খালেদার স্থান দখল করলেন রওশন

khalada

khaladaসাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দখল করলেন এককালের রাষ্ট্রপ্র্রতি হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের স্ত্রী ‘ফাস্টলেডি’ নামে খ্যাত  রওশন এরশাদ।

১৯৯১ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে খালেদা জিয়া রাষ্ট্রীয়ভাবে গাড়ি, বাড়ি, নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন সুবিধা পেয়ে আসছিলেন। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্ত্রী হওয়ার সুবাদে তার মৃত্যুর পর ১৯৮১ সালে দলের দায়িত্বভার ন্যাস্ত হয় তার ওপর। সে সুবাদে ১৯৯১, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৬ সালের জুন, ২০০১, সর্বশেষ ২০০৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেত্রী হিসেবে সুবিধা গ্রহণ করেছেন।

১৯৮১ সালের ৩০ মে এক সামরিক অভ্যুত্থানে জিয়াউর রহমান নিহত হন। এরপর ১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে যোগ দেন খালেদা। ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সেনাপ্রধান লেফটেনেন্ট জেনারেল এরশাদ বিচারপতি আব্দুস সাত্তারকে ক্ষমতাচ্যুত করে সৈরশাসন প্রতিষ্ঠা করেন। খালেদাসহ সব রাজনৈতিক দল এর বিরোধিতা করেছিল। ১৯৮৩ সালের মার্চ মাসে তিনি বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হন। বিচারপতি সাত্তার অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৪ সালের ১০ মে পার্টির চেয়ারপার্সন নির্বাচনে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হন। তার নেতৃত্বেই মূলত বিএনপির পূর্ণ বিকাশ হয়।

পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন: ১৯৯১ সালের ১৯ মার্চ খালেদা পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারে প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত হন। ২ এপ্রিল তিনি সংসদে সরকারের পক্ষে এই বিল উত্থাপন করেন। একই দিন তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ কে স্বপদে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করে একাদশ সংশোধনী বিল আনেন। ৬ আগস্ট ১৯৯১ সালের সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে দুটি বিল পাশ হয়। এই নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেছিল বিএনপি ও আওয়ামী লীগ। নির্বাচনে বিএনপি ১৪০টি আসন পেয়ে জয়লাভ করেছিল। তখন মোট ভোট গৃহীত হয়েছিল ৫৫.৪%।

ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়। যা পরবর্তীতে ৯৬ এর একদলীয় নির্বাচন হিসেবে গণ্য হয়। সকল বিরোধীদলের আপত্তির পর ও খালেদা জিয়া ও তার দল এই একক নির্বাচন করেন। আওয়ামী লীগসহ সব বিরোধী দল এই নির্বাচন বয়কট করে। এই সংসদ মাত্র ১৫ দিন স্থায়ী হয়। খালেদা জিয়া এই সংসদের ও প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। প্রবল গণ আন্দোলন ও বর্হিবিশ্বের চাপে ষষ্ঠ জাতীয় সংসদে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিল পাস হয় এবং খালেদা জিয়া পদত্যাগ করেন।

এই নির্বাচনে বিএনপি ৩০০টি আসনেই জয় পায়। তখন ভোট গৃহীত হয়েছিল মাত্র ২১%। পরবর্তীতে নিরপেক্ষ নির্বাচন জুন মাসে অনুষ্ঠিত হয়।

সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন: ১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মোট ১১৬ আসনে জয় লাভ করে, যা সরকার গঠনে যথেষ্ঠ ছিল না। আওয়ামী লীগ মোট ১৪৭ আসন লাভ করে, তারা জাতীয় পার্টির সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করে। বিএনপি সপ্তম সংসদে বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। বেগম খালেদা জিয়া আওয়ামী লীগের পাঁচ বছর শাসনকালে সংসদে বিরোধী দলনেত্রী ছিলেন ।

অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন: অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপি জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ঐক্যজোট ও জাতীয় পার্টির সাথে চারদলীয় ঐক্যজোট গঠন করে। ২০০১ সালের ১ অক্টোবর সংসদ নির্বাচনে চারদলীয় ঐক্যজোট দুই-তৃতীয়াংশ আসন পেয়ে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে। খালেদা জিয়া ওই সংসদেও প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর এই সংসদের মেয়াদ শেষ হয়।

নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন: ২০০৮ সালের ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে চারদলীয় ঐক্যজোট বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়। মহাজোটের প্রায় ২৬০ টি আসনের বিপরীতে চার দলীয় ঐক্যজোট মাত্র ৩২টি আসন লাভ করে। তখনও খালেদা বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে ছিলেন।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন: দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন, ২০১৪ বাংলাদেশে ৫ জানুয়ারি ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনটি নবম জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল বিএনপিসহ অধিকাংশ দলই বর্জন করে এবং শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ ও সতন্ত্রসহ ১৭টি দল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। এছাড়াও নির্বাচনে ৩০০টি আসনের মধ্যে ১৫৩টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রার্থীরা বিজয়ী হওয়ায় নির্বাচনটি নিয়ে অনেক বিতর্কের সৃষ্টি হয়।

রওশন জাতীয় পার্টির সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য। বর্তমানে তিনি দলের পক্ষ থেকে নির্বাচিত সংসদীয় নেতা ও বিরোধী দলীয় নেত্রী হিসাবে মূল্যায়িত হবেন। জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচিত ৩৩ সদস্যের মধ্যে ৩২ সাংসদ শপথ নিলেও দলের চেয়ারম্যান হুসেন মোহাম্মদ এরশাদ এখন পর্যন্ত সংসদ সদস্য শপথ নেননি।

তিনি ১৯৯১ সাল থেকে শুরু করে ২০১৪ সাল পর্যন্ত মোট ২৩ বছর এই সুবিধা গ্রহণ করছিলেন। অবশেষে তার স্থান দখলে নিলেন রওশন এরশাদ।

এআর/