আতংকে দিনাজপুরে সংখ্যালঘুরা

Dinajpur

Dinajpurদিনাজপুরে নির্বাচনের পর সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর সহিংসতার ঘটনা থামছেই না। প্রতিনিয়তই তাদের উপর হামলার নতুন নতুন খবর পাওয়া যাচ্ছে। সদর, বীরগঞ্জ ও পার্বতীপুর উপজেলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলা চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

এর ফলে আতংকে দিনাতিপাত করছে সংখ্যালঘুরা।

হামলার আশংকায় হিন্দু অধ্যুষিত গ্রাম, পাড়া ও মহল্লাগুলোতে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছে হিন্দু সম্প্রদায়ের যুবকেরা।

সহিংস হামলার ঘটনায় সদর উপজেলায় মামলা হলেও বীরগঞ্জ ও পার্বতীপুর উপজেলায় কোনো হিন্দু এই হামলাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করার সাহস পায় নি। বরং নতুন করে হামলা হওয়ার আশংকায় দিন কাটছে তাদের।

গত বুধবার রাতে হামলা চালানো হয়েছে বীরগঞ্জ উপজেলার ফেনা পুকুর গ্রামে। সেখানে মহাদেব চন্দ্র রায়ের বাড়ি আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই রাতে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হয় সদর উপজেলার সুন্দরপুর গ্রামের মধু চন্দ্র রায়ের বাড়ি।

গত মঙ্গলাবার রাতে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হয় পার্বতীপুর উপজেলার হাবড়া ইউনিয়নের রামরায়পুর চৌধুরীপাড়া গ্রামের বিন্দু চৌধুরী বাড়ি। এর আগে ভোটের দিন বিকেলে সদর উপজেলার কর্ণাই ও তার আশপাশের ৪/৫টি গ্রামে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়ি-ঘর, দোকান-পাট লুটপাট ও আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। ভোটের দিনই আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হয় বীরগঞ্জ উপজেলার ৯নং লাট ডাবরা গ্রামের জতিশ চন্দ্র রায়, ফুল বাবু চন্দ্র রায়, সন্তু কুমার রায়, প্রমদা চরণ রায় ও আওয়ামী লীগ নেতা মামুনুর রশিদের বাড়ি। এছাড়াও  জেলার বিভিন্ন গ্রামে বিচ্ছিন্নভাবে ঘটছে সহিংসতার ঘটনা। ফলে গোটা জেলার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে চরম আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

আত্মরক্ষার জন্য রাত জেগে পাহারা দেওয়া ২নং সুন্দরবন এলাকার রামডুবি গ্রামের দয়া রাম জানায়, আমরা আতঙ্কের মধ্যে আছি। কারণ একেক সময় একেক গ্রামে হামলা ও লুটপাট হচ্ছে। তাই রাত জেগে পাহারা দিচ্ছি আমাদের জীবণ ও সম্পদ রক্ষার জন্য।

বীরগঞ্জ উপজেলার ঝাড়বাড়ী এলাকার যুবক যতিন চন্দ্র রায় জানায়, আমরা জীবণ নাশের আশংকায় রাত জেগে এলাকা পাহারা দিচ্ছি। আমরা জানিনা আমাদের কি অপরাধ। দেশে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে জাতীয় নির্বাচন বা অন্য যে কোন নির্বাচন হলেই জ্বালাও পড়াও করা হয় আমাদের বাড়ী ঘর। দেশে কি শুধু আমরাই ভোটার?

এ ব্যাপারে বীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরমান আলী বলেন, আমার এলাকায় কো্নো সমস্যা নেই। নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

দিনাজপুর কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, যেসব এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে শংকা রয়েছে সেসব এলাকায় পুলিশি তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। এছাড়াও এসব এলাকায় র‌্যাব ও সেনাবাহিনী টহল দিচ্ছে।

এদিকে, হিন্দুসম্প্রদায়ের লোকেরা তীর, ধনুক, বল্লম, বর্ষাসহ বিভিন্ন দেশী অস্ত্র নিয়ে গ্রাম পাহারা দিচ্ছে।

কেএফ