ভালো ইঙ্গিতে সপ্তাহ পার, নতুন বছরে নতুন আশা বিনিয়োগকারীদের

investor
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সামনে বিনিয়োগকারী

investorসমাপ্ত সপ্তাহে দেশের পুঁজিবাজারে বেড়েছে সূচক ও লেনদেনের পরিমাণ। আলোচ্য সপ্তাহে প্রধান বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচক বেড়েছে দুই দশমিক ১৭ শতাংশ বা ৯৩ পয়েন্ট। আর চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বেড়েছে দুই দশমিক ১৮ শতাংশ বা ১৮৫ পয়েন্ট।

আলোচ্য সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ ছিল এক হাজার ৮২৯ কোটি চার লাখ। এর আগের সপ্তাহের পরিমাণ ছিল এক হাজার ৪২৮ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। আলোচ্য সপ্তাহে ডিএসইতে গড় লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৫৭ কোটি ২৬ লাখ।

অন্যদিকে, সিএসইতেইতে লেনদেন হয়েছে ১৮৪ কোটি পাঁচ লাখ টাকা। যা আগের সপ্তাহের চেয়ে ২৩ কোটি ১৭ লাখ টাকা বেশি। আগের সপ্তাহের ছিল ১৬০ কোটি ৮৮ টাকা।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন নির্বাচনপূর্ব এবং নির্বাচন কেন্দ্রীক রাজনৈতিক অস্থিরতা  বেশ কমেছে। আবার সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে উঠছে।আর এর প্রভাব পরতে শুরু করেছে বাজারেও। যেমন হরতাল অবরোধের মতো কর্মসূচিগুলোতে ঢিলেঢালা ভাব আর তার বিপরীতে সরকারের কঠোর অবস্থানে পণ্য সরবরাহে কিছুটা গতি এনেছে।এর ফলে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো তাদের পণ্যও পরিবহনও করতে পারছে। আর এ কারণেই বেশ কিছু খাতের শেয়ারের দাম বেড়েছে।

দেখা গেছে গত বৃহস্পতিবার ডিএসইতে টপটেন গেইনার তালিকায় উঠে আসে বস্ত্র খাতের তিনটি প্রতিষ্ঠান। বস্ত্রখাতের  প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল লিমিটেড ছিল শীর্ষে। কোম্পানিটির শেয়ারের দর বেড়েছে ৩ টাকা ৭০ পয়সা বা ৭ দশমিক ১৪ শতাংশ। এ্যাপেক্স স্পিনিং অ্যান্ড নিটিং মিলস লিমিটেডের শেয়ার দর ১ টাকা ৮০ পয়সা বা ২ দশমিক ৪৯ শতাংশ বেড়ে তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।আর ডেল্টা স্পিনিং লিমিটেডের  শেয়ার দর ২ টাকা বা ৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ বেড়ে অষ্টম স্থানে ছিল।

এছাড়া কোম্পানিগুলো পণ্য সরবাহ করতে পারার কারণে জ্বালানি খাতের শেয়ারের দামও বেড়েছে।

বাজারের এই অবস্থা সম্পর্কে পিএলএফএস ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংক অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) কোষাধ্যক্ষ মুস্তফা কামাল অর্থসূচককে বলেন, ‘নির্বাচনের পর থেকেই বিনিয়োগকারীরা পুঁজিবাজারের প্রতি আশান্বিত হচ্ছেন। কারণ বিরোধী দল আন্দোলন করে নির্বাচন ঠেকাতে পারেনি। এখন আর কোনো কর্মসূচি দিয়ে দেশকে আটকে রাখতে পারবে না। দিলেও সরকার তা কঠোর হস্তে দমন করবে। প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যে এ কথা স্পষ্ট হয়ে গেছে।’

তার মতে, বিনিয়োগকারীরা প্রধানমন্ত্রীর কথা এবং গত কয়েক দিনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি দেখে আবার আশাবাদী হয়ে উঠছেন, বাজারমুখী হচ্ছেন।

এদিকে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অনেকেই ভাবছেন দেশ আপাতত আর বেশি অস্থিরতায় পরবে না। বাজার মোটামুটি ভালোই চলেবে।আর এ কারণেই তারা বিনিয়োগে আগ্রহী হচ্ছেন। বিনিয়োগ বাড়াচ্ছেন।

ইন্টারন্যাশনাল লিজিং সিকিউরিটিজের(আইএলএস) বিনিয়োগকারী আবু আহম্মদ বলেন, বিনিয়োগের জন্য অনুকুল পরিবেশ মনে করে গত সপ্তাহে আমি ৭ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছি।

তার বক্তব্য হলো, ‘মনে হচ্ছে দেশের রাজনৈতিক অবস্থা কিছুটা সুস্থিরতার দিকে যাচ্ছে। আর দেশের অবস্থা ভালো থাকলে বাজারও ভালো চলবে।’

ইন্টারন্যাশনাল লিজিং সিকিউরিটিজের আরেক বিনিয়োগকারী নুর হোহাম্মাদ এই ভরসায় গেল সপ্তাহে নতুন করে ৪০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছেন।

কোম্পানি কর্তৃপক্ষ থেকে বিনিয়োগকারী সকলের আশা বাজার আবার ঘুরে দাঁড়াবে। আইএলএস এর খাতুনগঞ্জ শাখার ইনচার্জ শাহিদুল ইসলাম রাশেদ বলেন, ‘ দেশের অবস্থা ইতিবাচক দিকেই যাচ্ছে বলে মনে হয়।এই অবস্থায় বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরছে।’

নতুন বছরে বাজার নতুন ভাবে ঘুরে দাঁড়াবে বলেও আশাবাদ প্রকাশ করেন তিনি।