটি বাড়ছে। আমদানি পণ্যবাহী কন্টেইনারের ৮০ ভাগই ঢাকা বা তার আশপাশের এলাকায় আসে। এর একটি অংশ রেলপথে আসলেও বড় অংশই আসে সড়ক পথে। কিন্তু সড়ক পথে কন্টেইনার আনতে একদিকে সময় লাগে অনেক বেশি, অন্যদিকে এটি যথেষ্ট ব্যয় বহুল।

এ বিষয়ে আনন্দ গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক তারিকুল ইসলাম বলেন, আনন্দ কন্টেইনার পোর্ট শিল্পায়ন ও অর্থনীতিতে নানাভাবে ভূমিকা রাখবে। বর্তমানে বেশিরভাগ কন্টেইনার সড়ক পথে আসে বলে ঢাকা-চট্টগ্রাম সড়কে যথেষ্ট চাপ পড়ে। এ সড়কে যানজট লেগেই থাকে। নৌপথে কন্টেইনার পরিবহণ বাড়লে তাতে সড়কের উপর চাপ কমবে। তারা হাইস্পিড জাহাজের মাধ্যেম কন্টেইনার পরিবহন করবেন বলে সময়ও বেশি লাগবে না। নৌপথ সবসময় সড়ক পথের চেয়ে পরিবেশবান্ধব। এছাড়া নৌপথে কন্টেইনার পরিবহণে উদ্যোক্তাদের অর্থ সাশ্রয় হবে। সড়ক পথে চট্টগ্রাম থেকে একটি কন্টেইনার ঢাকা আনতে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা ব্যয় হয়। কিন্তু তারা এটি ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকায় বহন করবেন।