বিএনপির ব্যর্থতা: তৃণমূল ও কেন্দ্রের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

ছবি: ফাইল ছবি

ছবি: ফাইল ছবিশেষ পর্যন্ত শেষ হলো দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। পাঁচ জানুয়ারির নির্বাচনটি এবার বেশ কিছু কারণেই আলোচিত ছিল। নির্দলীয় সরকারের অধিনে নির্বাচন হওয়া নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মুখোমুখি অবস্থান, কঠোর নিরাপত্তায় নির্বাচনের আয়োজন,বিএনপির নির্বাচন বর্জনসহ বেশ কয়েকটি কারণে অনেকটা ‘এক পাক্ষিক’ হলেও দেশে বিদেশে আলোচিত হয়েছে এটি নিয়ে।

বিএনপি নানা কর্মসূচি দিয়ে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি আদায়ের চেষ্টা করেছে অনেক।নির্বাচন প্রতিহতের ঘোষণাও দেয় দলটি। তবে শেষ পর্যন্ত বেশ কিছু সহিংসতা আর প্রানহানীর ঘটনায় নির্বাচন শেষ হয়। আওয়ামী লীগ একক সংখ্যাগরিষ্টতা পায়।বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে সরকার গঠনের আহ্বানও জানিয়েছেন। তাই যেকোনো সময় জাতীয় পার্টিকে প্রধান বিরোধী দল হিসেব নিয়ে গঠিত হচ্ছে দশম সংসদ।

এই অবস্থায় বিএনপি কার্যত ব্যর্থ হয়েছে বলেও ধরে নেওয়া যায়। আর দলটির এই ব্যর্থতার দায় একে অপরের ওপর চাপাতে চাইছে কেন্দ্রীয় ও অঙ্গসংগঠনগুলো।

কেন্দ্রর অভিযোগ অংগসংগঠনগুলোর সমন্বয়হীনতা ও ব্যাপক মতানৈক্যতার কারণে রাজপথের অন্দোলনে ব্যর্থ হয়েছে মূল দল।  বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বক্তব্য আন্দোলন ব্যর্থ হওয়ার পেছনে  ছাত্রদল, যুবদল ও অন্যান্য অংগসংগঠনই দায়ী।

তাদের মতে, স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশের ইতিহাসে যে কয়টি আন্দোলন সফলতার মুখ দেখেছে সব কটিতেই মূল দলের পাশাপাশি ছাত্র ও অংগসংগঠনগুলোর ভূমিকা ছিল অনস্বিকার্য। রাজপথের আন্দোলনে অংগসংগঠনগুলো কার্যকরি ভূমিকা না রাখলে সে আন্দোলন কোনোদিনই সফলতার মুখ দেখেনা।

কিন্তু ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এ দায় নিতে চাননি। তারা বললেন ভিন্ন কথা। তাদের দাবি মূল দল দেশের বেশ কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সহ শীর্ষ বিদ্যাপীঠগুলোতে পূণাঙ্গ কমিটি ঘোষণাই করেনি। কেন্দ্রীয় কমিটিও তাদের আশানুরুপ রাজনীতি চর্চা করতে ব্যর্থ। এছাড়া সংগঠনের শীর্ষ নেতারা ফোকাসে আসার জন্য স্বেচ্চায় আইনশৃংখলা বাহিনীর কাছে ধরা দিয়েছে। রাজপথে কোনো আন্দোলন করতে গিয়ে তারা আটক হয়নি। আন্দোলনে না নেমেও কি কারণে তারা আটক হয়েছিল তা এখনও অস্পষ্ট সংগঠনটির নেতা কর্মীদের কাছে। এখন মূল দলের শীর্ষ নেতাদের সমন্বয়হীনতা ও মতানৈক্যের প্রভাব পড়েছে তাদের ওপর।

সমন্বয়হীনতা ও মতানৈক্যের  দায় খানিকটা হলেও  স্বীকার করে নিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ওসমান ফারুক। তিনি অথসূচককে জানান, দলের নেতাকর্মীদের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন বিষয়ে অনেক সময় মতানৈক্যতা থাকতে পারে।

গত ১ ডিসেম্বর রোববার সন্ধ্যায়  ছাত্রদলের দফতর সম্পাদক নাজমুল হাসান স্বাক্ষরিত সভাপতি আব্দুল কাদের ভূইয়া জুয়েল ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হক নাসির প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে  গণমাধ্যমে একটি বিবৃতি পাঠান। বিবৃতিটি ছিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিরোধীদলীয় নেতা বেগম জিয়াকে রাজপথে নেমে আন্দোলন করার আহ্বানকে কেন্দ্র করে। ছাত্রদল জানায়, শেখ হাসিনার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে তারাও প্রস্তুত রয়েছে।

এসময় তারা প্রধানমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ করে বলেন,  নিরাপত্তা ছেড়ে রাজপথে নামুন। প্রধানমন্ত্রী যখন রাস্তায় চলাচল করেন তখন এসএসএফ, পুলিশ ও র‌্যাবের নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে থাকেন, তাই তিনি জনরোষ টের পাচ্ছেন না।

এ বিবৃতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত  হওয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই গাড়িভাংচুর ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার দায়ে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয়  সভাপতি আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েলকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে একই ধরণের মামলায় সাবেক ছাত্রদল নেতা সালাউদ্দিন টুকু গ্রেপ্তার হন। গত ২১  ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বজলুল করিম চৌধুরি আবেদকে গ্রেপ্তার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

সবমিলিয়ে গ্রেপ্তার আতংক ও নেতৃত্বশূণ্যতা থাকায় অংগসংগঠনটি মূল দলের ডাকে রাজপথে নামার সাহস করতে পারেনি।

ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাইফুল ইসলাম ফিরোজ এ কথা স্বিকার করে অর্থসূচককে জানান, কেন্দ্র থেকে আন্দোলনের ডাক দিলেও সঠিক নির্দেশনা না থাকায় রাজপথে নামেনি তারা।

চরম সংকটাপূর্ণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গাঁ ঢাকা দিয়েছেন যুবদলের সভাপতি এ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াগুলোর টকশোতে বিএনপি পক্ষের  হিরো ছিলেন তিনি। আন্দোলনের ডাক দিয়ে তার অজ্ঞাত স্থানে পালিয়ে থাকার বিয়য়ে দারুন হতাশ যুবদলের নেতাকর্মীরা। কেন্দ্রীয় যুবদলের নেতা আনসার উদ্দিন জানান, দলের কমর্সূচি সফল করতে তারা প্রস্তুত ছিলেন। কিন্তু শীর্ষ নেতারা আন্দোলনের ডাক দিয়ে পালিয়ে যাওয়ায় তারা হতাশ হয়ে আর রাজপথে নামেননি।